প্রকাশ: ২৭ মার্চ ২০২১, ১৭:৩৬
“আজকে আমরা যে পর্যায়ে এসেছি, এটা শুরু করেছিলেন জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। তিনি জীবনের ১৪টি বছর কারাগারের অভ্যন্তরে ছিলেন। তার এই ত্যাগ তিতিক্ষা’র জন্যই বাংলাদেশ আজ বিশ্বের মানচিত্রে একটি গর্বিত দেশ হিসেবে স্থান লাভ করেছে।
বঙ্গবন্ধু যে সোনার বাংলার স্বপ্ন দেখেছিলেন, তা বাস্তবায়নে আজ আমরা তারই সুযোগ্য কণ্যা জননেত্রী প্রধানমন্ত্রী মাননীয় শেখ হাসিনার নেতৃত্বে এগিয়ে যাচ্ছি”।
শনিবার (২৭ মার্চ) সকালে বরিশাল জিলা স্কুল প্রাঙ্গনে আয়োজিত “স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীঃ সল্পোন্নত দেশ থেকে উন্নয়নশীল বাংলাদেশ” উদযাপন উপলক্ষে উন্নয়ন মেলার আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ কথা বলেন পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী কর্নেল (অব.) জাহিদ ফারুক শামীম এমপি।
প্রতিমন্ত্রী আরো বলেন, বাংলাদেশ বিগত ১০ বছরে যে অগ্রগতি সাধন করেছে, তাতে আজ বংলাদেশ বিশ্বে রোল মডেল হিসেবে পরিচিতি লাভ করেছে। বাংলাদেশ এখন আর তলাবিহীন ঝুড়ি নেই, দেশ আজ দুর্বার গতিতে এগিয়ে যাচ্ছে সমৃদ্ধশালী দেশের লক্ষ্যে।
বাংলাদেশ সরকারের লক্ষ্য হলো ২০৩১ সালের মধ্যে উচ্চ মধ্যম আয়ের দেশ এবং ২০৪১ সালের মধ্যে সমৃদ্ধশালী দেশে আমরা পৌছাবো। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী যে লক্ষ্য স্থির করেছেন, আমার দৃঢ় বিশ্বাস দেশ যেভাবে এগিয়ে যাচ্ছে তাতে আমরা ৪১ সালের আগেই সমৃদ্ধশালী দেশে পৌছাতে পারবো।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, বিগত ১৭ মার্চ থেকে ২৬ মার্চ পর্যন্ত জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী এবং স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী পালন করেছি। এ সময়ের আমাদের দক্ষিন এশিয়া ও এশিয়ার পাচ পাচটি দেশের রাষ্ট্রপ্রধান এবং সরকার প্রধানরা আমাদের দেশে এসেছেন এবং তারা মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সাথে সংহতি প্রকাশ করেছেন।
মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সাথে সংহতি প্রকাশ মানেই হলো বাংলাদেশের সাথে সংহতি প্রকাশ করেছেন। এটা আমাদের দেশের জন্য বিশাল সন্মানের বিষয়। এছাড়া বিগত কয়েকদিনে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রপ্রধানরা ভিডিও ম্যাসেজ পাঠিয়েছেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে অভিনন্দন জানিয়েছেন।
যারমধ্যে আমেরিকার প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন, রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন, তুর্কির প্রেসিডেন্ট রয়েছেন। এতে বোঝা যায় বাংলাদেশের অবস্থান আজ পৃথিবীর বুকে কোথায় চলে গিয়েছে। আগামী ৪১ সালের মধ্যে আমরাও সমৃদ্ধশালী হবো এবং বিশ্বের বিভিন্ন দেশে অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে বাংলাদেশের একটা উজ্জল ভূমিকা থাকবে।
তিনি বিরোধীদলের শীর্ষ নেতাদের উদ্দেশ্য করে বলেন, আপনাদের অনেক স্বচ্ছ সদস্য রয়েছেন যারা আমার মন্ত্রনালয়ে আসেন তাদের এলাকার বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে এবং তারা অকপটে বিশ্বাস করে এবং স্বীকার করে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সময় যেভাবে দেশ এগিয়ে গিয়েছে, অতীতে কোন সরকারের সময় এভাবে এগিয়ে যায়নি। তাহলে আর সন্দেহ কোথায় আসুন আমরা সবাই একসাথে কাজ করি।
প্রতিমন্ত্রী তার বক্তব্যের শুরুতে শ্রদ্ধাভরে স্মরন করেন জাতির পিতা শেখ মুজিবুর রহমান ও তার পরিবারের শহীদ সদস্যদের। স্মরন করেন শহীদ আব্দুর রব সেরনিয়বাত ও তার পরিবারের শহীদ সদস্যদের।
স্মরণ করেন জাতীয় চার-নেতা, মুক্তিযুদ্ধে ৩০ লাখ শহীদ, ২ লাখ সম্ভ্রম হারানো মা-বোন এবং গণতন্ত্রের লক্ষে আওয়ামীলীগের যে নেতা কর্মীরা জীবন বিষর্যন দিয়েছেন এবং আহত হয়েছেন তাদের সকলকে।
বরিশারের জেলা প্রশাসক জসীম উদ্দীন হায়দার এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বরিশাল সিটি করপোরেশনের মেয়র সেরনিয়াবাত সাদিক আবদুল্লাহ, বরিশালের বিভাগীয় কমিশনার মোঃ সাইফুল হাসান বাদল,
বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার মোঃ শাহাবুদ্দিন খান-বিপিএম (বার), জেলার পুলিশ সুপার মোঃ মারুফ হোসেন, সিভিল সার্জন ডাঃ মোঃ মনোয়ার হোসেন, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক হৃদয়েশ্বর দত্ত প্রমুখ।
আলোচনা সভার পূর্বে “স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীঃ সল্পোন্নত দেশ থেকে উন্নয়নশীল বাংলাদেশ” উদযাপন উপলক্ষে আয়োজিত র্যালিতে অংশগ্রহন করেন অতিথিরা। এর আগে তারা বেলুন ও ফেস্টুন উড়িয়ে কর্মসূচির উদ্বোধন করেন।
আলোচনাসভা শেষে উন্নয়ন মেলার বিভিন্ন স্টল পরিদর্শন করেন প্রতিমন্ত্রীসহ অতিথিবৃন্দ।