প্রকাশ: ২ এপ্রিল ২০২১, ১৯:১৪
কোনো ট্যাগ পাওয়া যায়নি
গাজীপুরে হেফাজতে ইসলামের নেতাকর্মীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ হয়েছে। এতে পুলিশসহ অন্তত ২০ জন আহত হন। এসময় পুলিশ রাবার বুলেট ও টিয়ারশেল নিক্ষেপ করে। এতে হেফাজত নেতাকর্মীরা ছত্রভঙ্গ হয়ে যান।
আহতদের স্থানীয় হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। শুক্রবার জুম্মার নামাজের পর মহানগরীর ব্যস্ততম চান্দনা চৌরাস্তা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
পুলিশ ও এলাবাসী সূত্রে জানা গেছে, হেফাজতে ইসলামের পূর্বনির্ধারিত কর্মসূচির অংশ হিসেবে জুমার নামাজের পর বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে নেতাকর্মীরা চান্দনা চৌরাস্তা ঈদগাহ ময়দানে সমবেত হয়। পরে তারা মিছিল সহকারে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে বের হওয়ার চেষ্টা করলে পুলিশ তাদের মাঠের মধ্যেই সমাবেশের অনুরোধ করে। পরে হেফাজত নেতাকর্মীরা ঈদগাহ মাঠের ভেতর থেকে পুলিশকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করতে থাকে। পরে পুলিশ রাবার বুলেট ও টিয়ারশেল নিক্ষেপ করে তাদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়।
পরে হেফাজত কর্মীরা চান্দনা চৌরাস্তায় ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক অবরোধের চেষ্টা করলে পুলিশ তাদের ধাওয়া দেয়। জবাবে হেফাজত কর্মীরা পুলিশকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল ছুড়ে। এ সময় তাদের সঙ্গে পুলিশের ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। একপর্যায়ে হেফাজত নেতাকর্মীরা ছত্রভঙ্গ হয়ে গেলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে। সংঘর্ষে পুলিশসহ অন্তত ২০ হেফাজত কর্মী আহত হন। তাদের স্থানীয় হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।
ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে। পরে চান্দনা চৌরাস্তা এলাকা থেকে হেফাজতে ইসলামের অন্তত ২০ জনকে আটক করা হয়। পুলিশ ও হেফাজতে ইসলামের নেতাকর্মীদের সংঘর্ষের সময় ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে আধাঘণ্টা সব যান চলাচল বন্ধ থাকে।
গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের ডিসি জাকির হাসান জানান, হেফাজত কর্মীরা ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে অবস্থান নিয়ে সড়ক অবরোধ করে। তাদের মহাসড়ক ছেড়ে যেতে বললে তারা পুলিশকে লক্ষ করে ইটপাটকেল ছুড়তে থাকে। পরে তাদের সঙ্গে পুলিশের ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। পুলিশ শতাধিক টিয়ারশেল ও রাবার বুলেট নিক্ষেপ করে তাদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়। বর্তমানে পরিস্থিতি পুলিশের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। কমপক্ষে আট পুলিশ আহত হয়েছেন। তাদের হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় ২০ জনকে আটক করা হয়েছে।
হেফাজতে ইসলামের গাজীপুর জেলা কমিটির যুগ্ম সম্পাদক মুফতি নাসির উদ্দিন খান জানান, চান্দনা চৌরাস্তা ঈদগাহ ময়দানে শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভের ওপর পুলিশ অতর্কিতে লাঠিচার্জ, গুলি ও টিয়ারশেল নিক্ষেপ করে। এতে অন্তত ১০-১২ কর্মী আহত হয়েছেন।