প্রকাশ: ৩ এপ্রিল ২০২১, ২৩:৬
কোনো ট্যাগ পাওয়া যায়নি
বরগুনার পাথরঘাটায় পল্লীবিদ্যুৎ এর গ্রাহকসেবা নিয়ে চরম দুরাবস্থা চলছে। শনিবার ৩ এপ্রিল সকাল ৮টায় বিদ্যুৎ চলে গেছে । বিকাল ৫টার পর আসার কথা থাকলেও যথাসময়ে বিদ্যুৎ আসবে না বলে অভিযোগ ভুক্তভোগীদের ।
স্থানীয় ব্যবসায়ীরা জানান, বিকেল পাঁচটার পর বিদ্যুৎ দেয়ার কথা থাকলেও কোনো দিন সন্ধ্যার পরেও আসেনা বিদ্যুৎ। এঅবস্থা গত এক বছর ধরে চলতে থাকলেও স্থানীয় কর্তাব্যক্তিদের টনক নড়ছে না কখনো। খোজ নিয়ে জানা গেছে ফিডার বিভাজন ও আবগ্রেডেশন করার কারনে ঠিকাদারের অদক্ষতা ও লোকবলের অপ্রতুলতার কারনে কাজে দীর্ঘ সময় লাগছে ।
সংশ্লিষ্ট সুত্রথেকে জানা গেছে, শুরুতে ঠিকাদারের ৩০জন লোক কাজ করলেও এখন মাত্র ১৪ জনে কাজ করে । বাকি ১৬ জন লোক অন্য সাইডে নিয়ে গেছে ওই ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। ফলে জনবল সংকট দেখা দিয়েছে এখন পল্লী বিদ্যুতের চলমান কাজে। এই অল্প লোকের কাজের জন্য ও সারাদিন বিদ্যুৎ বন্ধ রাখতে হচ্ছে । জনবলের সংকট না কাটলে বরগুনার পাথরঘাটা বিদ্যুৎ গ্রাহকদের দুর্ভোগ কমবে না বলেও দাবী সূত্রটির।
পাথরঘাটা সাবষ্টেশনের এজিএম ইকবাল মাহদী জানান ,পাথরঘাটায় ৫টি ফিডারে কাজ চলছে। এর মধ্যে পাথরঘাটা পৌরসভায় একটি সাবষ্টেশন থেকে গোলচত্ত্বর হয়ে নতুন বাজার বিএফডিসি হয়ে তালতলা পর্যন্ত খালের এপার ওপার বাকি ৩টি সাবষ্টেশন থেকে চরদুয়ানী হয়ে কাঠালতলী পর্যন্ত ,পাথরঘাটা সাবষ্টেশন থেকে মুন্সিরহাট পর্যন্ত, এবং সাবষ্টশন থেকে ৩৩ কেভি মঠবাড়িয়া পর্যন্ত কাজ চলছে তাই বিদুৎ সরবারাহ বন্ধ রাখতে হচ্ছে।
এ কাজের জন্য নির্ধারিত সময়ের চেয়ে দ্বিগুণ সময় বেশী অতিবাহিত হওয়ার পরেও কাজ শেষ করতে না পারায় নির্বাহী প্রকৌশলী পৌরসভার মধ্যের কাজের ঠিকাদার মোঃ আমীর আলিকে বিলম্বের কারনে শোকজ করেছেন বলেও জানা গেছে । ক্ষমতাশালী এই ঠিকাদার বিলম্বের কোন জবাব এখনও দেননি ।
তিনি পিরোজপুর প্রকৌশলী অফিসের সাথে যোগসাজসে প্রচুর কাজ বাগিয়ে নেন বলে তার বিরুদ্ধে অভিযোগ পাওয়া গেছে। মোট কাজের বড় একটা অংশ তিনি করান বলে জানা গেছে। ফলে সব সাইডে কাজ করাতে গিয়ে লোকজনের ঘাটতি দেখা দিয়েছে। তার বাড়ি বাগেরহাটের মোড়োলগঞ্জ বলে জানা যায়।
পিরোজপুরের নির্বাহী প্রকৌশলী এ এস এম আহসানুলআলম বলেন ঠিকাদারের গাফলতি ও কাজ বিলম্বিত হওয়ার কারনে শোকজ করা হয়েছে দ্রুত কাজ শেষ না করলে ওনার বিরুদ্ধে ব্যবস্হা নেয়া হবে।
পাথরঘাটা উপজেলা চেয়ারম্যান মোস্তফা গোলাম কবির বলেন,বিদ্যুৎ নিয়ে আমরা চরম দু্র্ভোগে আছি। সংস্কারের নামে দীর্ঘ দিন এভাবে চলতে দেয়া যায় না। তিনি দ্রুত বিদ্যুৎ নিয়মিত সরবরাহের দাবী জানান।
এছাড়া পাথরঘাটা সাবষ্টশনের এজিএম ইকবাল মাহদী জানান ,বিদ্যুৎের সমস্যা বেশী দিন থাকবেনা আর অল্প কিছু দিন কাজ করলেই সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে। আগামী ৫ বছরে আর কোন কাজ করা লাগবেনা।
শীতকালে এখানকার বিদ্যুৎ গ্রাহকরা বিষয়টি মেনে নিলেও গরম পরার পর এখন ভোগান্তি চরমে পৌছেছে। জনগণের দুর্ভোগ না বাড়িয়ে ত্বড়িত গতিতে লোকবল সংকট কাটিয়ে বিদ্যুৎ বিভাজনের কাজ দ্রুত শেষ করার জন্য জোর দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।