প্রকাশ: ৩০ আগস্ট ২০২৫, ২০:৪
রাজধানীর কাকরাইলে জাতীয় পার্টির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে শনিবার সন্ধ্যায় হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। এ সময় গণঅধিকার পরিষদের নেতা-কর্মীরা হামলা চালায়। পুলিশের সঙ্গে হামলাকারীদের ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া চলতে দেখা যায়। পুলিশ লাঠিচার্জ এবং জলকামান ব্যবহার করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করে।
ঘটনাস্থলে ভাঙচুরের সময় জাতীয় পার্টির নেতাকর্মীরা কার্যালয়ের ভেতরে অবস্থান করছিলেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কাকরাইল ও বিজয়নগর এলাকায় বিপুল সংখ্যক পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। এলাকার পরিবেশ উত্তেজনাপূর্ণ অবস্থায় ছিল।
গত শুক্রবার রাতে রাজধানীর বিজয়নগরে গণঅধিকার পরিষদ ও জাতীয় পার্টির নেতা-কর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। পুলিশ ও সেনাবাহিনী লাঠিচার্জ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এতে গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুর, সাধারণ সম্পাদক মো. রাশেদসহ চার নেতা-কর্মী আহত হন। নুর বর্তমানে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন।
বিএনপি, এনসিপি, জামায়াতসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দল গণঅধিকার পরিষদের ওপর হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে। তারা এই ধরনের সহিংসতা রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে গ্রহণযোগ্য নয় বলে মন্তব্য করেছে।
হামলার পর গণঅধিকার পরিষদের সাধারণ সম্পাদক রাশেদ খান জাতীয় পার্টিকে নিষিদ্ধ করার জন্য অন্তর্বর্তী সরকারকে ৪৮ ঘণ্টার সময় বেঁধে দেন। তিনি বলেন, দ্রুত তদন্ত কমিটি গঠন এবং দায়িত্বপ্রাপ্তদের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নেওয়া উচিত।
স্থানীয়রা জানান, কাকরাইল ও বিজয়নগর এলাকায় সাধারণ মানুষ আতঙ্কিত হয়েছে। তারা আশা করছেন, প্রশাসন দ্রুত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনবে এবং পুনরায় এমন সংঘর্ষ ঘটতে দেবে না।
পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার পর নির্দিষ্ট এলাকায় অতিরিক্ত নিরাপত্তা বজায় রাখা হয়েছে এবং প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। প্রশাসন জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সব ধরনের প্রস্তুতি নিয়েছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই ধরনের সংঘর্ষ রাজনৈতিক উত্তেজনা বৃদ্ধি করছে। তাই সকল পক্ষকে সংলাপ এবং শান্তিপূর্ণ সমাধানের পথে এগোতে হবে।