প্রকাশ: ১৭ মার্চ ২০২১, ২২:৫২
কোনো ট্যাগ পাওয়া যায়নি
নওগাঁ প্রতিনিধি: নওগাঁর মান্দায় কয়েলের আগুনে তিনটি বাড়ি ভষ্মিভুত হয়েছে। এ ঘটনায় আরো দুইটি বাড়ি অধিকাংশ পুড়ে গেছে। মান্দা ফায়ার সার্ভিস ষ্টেশনের দুইটি ইউনিট সাড়ে ৩ ঘন্টার ব্যবধানে আগুন নিয়ন্ত্রনে নিয়ে আসে। এতে প্রায় ৩০ লাখ টাকার মতো ক্ষতি হয়েছে। বুধবার ভোর রাতে উপজেলার গনেশপুর ইউনিয়নের গনেশপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
বুধবার সকালে মান্দা উপজেলা চেয়ারম্যান আলহাজ্ব মোল্ল্যা এমদাদুল হক, উপজেলা নিবার্হী অফিসার আব্দুল হালিম ও গণেশপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আলহাজ্জ্ব হানিফ উদ্দিন মন্ডল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে ক্ষতিগ্রস্ত ৩ পরিবারের মদ্যে নগদ ১০ হাজার টাকা ও ৫ প্যাকেট শুখনা খাবার বিতরণ করেছেন।
ফায়ার সার্ভিস ও ক্ষতিগ্রস্থ পরিবার সূত্রে জানান, প্রতিদিনের মতো মঙ্গলবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে স্থানীয় ইউপি সদস্য বিমল কুমরের গোয়াল ঘরে গরু ও ছাগল উঠানোর পর মশা নিয়ন্ত্রনে কোয়েল জ্বালিয়ে দেন। এর পর বুধবার ভোর রাতের দিকে তারা গোয়ালঘরে আগুন লাগার বিষয়টি টের পান। মুহুর্তে তা আশপাশে ছড়িয়ে পড়ে। পরিবারের লোকজনের চিৎকার শুনে এলাকাবাসী এসে আগুন নেভানোর চেষ্টা করেন। অগ্নিকান্ডে ১৪ টি গরু, ১২ ছাগল, শতাধিক হাঁস-মুরগি, ধান-চাল, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও আসবাবপত্র পুড়ে ছাই হয়ে যায়। এতে মেম্বার বিমল কুমার ও তার ভাই ধিরেন্দ্রনাথ, অমল কুমার, পরিমলকুমার এবং তপন প্রামাণিকের প্রায় ৩০ লাখ টাকার মতো ক্ষতিসাধন হয়েছে।
ক্ষতিগ্রস্থ মেম্বার বিমল কুমার বলেন, প্রতিদিনের মতো গোয়াল ঘরে মশা তাড়াতে কোয়েল জ্বালানো হয়। কোয়েলের আগুন গোয়াল ঘরের মশাড়িতে লাগার পর গোয়াল ঘরের ওপরে থাকা খড়িতে লাগে। এতে আগুন দ্রæত চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে। ১৪টি গরু,১২ ছাগল ,হাস মুরগী, ধান চাল অন্যাণ্য মালামালসহ এতে প্রায় ৩০ লাখ টাকার মতো ক্ষতিসাধন হয়েছে।প্রশাসনের সার্বিক সহযোগীতা কামনা করেন তিনি।
মান্দা ফায়ার সার্ভিস ষ্টেশনের সাব-অফিসার গোলাম সরোয়ার বলেন, সংবাদ পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে আগুন নেভানোর চেষ্টা করা হয়। কয়েলের আগুন থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়। দুইটি ইউনিট প্রায় ২ ঘন্টার ব্যবধানে আগুন নিয়ন্ত্রনে নিয়ে আসে। তবে তিনটি বাড়ি একেবারে ভষ্মিভুত হয়ে যায়। আর দুইটি বাড়ির আংশিক ক্ষতিগ্রস্থ হয়। এতে প্রায় ৩০ লাখ টাকার মতো ক্ষতিসাধন হয়েছে বলে ধারনা করা হচ্ছে।
মান্দা উপজেলা নিবার্হী অফিসার ( ইউএনও ) মো. আব্দুল হালিম বলেন, অগ্নিকান্ডে ক্ষতিগ্রস্ত ৩ পরিবারের মধ্যে নগদ ১০ হাজার টাকা ও ৫ প্যাকেট শুখনা খাবার বিতরণ করা হয়েছে। সেই সাথে বুধবার বিকেলে জেলা প্রশাসকের দপ্তরে ক্ষয়ক্ষতির রিপোট পাঠানো হয়েছে। এরপর জেলা জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাদেরকে দ্রুতই সহায়তা করা হবে বলে আশা করছেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার আব্দুল হালিম।