প্রকাশ: ৪ এপ্রিল ২০২১, ১৯:১৬
পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় ফার্নিচার তৈরীর অজুহাতে অফিস চত্বর থেকে বন বিভাগের অজ্ঞাতসারে ১০/১২ টি বড় সাইজের রেইনট্রি, চাম্বল প্রজাতীর গাছ কেটে স্বমিলে পাঠানোর অভিযোগ উঠেছে ইউএনও আবু হাসনাত মোহাম্মদ শহিদুল হক এর বিরুদ্ধে। একজন নৈশ প্রহরীকে দিয়ে রাতের আধাঁরে স্বমিলে এসব গাছ পাঠান তিনি।
সম্প্রতি ইউএনও’র এহেন কর্মকান্ড নিয়ে অফিস পাড়ায় নানা কানা ঘুষা চলার পর সাংবাদিকদের কাছে গাছ কাটার বিষয়ে ইউএনও বললেন, গাছ কাটা হয়নি। ঝড়ে পড়ে যাওয়া গাছ অপসারন করা হয়েছে, যা দিয়ে প্রোগ্রামের ফার্নিচার বানানো হবে। উপজেলা চেয়ারম্যান সাহেব বিষয়টি জানে।
নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা যায়, কক্সবাজার এলএ অফিসে নানা বিতর্কের পর পদোন্নতি পেয়ে কলাপাড়ায় ইউএনও হিসেবে যোগদান করেন আবু হাসনাত মোহাম্মদ শহিদুল হক। করোনা পরিস্থিতির শুরুতে দুস্থদের জন্য বরাদ্দকৃত সরকারী সেবা সুবিধা বিতরনে স্থানীয় গনমাধ্যমে হিরো বনে যান ইউএনও। এরপর ধীরে ধীরে আলোচনায় আসতে থাকেন তিনি।
পিআইও’র সাথে আতাঁত করে দুস্থদের চাল কালো বাজারে বিক্রী করার গুঞ্জন ওঠে সেই সময়। এরপর পিআইও অফিসের ১ কোটি ১২ লাখ টাকার প্রকল্প কাজ না করে উত্তোলন করায় ফেঁসে যান ওই পিআইও, পরে সরকারী
কোষাগারে জমা দিয়েও শেষ রক্ষা হয়নি তার। কিন্তু ধরা ছোঁয়ার আড়ালেই থেকে যান তিনি।
সম্প্রতি স্বাধীনতা দিবসের অনুষ্ঠান উদযাপনে সরকারী ১ লাখ টাকা বরাদ্দের পরও কয়েক লক্ষ টাকা উত্তোলন করে আলোচনায় আসেন তিনি। এরপর বনবিভাগের অজ্ঞাতসারে গাছ কেটে ফের আলোচনায় আসেন ইউএনও আবু হাসনাত মোহাম্মদ শহিদুল হক।
সূত্রটি আরও জানায়, সম্প্রতি এক বিকেলে ইউএনও চত্বরের পূর্ব দিক থেকে ১০/১২টি বড় সাইজের রেইনট্রি ও চাম্বল প্রজাতীর প্রায় ১২০ কেভি গাছ, যার আনুমানিক মূল্য প্রায় ৪০ হাজার টাকা, লোক দিয়ে কাটান তিনি। পরে রাতের আঁধারে উপজেল চত্বরের এক নৈশ প্রহরীকে দিয়ে স্বমিলে পাঠান ইউএনও।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে শহরের একটি স্বমিলের গাছ ব্যবসায়ী জানান, ’সিপিপি অফিসের নৈশ প্রহরী সেন্টু গত শুক্রবার (২৬মার্চ) একটি রেইনট্রি গাছ টমটম যোগে উসুয়ে বাবুর স্বমিলে চেরাই করার জন্য আনে।
কলাপাড়া রেঞ্জ অফিসের বন কর্মকর্তা আ: ছালাম বলেন, ’সরকারী অফিসের ঝড়ে পড়া গাছ হলেও নিয়ম অনুযায়ী তা অপসারনের জন্য আমাদের লিখিত ভাবে জানাতে হবে। কিন্তু এ বিষয়ে আমাকে কিংবা জেলা বন কর্মকর্তাকে অবহিত করা হয়নি।’
এ বিষয়ে ইউএনও আবু হাসনাত মোহাম্মদ শহিদুল হক সাংবাদিকদের বলেন, ’ঝড়ে পড়ে যাওয়া গাছ অপসারন করা হয়েছে, যা দিয়ে প্রোগ্রামের ফার্নিচার বানানো হবে। উপজেলা চেয়ারম্যান সাহেব বিষয়টি জানে।’
উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান এসএম রাকিবুল আহসান বলেন, ’গাছ গুলো নির্মানাধীন পিআইও অফিসের পেছনের খালে পড়ে আছে। যার দু’একটি গাছ ফার্নিচারের কাজে লাগতে পারে। বাকী গুলো লবনাক্ততায় নষ্ট হওয়ায় লাকড়ি ছাড়া আর কিছুই হবে না।’