প্রকাশ: ৭ এপ্রিল ২০২১, ১৮:১
ময়লা আবর্জনার সাথে লবনাক্ততা যোগ হয়ে ব্যবহার অনুপযোগী হয়ে পড়ছে বরিশালের কীর্তনখোলা নদীর পানি। নদী তীরবর্তী মানুষ দৈনন্দিন কাজে এ নদীর পানি ব্যবহার করলেও এখন আর তা সম্ভব হচ্ছে না। মিঠাপানির কীর্তনখোলা নদীর পানিতে বর্তমানে লবণাক্ততা রয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন পরিবেশবিদরাও।
বিশেষজ্ঞদের মতে, দুষণসহ জলবায়ু পরিবর্তনের কারণেই কীর্তনখোলার মতো মিঠা নদীর পানিও এখন লবণাক্ত হয়ে উঠেছে। এতে করে জীববৈচিত্রের উপর বিরুপ প্রভাব পড়ার পাশাাশি পরিবেশ বিপর্যয়ের শঙ্কাও রয়েছে।
নদীর পানির ওপর নির্ভরশীল কীর্তনখোলার দুই পাড়ের বাসিন্দারা। দৈনন্দিন কাজে বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই তারা নদীর পানি ব্যবহার করেন। নদীতে গোসল করতে গিয়ে অনেকেই পানি মুখে দিয়ে লবণের উপস্থিতি বুঝতে পারেন।
তাদের মতে, গেল দুই সপ্তাহ ধরে কীর্তনখোলা নদীর পানি লবনাক্ত হয়ে উঠেছে। প্রথমে বিষয়টি নিয়ে কেউ মাথা না ঘামালেও নগরীর ডিসি ঘাট এলাকার একাধিক চায়ের দোকানদার পানি সংগ্রহ করতে গেলে তারাও লবণের উপস্থিতি লক্ষ্য করেন। ঠিক তখনই লোকমুখে ছড়িয়ে পড়ে কীর্তনখোলার পানিতে লবনাক্তর খবর।
নদী পাড়ের বাসিন্দারা জানান, প্রথমে ধারণা করা হচ্ছিলো শহরের ভেতর থেকে বয়ে আসা খালের মুখের পাশের জায়গাতে নদীর পানি লবণাক্ত। তাই এটা স্বাভাবিক ধরে নিয়েছিলো অনেকে। পরে বিভিন্নস্থান থেকে নদীর পানি লবণাক্ত হওয়ার খবর ছড়িয়ে পরে। এমনকি এক চায়ের দোকানি একদিন নদী থেকে পানি এনে চা বানাতে গিয়ে তাতে লবণের উপস্থিতি পেয়ে ফেলে দিতে বাধ্যও হন।
বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন ও বাংলাদেশ নদী বাঁচাও আন্দোলন বরিশাল বিভাগীয় সমন্বয়কারী রফিকুল আলম জানান, ২০১০ সাল থেকে ২০১২ সাল পর্যন্ত তারা একটি সার্ভে করেছিলেন, যেখানে দেখা গেছে শুষ্ক মৌসুমে সাগরের পানি তেঁতুলিয়া নদী পর্যন্ত চলে আসছে।
তিনি বলেন, কীর্তনখোলা নদীর পানিতে লবণাক্ততার বিষয়ে পরিবেশ অধিদপ্তরকে কীর্তনখোলা নদীর পানি পরীক্ষা করে কার্যকরী পদক্ষেপ নিতে হবে। তা না হলে আমাদের জলজ সম্পদের ক্ষতি হবে, পাশাপাশি মানুষের জীবন-জীবিকা এবং জীব-বৈচিত্রের উপর বিরুপ প্রভাব পরবে।
তিনি বলেন, এখন থেকে ১০ বছর আগে উজান থেকে যে পানি আসতো নদীগুলোতে এখন তা কমে আসছে। এটা জলবায়ু পরিবর্তনের একটি বিরুপ প্রভাব। ফলে উজানের পানির প্রবাহ বাড়াতে হবে। পাশাপাশি জলবায়ু অভিযোজনের জন্য যা যা করা দরকার সেটা করতে হবে। সেই সাথে আমাদের মানুষদেরও সচেতন হতে হবে।
বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপকূলবিদ্যা ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিভাগের চেয়ারম্যান ড. হাফিজ আশরাফুল হক বলেন, কীর্তণখোলা নদীর স্যালাইনিটি তিনগুন বেড়েছে দেখা যাচ্ছে। এর প্রধান কারণ জলবায়ু পরিবর্তন। উজান থেকে পর্যাপ্ত পানি না আসলে নদীর পানির উচ্চতা কমে যায়। নদীতে লবনাক্ততা বেড়ে যাওয়ায় ইলিশের উপর প্রভাব পড়তে পারে। তাছাড়া এ পানি পান করলে মানুষের কিডনি ড্যামেজসহ নানা রোগ হতে পারে।
পরিবেশ অধিদপ্তরের বরিশাল বিভাগীয় কার্যালয়ের সহকারি বায়োকেমিস্ট মো. মুনতাসির রহমান জানান, প্রতিমাসেই নদীর পানি পরীক্ষা করা হয়ে থাকে। পরীক্ষার হিসেব অনুযায়ী ফেব্রুয়ারি মাস থেকে মার্চ মাসে কীর্তনখোলা নদীর পানির অনেকটাই পরিবর্তন এসেছে।
বরিশাল বিভাগীয় পরিবেশ অধিদপ্তরের পরিচালক (ভারপ্রাপ্ত) কামরুজ্জামান সরকার বলেন, প্রতিমাসেই বরিশাল বিভাগের ১৫টি নদীর পানি পরীক্ষা করা হয়। আমরা বিষয়টি আমাদের উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষর কাছে অবহিত করবো।