প্রতারণার মামলায় ধামরাইয়ে সেচ্ছাসেবক লীগ নেতা জেলহাজতে

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: শুক্রবার ১২ই মার্চ ২০২১ ০৫:২৮ পূর্বাহ্ন
প্রতারণার মামলায় ধামরাইয়ে সেচ্ছাসেবক লীগ নেতা জেলহাজতে

ধামরাই উপজেলা সেচ্ছাসেবক লীগের সহসভাপতি ও কালামপুর বাজার বণিক সমিতির সভাপতি মোঃ রবিউল করিম রোবেলকে প্রতারণার মামলায় জামিন না মঞ্জুর করে জেলহাজতে পাঠিয়েছে আলাদত।বুধবার (১০ মার্চ) দুপুরে মানিকগঞ্জ ৪নং সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে জামিন নিতে গেলে বিজ্ঞ বিচারক তার জামিন আবেদন না মঞ্জুর করে তাকে জেলহাজতে প্রেরণ করেন। সি আর মামলা নং- ২৫৬


মামলা সূত্রে জানা যায়,  টাঙ্গাইল জেলার নাগরপুর থানার জয়ভাগ গ্রামের মোঃ আজম মিয়া (৪২) একজন সহজ সরল আইন মান্যকারী। অন্য দিকে আসামী ঢাকা জেলার ধামরাই উপজেলার মৃত আহাম্মেদ আলীর ছেলে কালামপুর বাজার বণিক সমিতির সভাপতি ও উপজেলা স্বেচ্ছাসেবকলীগের সহ-সভাপতি মোঃ রবিউল করিম রোবেল অত্যন্ত অসৎ পরধন লোভী বিশ্বাস ভঙ্গকারী প্রতারক শ্রেণীর লোক।


বাদী মোঃ আজম মিয়ার এক আত্নীয়ের বন্ধুত্বের সূত্র ধরে আসামী মোঃ রবিউল করিম আজম মিয়ার সাথে সুসম্পর্ক গড়ে তুলে। প্রতারক রবিউল করিম আজম মিয়ার সাথে সুসম্পর্ক গড়ে তোলার পরে একদিন আজম মিয়াকে (বাদীকে) প্রস্তাব করেন তার ছেলেকে সামরিক বাহিনীতে সৈনিক পদে চাকুরী দিয়ে দিবেন।


বাদী সরল বিশ্বাসে ছেলের ভবিষ্যৎ এর কথা চিন্তা করে রবিউলের প্রস্তাবে রাজি হলে চাকুরির জন্য ১০ লক্ষ টাকা দাবি করে প্রতারক রবিউল করিম।  বাদী আজম মিয়া টাকা দিতে রাজি হোন। প্রতারক রবিউল করিম পরে বাদীর ছেলেকে দিয়ে চাকরির জন্য গত ২৩/০৫/২০১৮ তারিখে সামরিক বাহিনীতে নিয়োগের জন্য অনলাইনে আবেদন করায়। এর পরই টাকা দেয়ার জন্য চাপ দেয়। 


পরে  ০১/১২/২০১৮ তারিখে  মানিকগঞ্জ জেলার দৌলতপুর থানার আগ কলিয়া এলাকার মৃত নজিমুদ্দিনের ছেলে মোঃ এলাহী মিয়ার ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে মোঃ সাগর আহম্মেদ, মোঃ ফয়জুল ইসলামসহ আরো কয়েকজন সাক্ষীর সামনে থেকে প্রতারক রবিউল করিম ৭ লাখ টাকা নিয়ে আসে। এর পর আসামী রবিউল করিম ০৫/১২/২০১৮ তারিখে একই স্থান থেকে আরো ৩ লাখ টাকা নিয়ে আসে। এবং বাদী আজম মিয়াকে বলে এক মাসের মধ্যে আপনার ছেলে চাকুরিতে যোগদান করবে। 


পরে আজম মিয়ার ছেলের চাকুরি না হওয়ায় সাক্ষীগণের উপস্থিতিতে চাকুরীর জন্য ১০ লাখ টাকা আসামী রবিউলের কাছে ফেরত চাইলে তার টাকা ফেরত না দিয়ে টাকা নেয়ার কথা অস্বীকার করে। এবং বাদীসহ সব সাক্ষীগণকে ২০/২৫ জন মাস্তান দিয়ে প্রাণ নাশের হুমকি প্রদান করে। এছাড়াও তাদের মিথ্যা মামলায় ফাঁসানোর হুঁমকী দিয়ে রবিউলের বাড়ি থেকে তারিয়ে দেয়। 


এর পরে বাদী নিরুপায় হয়ে ২০১৯ সালে আসামী রবিউল করিমের বিরুদ্ধে মানিকগঞ্জ ৪নং সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে একটি প্রতারণার মামলা দায়ের করে। পরে চলতি বছরে এ মামলায় প্রতারক রবিউল করিমের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরওয়ানা জারি করে আদালত । 


বুধবার (১০ মার্চ) দুপুরে মানিকগঞ্জের বিজ্ঞ সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ৪নং আদালতে প্রতারক রবিউল করিম এ মামলায় জামিন নিতে গেলে তার জামিন না মঞ্জুর করে বিজ্ঞ বিচারক তাকে জেলহাজতে প্রেরণ করেন। 


বাদী আজম মিয়া বলেন, আমার আত্মীয় মানিকগঞ্জ জেলার দৌলতপুর থানার আগ কলিয়া গ্রামের এলাহী মিয়ার সঙ্গে বন্ধুত্বের সুবাদে আমার ছেলেকে সামরিক বাহিনীর সৈনিক পদে চাকুরি দেয়ার কথা বলে রবিউল করিম রোবেল আমার কাছ থেকে ১০লাখ টাকা হাতিয়ে নেয়। চাকুরি না দিলে তার কাছে টাকা ফেরত চাই।


টাকা না দিয়ে উল্টো আমাকে মামলায় ফঁসানোর হুমকী দেয় ওই প্রতারক। ফলে নিরুপায় হয়ে আদালতে মামলা দায়ের করি। এ মামলায় আদালত তার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরওয়ানা জারি করেন। পরে সে বুধবার  আদালতে জামিন নিতে গেলে আদালত তাকে জামিন না দিয়ে জেলহাজতে প্রেরণ করেন। এ ঘটনা ছাড়াও রবিউলের বিরুদ্ধে ধামরাই থানায় একাধিক অভিযোগ রয়েছে।