প্রকাশ: ২৩ মে ২০২১, ৯:৫৪
বরিশালে করোনার ভ্যাকসিনের দ্বিতীয় ডোজ পাওয়া নিয়ে শংকায় রয়েছেন প্রায় ২৩ হাজার টিকা গ্রহণকারী। জেলায় করোনার ভ্যাকসিন প্রদান বন্ধ হয়ে যাওয়ায় দ্বিতীয় ডোজ নিয়ে অনিশ্চয়তায় ভূগছেন তারা। আর স্বাস্থ্য বিভাগের পক্ষ থেকেও নিশ্চিত করতে পারছে না কবে নাগাদ ভ্যাকসিনের দ্বিতীয় ডোজ বরিশালে আসতে পারে।
তবে বিভাগের অন্যান্য জেলার সাথে আগামী ২৪ মে বিশেষ জরুরী সভার মাধ্যমে ভ্যাকসিনের দ্বিতীয় ডোজ দেয়া যায় কিনা সে ব্যাপারে সর্বাত্মক চেষ্টার কথা জানিয়েছেন বরিশাল বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক ডা. বাসুদেব কুমার সাহা।
বরিরশাল স্বাস্থ্য বিভাগের দেয়া তথ্য মতে, গত ৭ এপ্রিল সারাদেশের সাথে একযোগে বরিশালেও শুরু হয় করোনার ভ্যাকসিন প্রদান কার্যক্রম। এ যাবৎ জেলায় ৮০ হাজার ৫১৯ জনকে প্রথম ডোজ প্রদান করা হয়। যাদের মধ্য থেকে গত ৮ এপ্রিল থেকে শুরু হওয়া দ্বিতীয় ডোজ দেয়া হয়েছে ৫৭ হাজার ৭৪১ জনকে। এখনো দ্বিতীয় ডোজের অপেক্ষায় আছেন ২২ হাজার ৭৭৮ জন ভ্যাকসিন গ্রহীতা।
গত বৃহস্পতিবার সরেজমিনে নগরীর জেনারেল হাসপাতাল কেন্দ্রে গিয়ে দেখা গেছে, সকাল থেকে করোনা ভ্যাকসিনের দ্বিতীয় ডোজ নিতে জড়ো হয়েছেন অনেকে। টিকাদান কেন্দ্রের অফিসে তালা ঝুলতে দেখেন তারা। পরে হাসপাতালের চিকিৎসকদের সঙ্গে কথা বলে তারা জানতে পারেন যে টিকা দেয়া আপাতত বন্ধ করা হয়েছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক হাসপাতালের এক কর্মচারী জানান, দ্বিতীয় ডোজের ভ্যাকসিন পাওয়ার জন্য প্রতিদিনই ভ্যাকসিন গ্রহীতারা ব্যক্তিগতভাবে এসে এবং ফোন করে খোঁজ-খবর নিচ্ছেন। একই সঙ্গে উদ্বেগের কথাও জানাচ্ছেন তারা।
হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা মলয় কৃষ্ণ বড়াল বলেন, ‘গত বুধবারও জেনারেল হাসপাতাল কেন্দ্রে ভ্যাকসিন প্রদান করা হয়েছে। তবে ভ্যাকসিন শেষ হয়ে যাওয়ায় আপাতত কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে।
বরিশালের সিভিল সার্জন ডা. মনোয়ার হোসেন জানান, ভ্যাকসিনের চাহিদাপত্র দেয়া আছে। বরাদ্দ পেলেই দ্বিতীয় ডোজ দেয়া পুনরায় শুরু হবে। কবে নাগাদ ভ্যাকসিন আসবে তা জানাতে পারেননি তিনি।
বরিশালে বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক ডা. বাসুদেব কুমার দাস বলেন, “এটা জাতীয় ইস্যু। প্রথম ও দ্বিতীয় ডোক কতজনকে দেয়া হয়েছে এবং কতজন বাকী আছে সব তথ্যই মন্ত্রণালয়ে আছে। তবে কবে নাগাদ ভ্যাকসিন আসবে এখন পর্যন্ত এ সংক্রান্ত কোন নির্দেশনা আমাদের কাছে আসেনি”।
যারা অ্যাস্ট্রাজেনেকার টিকার প্রথম ডোজ নিয়েছেন তারা অন্য কোন কোম্পানীর দ্বিতীয় ডোজ নিতে পারবেন কিনা এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি জানান এটা নিয়ে পরীক্ষা নিরীক্ষা চলছে। সেক্ষেত্রে মিক্সড ডোজ দেয়া যাবে কিনা তার মতামত না পাওয়া পর্যন্ত নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছেন।
অপর এক প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, স্বাস্থ্য অধিদপ্তর এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে অ্যাস্ট্রাজেনেকা টিকা ১৬ সপ্তাহ পর্যন্ত দেয়া যাবে। তবে এখনো লিখিত কোন আদেশ না আসায় আমরা পূর্বের হিসাব অনুযায়ী ১২ সপ্তাহই ধরে নিচ্ছি।
স্বাস্থ্য পরিচালক আরো জানান, আগামী ২৪ মে একটি সভা আছে। সেখানে আলোচনা করে দেখা হবে বিভাগের অন্যান্য জেলার সাথে সমন্বয় করে দ্বিতীয় ডোজ দেয়া যায় কিনা। কেননা বিভাগের সব জেলায় কিন্তু ভ্যাকসিন শেষ হয়নি বলেন তিনি।
এদিকে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার পরামর্শ হচ্ছে, অ্যাস্ট্রাজেনেকার টিকার ১২ সপ্তাহ (তিন মাস) পর্যন্ত সময়সীমা বৃদ্ধির উদাহরণ রয়েছে। এর ফলে আরও বেশি রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা তৈরি হয় বলে বলা হচ্ছে। এ ধরনের টিকার ক্ষেত্রে দুটি ডোজ নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ।
সে ক্ষেত্রে যদি কয়েক দিন বা কয়েক সপ্তাহ দেরিও হয়, তারপরও দ্বিতীয় ডোজ নেওয়া দরকার। কারণ, প্রথম ডোজে আসলে নতুন অ্যান্টিজেন শরীরের ভেতর প্রবেশ করে, দ্বিতীয় ডোজের মাধ্যমে সেটার ক্ষমতা বাড়িয়ে দেওয়া হয়।