প্রকাশ: ২৬ মে ২০২১, ১৬:৩৮
ঘূর্ণিঝড়ের আতঙ্কে মঙ্গলবার যখন নির্ঘুম রাত কাটছিলো উপকূলবাসীর;ঠিক তখন-ই বঙ্গোপসাগর থেকে ধেয়ে আসা জোয়ারের জল দুর্বল বেরিবাঁধ ভেঙ্গে দিয়েছে। উপজেলার গুরুত্বপূর্ণ বানিজ্যকেন্দ্র কাকচিড়া ও চরদুয়ানী বাজারদুটি মঙ্গলবার রাতের জলোচ্ছ্বাসে তলিয়ে যায়। সমূদ্রের ফুলেফেঁপে ওঠা জলোচ্ছ্বাসে বুধবার দুপুরে সম্পূর্ণ তলিয়ে যায়।
বুধবার দুপুরে বেরিবাঁধ ভেঙ্গে জলোচ্ছ্বাসে তলিয়ে গেছে বরগুনার পাথরঘাটা সহ আশেপাশের জনপদ। ভেসে গেছে মাছেরঘের, ডুবেগেছে আবাদি জমির উঠতিফসল, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান আর ঘরগৃহস্থালীসহ সব।
জানা গেছে, লঞ্চঘাট সংলগ্ন বেরিবাঁধ রাতেই ভেসেগেছে। বুধবার দিনের আলোতে ব্যবসায়িরা তাদের কিছু মালামাল রক্ষা করতে পেরেছে। চরদুয়ানী বাজারের দোকানিরাও তাদের মালামাল দিনের আলোতে অন্যত্র সরিয়ে নিতে সক্ষম হওয়ায় ক্ষয়ক্ষতি কিছুটা কম হয়েছে বলে জানান ব্যবসায়ি কবির হাওলাদার। জলোচ্ছ্বাসের মারাত্মক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে ছোটবড় অসঙ্খ মাছের ঘেরের।
বেরিবাঁধের বাইরের সকল ঘের ভেসেগেছে বলে দাবী করছেন উপজেলার টেংরা এলাকার নাসিরউদ্দিন। চরদুয়ানী এলাকার তরুণ সমাজকর্মী শিমুল কীর্ত্তনিয়া ও বিপ্র সিকদার জানিয়েছে, তাদের গ্রামের ইন্দ্রজিদ হালদার বাড়ির একমাত্র খবারজলের পুকুরটি জোয়ারের জলে তলিয়ে গেছে। সেখানে এখন সুপেয়জলের চরম সংকট দেখা দিয়েছে।
বাইনচটকী ফেরীর গ্যাঙওয়ে ও সঙযোগ সড়ক ডুবে জেলা সদরের সঙ্গে সড়কযোগাযোগ বন্ধহয়েগেছে। পাথরঘাটা পৌরশহর সঙলগ্ন নবসৃষ্ট নিলিমপয়েন্ট পর্যটনকেন্দ্রের বেরিবাধ এবং সেখানকার সৌন্দর্যে নির্মিত রঙীন ব্লকগুলোর ক্ষতি হয়েছে।
পাথরঘাটার দক্ষিণের জনপদ নিজলাঠিমারা,জ্বিনতলা,পদ্মারভাঙ্গন এলাকার বেরিবাধ দিয়ে জোয়ারের জল ঢুকে গ্রামের পর গ্রাম তলিয়ে গেছে।
ঝড়শুরু হওয়ার আগে মঙ্গলবার থেকে উপকূলীয় এলাকায় বিদ্যুৎ সংযোগ বন্ধ রয়েছে। এছাড়াও মোবাইল নেটওয়ার্ক দুর্বল থাকায় স্থানীয় গণমাধ্যম কর্মীরা কোনো দপ্তরের কোনো কর্তাদের কিংবা জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গে কথা বলতে পারছেন না।
এদিকে সিপিবি'র সদস্যরা এইদূর্যোগে সমানতালে কাজ করে যাচ্ছেন বলে জানাগেল তাদের একজন টিমলিডারের সঙ্গে কথাবলে। আশ্রয়কেন্দ্রেগুলোতে এখনও উল্লেখযোগ্য সংখ্যক মানুষের দেখামেলেনি। তারা অপেক্ষায় আছে ঘূর্ণিঝড় ইয়াস পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতের উপর দিয়ে চলে যায়কিনি সেটি দেখার জন্য।
তবে ঝড়ের তান্ডব আরও ক্ষিপ্র হলে সন্ধ্যের আগেই আশ্রয় কেন্দ্রগুলোতে আতঙ্কিত উপকূলবাসীর ঢল নামতে পারে বলে ধারনা করছেন অভিজ্ঞমহল।
পাথরঘাটা উপজেলা নির্বাহী অফিসার সাবরিনা সুলতানা জানিয়েছেন,১০৮টি আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা হয়েছে। রয়েছে সুকনো খাবার ও পানিয়জল।
এ উপজেলায় ইতিমধ্যেই ঝড়বাতাসের তান্ডবে অগনিত গাছ ভেঙে ও উপড়ে গেছে। জলমগ্ন অনেক এলাকায় সড়ক যোগাযোগ বন্ধ হয়ে গেছে।