প্রকাশ: ৩ এপ্রিল ২০২১, ১৪:৩৮
আশাশুনির কুল্যা,বাহাদুরপুর,নওয়াপাড়ার দুই শতাধিক জেলে পরিবার নানা প্রতিকূলতার বিরুদ্ধে সংগ্রাম করে বেঁচে আছে । মুক্ত জলাশয়, বিল-বাওড়ে মাছের অভাবে ব্যবসায় মন্দা। জেলেপাড়ায় জাল নেই, নৌকা নেই, মহাজনদের কাছ থেকে চড়া সুদে ঋণ নিয়ে এখন তারা ঋণের জালে বন্দী হয়ে পড়েছে।
অভাব আর অভাবে জর্জরিত অধিকাংশ জেলে পরিবার নিদারুণ কষ্টে দিনাতিপাত করছে। সরেজমিনে জানা যায়, সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের জেলেপল্লীতে বসবাসরত বেশীরভাগ জেলেই অশিক্ষিত। অনেকের পরিবারও বেশ বড়। কথা হয় নওয়াপাড়া গ্রামের বীরেন্দ্র নাথের সাথে। তিনি জানান, এক সময় খাল-বিলভরা পানি ছিল, মাছও পাওয়া যেত প্রচুর।
তিনি মুক্ত জলাশয়ে মাছ শিকার করেই পরিবারের জীবিকা নির্বাহ করে এসেছেন। এখন ছেলেরা বড় হয়েছে তারাই সংসার চালায়। কিন্তুু কালের আবর্তে তাদের মাছ ধরা পেশায় ভাটা পড়েছে। কারণ কোথাও পর্যাপ্ত পানি নেই, মাছও নেই আগের মত। বিল-বাওড়ে এখন ধান চাষ হয়। অনেক বিত্তশালী নিজেদের বিল ও নীচু জমিতে বাঁধ দিয়ে মাছ চাষ শুরু করেছে।
একই পরøীর অনেকেই সংসার চালাতে দীর্ঘদিন ধরেই তাদের হিমসিম খেতে হচ্ছে। বাচ্চাদের লেখাপড়ার চিন্তা মাথায় আসার আগেই অন্ন, বস্ত্র, চিকিৎসার জন্য এনজিও ঋণ নিতে হয়। সাপ্তাহিক কিস্তির টাকা যোগাড় করতেই তাদের হিমসিম খেতে হচ্ছে। দিনে দিনে দায়দেনা স্ফীত হচ্ছে। বাহাদুর পুর গ্রামের জেলে পল্লীতে প্রায় ১০/১৫টি পরিবার বসবাস করে।
ঘরের সাথে ঘর ঠাসা, কোনমতে দোচালা ও ছাপড়া ঘরে বসবাসরত ঝড়-বৃষ্টিতে ভিজে ছেলেমেয়ে নিয়ে এভাবে প্রায় ৪০ বছর সংসার করছে। এখানে জোতদার, মহাজন, মাঝি নেই, কারো কারো জালই নেই। আবার কেউ কেউ আজকাল ভ্যান চালনা, কামলা খাটাসহ অন্য পেশায় জীবিকা নির্বাহ করছে। জেলেপল্লীর ছেলে-বুড়ো নিজেদের জাত ব্যবসা ধরে রাখার চেষ্ট করলেও নানান প্রতিকূলতায় টিকে থাকতে পারছে না।
অপরদিকে গোদের উপর বিষফোড়া হয়ে দাঁড়িয়েছে কারেন্ট জালের বিস্তার ব্যবহার। সংখ্যালঘু জেলে সম্প্রদায় ছাড়াও মাছ ব্যবসায় বড় বড় মহাজন, এবং অন্যান্য সম্প্রদায়ের বিত্তশালীরা ঝুঁকে পড়েছে মাছ ধরায়। ফড়িয়া থেকে শুরু করে আড়তদারের দৌরাত্ম্য বৃদ্ধি পাওয়ায় বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে জেলেদের দৈনন্দিন জীবন-জীবিকা।উপজেলার কুল্যা, কুন্দুড়িয়া, খরিয়াটি, দরগাপুর, মহিষকুড়,
এলাকা ঘুরে একই চিত্র দেখা যায়। বেশীর ভাগ জেলে পল্লী জায়গা সংকটে ঝুপড়ি ঘরের বস্তির আকার ধারণ করেছে। নেই স্যানিটেশন ও বিশুদ্ধ পানির ব্যবস্থা। নিকটে স্কুল থাকা সত্ত্বেও ছেলেমেয়েদের লেখাপড়া করানোর সামর্থ নেই তাদের। পূজা-পার্বণ ও অন্যান্য ধর্মীয় উৎসবে অংশগ্রহণ তাদের একেবারেই নিষ্প্রাণ। সাধ ও সাধ্যের সমন্বয় ঘটাতে হিমসিম খেতে হয় প্রতিনিয়ত। এভাবেই চলে ঋণগ্রস্ত জেলেপল্লীর অধিকাংশ মানুষের জীবন ব্যবস্থা।