প্রকাশ: ১৮ মার্চ ২০২১, ১৯:২৭
কোনো ট্যাগ পাওয়া যায়নি
নওগাঁয় বিয়ের প্রলোভনে দিয়ে মানসিক ভারসাম্যহীন তরুনী(৩০) কে একাধিক বার ধর্ষণ করেছে প্রভাবশালী তিন সন্তানের জনক। ঘটনায় তরুনীর মা বাদী হয়ে জাহিদুল ইসলাম (৫১) এর বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন আইনে থানায় মামলা করেছেন। মামলার পর আসামী গত ৬মাস থেকে জেল হাজতে আছে।
আপোষ করতে অভিযুক্তের পরিবার বুধবার রাতে ওই তরুনীর মাকে ৫০ হাজার টাকা দিয়েছে। জাহিদুল ইসলাম সদর উপজেলার দেবীপুর গ্রামের মজিবর রহমানের ছেলে। ওই তরুনী উপযুক্ত বিচার দাবী করেছেন।
ভুক্তভোগীর পরিবার ও থানা পুলিশ সূত্রে জানা যায়, মানষিক ভারসাম্যহীন তরুনীকে বড় মেয়ের কাছে রেখে তার মা ঢাকায় থাকতেন। গত বছরের ১৭ জুলাই রাত ১১টার দিকে তরুনীর বড় বোন ঘরের বাহিরে মাছ পরিস্কার করছিলেন। এসময় তরুনীর ঘরে কাউকে প্রবেশ করতে দেখেন।
পরে তার দুই ছেলেকে নিয়ে তরুনীর ঘরে গিয়ে দেখেন চৌকির নিচে জাহিদুল ইসলাম লুকিয়ে আছে। পরে তাকে ঘর থেকে বের করে দঁড়ি দিয়ে বেঁধে রাখা হয়। জাহিদুল ইসলাম তাকে ছেড়ে দিতে এবং বিষয়টি কাউকে না জানানোর জন্য তাদের কাছে অনুরোধ করলে রাতেই তাকে ছেড়ে দেয়া হয়।
পরে তরুনীর ভগ্নীপতি বিষয়টি জাহিদুলের বউকে জানায়। এরপর তাদের পরিবারে অশান্তি শুরু হয়। ঘটনার ২০-২২ দিন পর তরুনীর পরিবার বিষয়টি এলাকাবাসীকে জানায় জাহিদুল তার ঘরে ঢুকে। তারপর এলাকাবাসীদের মাঝে কানাঘুষা শুরু হয়।
বিষয়টি নিয়ে কয়েকজন গ্রামের মোড়ল থানা পুলিশসহ বিভিন্ন মহলকে ম্যানেজ করার কথা বলে অভিযুক্তের কাছ থেকে প্রায় ১ লাখ টাকা নিয়ে আত্মসার্ত করে। অবশেষে ঘটনাটি থানা পর্যন্ত গড়ায়। ঘটনায় তরুনীর মা বাদী হয়ে জাহিদুলের বিরুদ্ধে মামলা করেন। মামলার পর জাহিদুল পালিয়ে ছিলেন। অবশেষে আদালতে আত্মসমপর্ন করলে জামিন না মঞ্জুর করে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়।
এদিকে অভিযুক্তের পরিবার থেকে ভুক্তভোগীর পরিবারকে মামলা তুলে নিতে বিভিন্নভাবে হুমকি দেয়ার অভিযোগ উঠেছে। অবশেষে ভুক্তভোগীর পরিবার চাপে পড়ে আপোষ করতে বাধ্য হয়। তরুনীর মায়ের হাতে ৫০ হাজার টাকা দেন অভিযুক্তের বড় ছেলে সজ্জল হোসেন কুইন।
ভুক্তভোগী তরুনী বলেন, জাহিদুলের বড়-বাচ্চা আছে। তারপরও আমাকে বিয়ের প্রলোভন দিয়ে আমার ঘরে তিনদিন গেছে। আমি টাকা চাই না। আমার ধর্ষক জাহিদুলকে বিয়ে করতে চাই।
মামলার বাদী তরুনীর মা বলেন, আমরা গরীব মানুষ। একই জায়গায় বসবাস করতে হয়। ঝামেলায় আর যেতে চাই না। বিষয়টি সমাধানের জন্য জাহিদুলের ছেলে ৫০ হাজার টাকা দিয়েছে। এছাড়া বুধবার উকিলের কাছে গিয়ে আপোষ নামায় আমার স্বাক্ষর নিয়েছে। তবে তিনি স্বীকার করেন যে তার মেয়ে আপোষ নয় জাহিদুলকে বিয়ে করতে চায়।
জাহিদুল ইসলামের বড় ছেলে সজ্জল হোসেন কুইন বলেন, বিষয়টি নিয়ে মানুষের মুখে গুজব ছড়িয়েছে। সবারই সম্মানের ক্ষতি হয়েছে। ঘটনা সঠিক মনে হচ্ছে না। গুজব বা যাই হোক না কেন আমরা আপোষ করার জন্য ভুক্তভোগীর মায়ের হাতে ৫০ হাজার টাকা দিয়েছি। এখন বাবার জামিনের অপেক্ষায়।
গ্রাম্য মাতব্বর আব্দুস সামাদ বলেন, আমি একজন সমাজ সেবক। শুনেছি জাহিদুল ওই তরুনীর ঘরে গোপনে আসা-যাওয়া করত। ওই সময় প্রাথমিক অবস্থায় বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় ভাবে আপোষের চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়েছিলাম। এখন শুনছি দুই পরিবার টাকা দিয়ে আপোষের চেষ্টা করছে।
নওগাঁ সদর থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) ও মামলার তদন্ত কর্মকর্তা রবিউল ইসলাম বলেন, প্রাথমিক অবস্থায় ঘটনা সত্য মনে হয়েছে। আসামীর বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়েছে।