প্রকাশ: ২১ ডিসেম্বর ২০২১, ৩:৫৬
বাজারে শীতকালীন সবজির মধ্যে শিম বেশ জনপ্রিয় একটি সবজি। শীত মৌসুম শুরুর দিকে উৎপাদন কম হয় শিমের। বাজারে তুলনামূলক ভাবে দামও বেশি থাকে। কয়েক বছর ধরে শিম চাষে লাভবান হওয়ায় মেহেরপুরের চাষিরা শিম চাষে ঝুঁকে পড়েছেন।
প্রাকৃতিক দুর্যোগহীন চলতি মৌসুমে শিম বিক্রি করে চাষিরা স্বচ্ছল হচ্ছেন। যার ফলে শিম চাষ বৃদ্ধি পাচ্ছে মেহেরপুরের মাঠ জুড়ে। জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্যমতে, জেলার ৩টি উপজেলার বিভিন্ন মাঠে ৫৫০ হেক্টর জমিতে শিম চাষ হয়েছে। যার মধ্যে সদর উপজেলায় ৩০০ হেক্টর এবং মুজিবনগর ও গাংনী উপজেলায় ১৫০ হেক্টর জমিতে শিম চাষ হয়েছে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, মেহেরপুর সদর উপজেলার পিরোজপুর ইউনিয়নের বারাদি, পাটকেলপোত, কাঁঠালপোতা, সোনাপুর এবং গাংনী উপজেলার হাড়াভাঙ্গা, সাহেবনগর, পীরতলা, ভবানিপুরসহ বেশ কয়েকটি গ্রামের মাঠে প্রচুর পরিমাণ শিম চাষ হয়েছে। মাঠের পর মাঠ শিম ফুলে ভরে উঠেছে। চাষি শিমক্ষেতে সেচ ও কীটনাশক দিচ্ছেন। কেউ করছেন শিম গাছের পরিচর্যা। আবার কেউ বা তুলছেন শিম।
গাংনী উপজেলার হাড়াভাঙ্গা গ্রামের কৃষক সাজ্জাদ রানা বলেন, আমরা শীতের আগেই ক্ষেত প্রস্তুত করে শিম বীজ বপন করি। শিম বিক্রি করে বেশ লাভবান হয়েছি আমিসহ অনেকেই। আমাদের এলাকায় শীতের পাশাপাশি গরমেও শিমের ব্যাপক চাষ হচ্ছে।
নতুন চাষ পদ্ধতি অবলম্বন করে অনেকেই হয়েছেন স্বাবলম্বী। শিমে অন্যান্য সবজির মতো ভাইরাস নেই বললেই চলে। সব ধরনের মাটিতেই শিমের চাষ হয়। বাড়ির চালে, মাচায়, রাস্তা কিংবা পুকুর পাড় এমনকি জমির আইলে এসবজি চাষ করা যায়। বাজারে শিমের চাহিদা ভালো, দামও বেশি, তাই গ্রীষ্মেও শিম চাষে ঝুঁকছেন এ অঞ্চলের চাষিরা।
সাহেব নগর গ্রামের শিম চাষি আব্দুল জব্বার বলেন, আমি প্রতিবছর কমবেশি শিম চাষ করি। সব মিলিয়ে প্রতিবছরেই লাভবান হয়। সামনে বছরে শিম চাষ আরো বেশি করে করার ইচ্ছে আছে।
শিম ব্যবসায়ী সুজন বলেন, আগে অন্য এলাকায় থেকে শিম কিনে আনতে হতো। কিন্তু এখন নিজ এলাকায় শিম চাষ হচ্ছে। যার ফলে আর দূরে যেতে হয়না শিম কিনতে। এতে খরচ বাঁচে এবং কৃষকের সাথে আমারও লাভ হয়।
মেহেরপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক স্বপন কুমার খাঁ বলেন, মেহেরপুরের মাটি সবজি চাষের জন্য অনেক ভালো। এবছর মেহেরপুর ৩ উপজেলার বিভিন্ন মাঠে ৫৫০ হেক্টর জমিতে শিম চাষ হয়েছে। শিমের ফলন ভালো হয়েছে। কৃষক ভালো দাম পাচ্ছেন। কৃষকদের সব ধরনের সহযোগিতার জন্য কৃষি বিভাগ সবসময় পাশে রয়েছে।