আসন্ন ঈদুল ফিতর উপলক্ষ্যে ঘরে ফেরা মানুষের উপচানো ভিড়ে দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া ফেরিঘাট লোকারণ্যে পরিণত হয়েছে। দূরপাল্লার যানবাহন বন্ধ থাকায় ছোট যানবাহন পাটুরিয়া ফেরিঘাটে শতশত মানুষ আসছে। সেখান থেকে ফেরিতে পদ্মা পার হচ্ছে এসব মানুষ। কোন ভাবেই মানা সম্ভব হচ্ছে না স্বাস্থ্যবিধি। মাস্কহীনভাবে শারীরিক না মেনেই চলাচল করছে যাত্রিরা। দেখার কেউ নেই।
ফেরিঘাট থেকে অতিরিক্ত ভাড়ায় ব্যাটারিচালিত ইজিবাইক, মাহেন্দ্র, মোটরসাইকেল ও মাইক্রোবাস করে দেশের বিভিন্ন স্থানে যাচ্ছে মানুষ।
শুক্রবার সকাল ১১ টায় দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে দেখা যায়, পাটুরিয়া থেকে ছেড়ে আসা বীরশ্রেষ্ঠ জাহাঙ্গীর নামের একটি রো-রো ফেরিতে প্রায় ৭ শতাধিক যাত্রী দৌলতদিয়া ফেরিঘটে পৌছায়। মহামারি করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ রোধে ফেরিতে সামাজিক দূরত্ব মানতে দেখা যায়নি। মাক্স ব্যবহার করতে দেখা যায়নি অনেক যাত্রীদের। গাদাগাদি করে ছুটছে লোকজন।
গাজীপুর থেকে ছেড়ে আসা যাত্রী মো. বিল্লাল খাঁন বলেন, আজ শুক্রবার ছুটির দিন তাই পরিবারের অন্য সদস্যদের নিয়ে যশোরের জিকরগাছা গ্রামের বাড়ীতে যাচ্ছি। পরিবারের সকল কে বাড়ীতে পৌছে দিয়ে আমি আবার গাজীপুর ফিরবো। দুরপাল্লার পরিবহন না চলাচল করায় এখন ভেঙ্গে ভেঙ্গে বাড়তি ভাড়া দিয়ে যেতে হবে। তবে দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে সিন্ডিকেট থাকার কারণে গাড়ীতে অতিরিক্ত ভাড়া দিয়ে আমাদের কে যেতে হচ্ছে।
কুলছুম নামে এক যাত্রী বলেন, বেশিরভাগ মানুষ ঈদ উপলক্ষ্যে গ্রামের বাড়ীতে যাবে। তবে দৌলতদিয়া থেকে সব ধরনের যানবাহনে অতিরিক্ত ভাড়া নিচ্ছে। এখানে প্রশাসনের কোন তৎপরতা দেখা যায়নি।
অতিরিক্ত ভাড়া নেওয়া প্রসঙ্গে নাম প্রকাশ না করার শর্তে একজন মাইক্রোবাস চালক বলেন, কুষ্টিয়া থেকে ঈদের যাত্রী বহন করার জন্য দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে আসছি। এখান থেকে প্রভাশালী এক ব্যক্তির সহায়তার গাড়ী লাগনোর সুযোগ পেয়েছি। তাকে এক হাজার টাকা দিতে হয়েছে। যে কারণে অতিরিক্ত ভাড়া দিয়ে যাত্রী বহন করতে হচ্ছে।
বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিসির) দৌলতদিয়া ফেরিঘাটের মহাব্যবস্থাপক মো. ফিরোজ শেখ বলেন, করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ রোধে দিনের বেলায় দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌরুটে ৬টি ফেরি চলাচল করছে। রাতে যাত্রী ও যানবাহন পারাপারের জন্য ছোট বড় ১৬টি ফেরি চলাচল করছে।