প্রকাশ: ২৭ ডিসেম্বর ২০২০, ১৪:১৬
ভূরুঙ্গামারী (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধি : ‘ক্ষতিগ্রস্ত সেতু ভারী যানবাহন চলাচল নিষেধ’ লেখা লাল রঙের সাইনবোর্ড লাগানো বাঁশের খুঁটি দাঁড়িয়ে আছে সেতুর গর্তে। গর্ত এড়িয়ে কোনমতে চলাচল করছে ছোট আকারের যানবাহন। কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারীর বাগভান্ডার সড়কের পূর্ব বাগভান্ডার এলাকায় এমন একটি সেতু বেশকিছু দিন যাবত ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় পড়ে রয়েছে। সেতুটি ভেঙে পড়ায় আশপাশের কয়েক গ্রামের মানুষকে যাতায়াতের ক্ষেত্রে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। ঝুঁকি নিয়ে ভাঙা সেতু দিয়ে চলাচল করায় পথচারীরা প্রায়শই দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছেন।
সরেজমিনে দেখা যায়, পূর্ব-পশ্চিম লম্বা সেতুটির পশ্চিম দিকের পাটাতনের অনেকটা অংশ ধ্বসে গিয়ে গর্তের সৃষ্টি হয়েছে এবং অবশিষ্টাংশ ভেঙে গিয়ে ঝুলে রয়েছে। ভাঙা এই সেতুটির পূর্ব দিকে রয়েছে পূর্ব বাগভান্ডার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও একটি ক্বওমী মাদরাসা। পশ্চিম দিকে রয়েছে বাগভান্ডার দ্বি-মূখী উচ্চ বিদ্যালয় ও বাগভান্ডার বিওপি। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ছাত্রছাত্রী ও বিজিবি সদস্য সহ কয়েক হাজার মানুষ প্রতিদিন ঝুঁকি নিয়ে ভাঙা সেতু দিয়ে যাতায়াত করছে।
বাগভান্ডার গ্রামের অটোরিকশা চালক বারেক জানান, পরিবারের সদস্যদের মুখে খাবার তুলে দিতে বাধ্য হয়ে প্রতিদিন ভাঙা সেতুর উপর দিয়ে যাত্রী নিয়ে উপজেলা সদরে যাওয়া-আসা করছি। এলাকাবাসী জানায়, সম্প্রতি একজন মোটরসাইকেল চালক সেতুর গর্তে পড়ে গিয়ে মারাত্মক আহত হন। তাঁঁরা আরো জানান, সেতুটি ভারী যানবাহন চলাচলের অনুপযোগী হওয়ায় এ্যাম্বুলেন্স, ফায়ার সার্ভিসের গাড়ি সহ অন্যান্য সরকারি দপ্তরের গাড়ি জরুরী প্রয়োজনে সরাসরি ওই এলাকায় যেতে পারছে না।
দুর্ঘটনার শিকার একজন পুলিশ সদস্য জানান, ছুটিতে বাড়ি এসে জরুরী প্রয়োজনে বাগভান্ডার গিয়ে মোটরসাইকেল সমেত ভাঙা সেতুর গর্তে পড়ে গিয়ে গুরুত্বর আহত হই। এলজিইডি অফিস সূত্রে জানা গেছে সেতুটির দৈর্ঘ্য ৭ মিটার ও প্রস্থ ৬ মিটার। ভূরুঙ্গামারী উপজেলা প্রকৌশলী এন্তাজুর রহমান জানান, সেতুটি নতুন ভাবে নির্মাণের জন্য উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নিকট প্রকল্প প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ ভাঙা সেতুটি পরিদর্শন করেছেন। দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।