শনিবার, ১৩ জুন, ২০২৬৩০ জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩
logo
ENকনভার্টার
  • জাতীয়
  • রাজনীতি
  • আন্তর্জাতিক
  • বিনোদন
  • সম্পাদকীয়
  • খেলাধুলা
    • বিশ্বকাপ
    • ক্রিকেট
    • ফুটবল
    • অন্যান্য খেলাধুলা
  • বাংলাদেশ
  • বিবিধ খবর
  • বিশেষ প্রতিবেদন
  • অন্যান্য
    • আইন-আদালত
    • সাহিত্য
    • প্রবাস জীবন
    • কৃষি
    • বাংলাদেশে করোনা
    • গনমাধ্যম
    • আবহাওয়া
    • জাতীয় সংসদ নির্বাচন
    • ভাইরাল টপিক
    • অর্থনীতি
    • ব্যবসা ও বাণিজ্য
    • বিজ্ঞান-প্রযুক্তি
    • অপরাধ
    • স্বাস্থ্য
    • ধর্ম
    • বন্যা পরিস্থিতি
    • জনদুর্ভোগ
    • প্রতিবেশী
    • পর্যটন
    • মজার খবর
    • শিক্ষা
    • শেয়ার বাজার
    • চাকুরী
    • লাইফস্টাইল
অনুসন্ধান
logo
  • জাতীয়
  • রাজনীতি
  • আন্তর্জাতিক
  • বিনোদন
  • সম্পাদকীয়
  • খেলাধুলা
  • বাংলাদেশ
  • বিবিধ খবর
  • বিশেষ প্রতিবেদন
  • অন্যান্য
logo
  • হোম
  • জাতীয়
  • রাজনীতি
  • আন্তর্জাতিক
  • বিনোদন
  • সম্পাদকীয়
  • খেলাধুলা
  • বাংলাদেশ
  • বিবিধ খবর
  • বিশেষ প্রতিবেদন
  • অন্যান্য
  • অনুসন্ধান করুন
  • সোশ্যাল মিডিয়াতে আমরা
Logo

সম্পাদক : মোঃ শওকত হায়দার (জিকো)

প্রকাশক : ইনিউজ৭১ মিডিয়া লিমিটেড

হাউজ: নাম্বার ৫৫ , দ্বিতীয় তলা, রোড নাম্বার ৬/এ , সেক্টর - ১২ উত্তরা, ঢাকা - ১২৩০ ।

ফোন: +880 258 053 897, ইমেইল: [email protected] , [email protected]

গোপনীয়তার নীতি

ব্যবহারের শর্তাবলি

যোগাযোগ

আমাদের সম্পর্কে

আমরা

সোশ্যাল মিডিয়াতে আমরা

স্বত্ব © ইনিউজ৭১.কম

ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

ধর্ম

বিশ্বনবির প্রতি সাহাবাদের ভালোবাসা যেমন ছিল

Ziaul Hoque
জিয়াউল হক, নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশ: ১২ ডিসেম্বর ২০২০, ১৫:৫৮

শেয়ার করুনঃ
বিশ্বনবির প্রতি সাহাবাদের ভালোবাসা যেমন ছিল

প্রিয় নবি হজরত মুহাম্মাদুর রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে ভালোবাসা পরিপূর্ণ ঈমানদার হওয়ার অন্যতম শর্ত। কেমন ভালোবাসতে হবে প্রিয় নবিকে? আর সাহাবায়ে কেরাম কেমন ভালোবাসতে তাঁকে? তাঁকে ভালোবাসার বিষয়ে কী বলেছেন তিনি? মুমিন মুসলমানের ঈমান পরিপূর্ণ হয়েছে কিনা তা বুঝার অন্যতম মাপকাঠি হচ্ছে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের ভালোবাসা। কেননা প্রিয় নবির সঙ্গে হজরত ওমর রাদিয়াল্লাহু আনহুর এ সম্পর্কিত আলোচনাই তার প্রমাণ-

হজরত ওমর রাদিয়াল্লাহু আনহু নবিজীকে বললেন, ইয়া রাসুলাল্লাহ! আপনাকে সবচেয়ে বেশি ভালবাসি, তবে নিজের জানের চেয়ে বেশি নয়। নবিজী বললেন, ওহু! তাহলে তো এখনো (ঈমান পরিপূর্ণ) হয়নি। যার হাতে আমার প্রাণ তাঁর শপথ! যতক্ষণ না আমি তোমার জানের চেয়েও বেশি প্রিয় না হব ততক্ষণ তোমার ঈমান পূর্ণ হবে না।কিছুক্ষণ পর হজরত ওমর রাদিয়াল্লাহু আনহু বললেন, আল্লাহর শপথ! এখন আপনি আমার কাছে আমার জানের চেয়েও বেশি প্রিয় হয়ে গেছেন। নবিজী বললেন, ‘হ্যাঁ’, ওমর! এখন তোমার ঈমান পূর্ণ হয়েছে।’ (বুখারি)

হজরত আনাস রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, তোমাদের কেউ ততক্ষণ পরিপূর্ণ ঈমানদার হতে পারবে না, যতক্ষণ না আমি তার কাছে তার বাবা-মা, সন্তান-সন্ততি ও সব মানুষের চেয়ে বেশি প্রিয় না হব।’ (বুখারি) সাহাবায়ে কেরাম প্রিয় নবিকে ভালোবাসতেন তাদের জানের চেয়েও বেশি। মুমিন মুসলমানের জন্য এ ভালোবাসাই পরিপূর্ণ ঈমানদার হওয়ার অন্যতম শর্ত। আসুন জেনে নিই- প্রিয় নবির প্রতি সাহাবাদের ভালোবাসা কেমন ছিল-

আরও

শুক্রবারের বিশেষ মুহূর্তে মুমিনের দোয়া হয় কবুল

শুক্রবারের বিশেষ মুহূর্তে মুমিনের দোয়া হয় কবুল
হজরত আবু বকর রাদিয়াল্লাহু আনহু ভালোবাসা তিনি বিশ্বনবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের ভালোবাসায় ধন-সম্পদসহ সব কিছুই ত্যাগ করেছিলেন। নিজে না খেয়ে তাকে খাওয়ানোতেই পেতেন সবচেয়ে বেশি তৃপ্তি। মক্কা থেকে মদিনার সফরের সময় ভেড়ার দুধ পানে পিপাসা নিবারণ করলেন প্রিয় নবি আর তৃপ্ত হলেন হজরত আবু বকর রাদিয়াল্লাহু আনহু। তিনি বলেন, ‘মক্কা থেকে মদিনায় যাওয়ার সময় আমরা এক রাখালের কাছ দিয়ে যাচ্ছিলাম। সে সময় বিশ্বনবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম খুব পিপাসার্ত। আমি ভেড়ার দুধ দোহন করলাম। তিনি তা পান করলেন, আমি খুব আনন্দিত হলাম। সত্যি বলতে কি, নবীজির দুধ পান দেখে আমি তৃপ্ত হয়ে গেলাম।’ (বুখারি)

ধর্ম
https://enews71.com/storage/ads/01KTB48CFAEJRYTN4T9G053ER9.png

সোশ্যাল মিডিয়াতে আমরা

https://enews71.com/storage/ads/01KQAGP3MQSHQ8RXANFF54S1W4.jpg
মৃত্যুশয্যায় হজরত আবু বকর

হজরত আবু বকর রাদিয়াল্লাহু আনহু মৃত্যু শয্যায় থাকা অবস্থায় জিজ্ঞাসা করলেন- হে আয়েশা! নবিজী কোনদিন ইন্তেকাল করেছিলেন? হজরত আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহু জানালেন- ‘সোমবার’। তিনি বললেন, আজ কী বার? জবাব এলো- সোমবার। তিনি বললেন, হায় যদি আমার মৃত্যু রাতের আগেই হতো!’ (বুখারি)

নবি পরিবারের প্রতি আবু বকরের ভালোবাসা

আরও

ইসলামে পর্দা নারীর মর্যাদা ও নিরাপত্তার ঢাল

ইসলামে পর্দা নারীর মর্যাদা ও নিরাপত্তার ঢাল
হজরত ফাতিমা রাদিয়াল্লাহু আনহা একবার হজরত আলি রাদিয়াল্লাহু আনহুকে নবিজীর মিরাস (উত্তরাধিকার) চেয়ে হজরত আবু বকর রাদিয়াল্লাহু আনহুর কাছে পাঠালেন।আবু বকর রাদিয়াল্লাহু আনহু বললেন, হে আলি, নবির মিরাস তো বন্টণ হয় না! (কেননা) নবিজী বলে গেছেন, ‘আমরা যা রেখে গেছি, তা সদকা হিসেবে বিবেচিত হবে, নবি-পরিবার যতদিন থাকবে; এ সম্পদ থেকে তাদের ভরণপোষোণের ব্যবস্থা করা হবে। নবিজীর যুগে এসব সম্পদ যে নিয়মে খরচ হত আমিও সে নিয়মেই খরচ করব। এতে কোনো পরিবর্তন হবে না।

আলি রাদিয়াল্লাহু আনহু তখন অধিকারের কথা বললেন। নবীজির সাথে তাঁদের আত্মীয়তার বিষয়টি সামনে আনলেন। হজরত আবু বকর জবাবে বললেন- দেখো আলি! আমার নিজের আত্মীয়তার বন্ধন রক্ষার চেয়েও আমার কাছে নবিজীর আত্মীয়তার সম্পর্কগুলোর গুরুত্ব ও মর্দাযা অনেক বেশি।’ (বুখারি)

হজরত ওমরের ভালোবাসা

হজরত আব্দুল্লাহ ইবনে ওমর রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, একদিন আব্বাকে (হজরত ওমর) বললাম, হজরত উসামা রাদিয়াল্লাহু আনহুকে আমার চেয়ে দ্বিগুণ ভাতা দেন কেন? অথচ নবিজীর সঙ্গে তাঁর চেয়ে আমি বেশি যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছি। আব্বাজান হজরত ওমর রাদিয়াল্লাহু আনহু জবাব দিলেন-দেখো! উসামার আব্বা হজরত যায়দ তোমার আব্বা (ওমরের) চেয়ে আল্লাহর রাসুলের বেশি প্রিয় ছিলেন। আর উসামা তোমার তুলনায় আল্লাহর রাসুলের বেশি প্রিয়জন ছিল। আমি আমার ভালোবাসাকে রাসুলের ভালোবাসার উপর প্রাধান্য দিতে পারি না।

নবির ভালোবাসায় প্রাধান্য লাভ

হজরত আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু মক্কা বিজয়ের দিন আবু সুফিয়ানকে প্রিয় নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কাছে নিয়ে আসলেন। তখনও আবু সুফিয়ান ইসলাম গ্রহণ করেনি; বরং কাফেরদের সরদার। এমন সময় হজরত ওমর রাদিয়াল্লাহু আনহু বিশ্বনবির কাছে আবু সুফিয়ানকে হত্যার অনুমতি চাইলেন।

এবার হজরত আব্বাস বললেন, হে ওমর! একটু শান্ত হও। আবু সুফিয়ান যদি তোমার গোত্রের কেউ হতো তবে তুমি এমনটি করতে না। হজরত ওমর বললেন, থামুন আব্বাস! শুনুন, আমার কাছে তোমার ইসলাম গ্রহণের মর্যাদা আমার বাবা খাত্তাবের ইসলাম গ্রহণ অপেক্ষা অনেক বেশি আনন্দের ছিল। তা কেন জানো? আমি জানতাম; তুমি ইসলাম গ্রহণ করলে নবিজী (তোমার ভাতিজা) বেশি খুশি হবেন। হায়! আমার পিতাও যদি মুসলমান হতেন।’ (মুসলিম)

হজরত সাওয়াদ রাদিয়াল্লাহু আনহুর ভালোবাসা

বদর যুদ্ধের সময় রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যুদ্ধে সারি সোজা করছেন। তাঁর হাতে একটি তীর ছিল। হজরত সাওয়াদ রাদিয়াল্লাহু আনহু (ইচ্ছাকৃতভাবে) সারির একটু সামনে দাঁড়িয়ে যান। বিশ্বনবি তার সামনে এসে তাকে তীর দিয়ে মৃদু খোঁচা দেন; আর বলেন, সারি সোজা করে দাঁড়াও।এবার হজরত সাওয়াদ রাদিয়াল্লাহু আনহু নবিজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে বলেন, আপনি আমাকে তীর দিয়ে খোঁচা দিয়ে কষ্ট দিয়েছেন। আমি প্রতিশোধ নিতে চাই।নবিজী সাওয়াদের হাতে তীর দিলেন আর নিজের পেট থেকে কাপড় সরালেন এবং সাওয়াদকে প্রতিশোধ নিতে বললেন। এ সুযোগে সাওয়াদ রাদিয়াল্লাহু আনহু নবিজীকে জড়িয়ে ধরলেন এবং চুমু খেতে শুরু করলেন।নবিজী বললেন, সাওয়াদ! এমনকি করলে কেন? তিনি বললেন, ‘ইয়া রাসুলাল্লাহ! সামনে যুদ্ধ। বাঁচবো কিনা মরবো জানিনা। মৃত্যুর আগে আপনার শরীরের একটু স্পর্শ পাওয়ার জন্যই এমনটি করেছি।’ (সীরাতে ইবনে হিশাম)

-হজরত উসাইদ রাদিয়াল্লাহু আনহুর ভালোবাসা

https://enews71.com/storage/ads/01KQAFXVCPZYMHSTP1NK7D37C5.jpg
হজরত উসাইদ ইবনে হুদাইর রাদিয়াল্লাহু আনহু আশপাশের মানুষের সঙ্গে কথা বলছিলেন আর রসিকতা করে শ্রোতাদের হাসাচ্ছিলেন। এমন সময় নবিজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম একটি কাঠের টুকরা দিয়ে তার পেটে খোঁচা দিলেন।এবার হজরত উসাইদ বললেন, হে আল্লাহর নবি! আমাকের এর বদলা নিতে দিন। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন- ঠিক আছে, বদলা নাও।হজরত উসাইদ বললেন, আপনার গায়ে তো জামা আছে, অথচ আমার গায়ে জামা ছিলো না। নবিজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর গায়ের জামা খুললেন।তখন হজরত উসাইদ রাদিয়াল্লাহু আনহু প্রিয় নবিকে জড়িয়ে ধরে তাঁর এক পাশে চুমু দিতে লাগলেন আর বললেন- ‘আপনার বরকত পাওয়ার জন্যই আমি এমনটি করেছি, ইয়া রাসূলাল্লাহ!’ (আবু দাউদ)

হজরত সুমাইয়ার ভালোবাসা

ওহুদের যুদ্ধ শেষ। বিশ্বনবিসহ সাহাবাগণ যুদ্ধক্ষেত্র থেকে মদিনায় ফিরছিলেন। তারা বনূ দীনার গোত্রের পাশ দিয়ে যখন যাচ্ছিলেন তখন হজরত সুমাইয়া বিনতে কায়েসের সঙ্গে সাক্ষাৎ হয়। যুদ্ধ ফেরত সাহাবারা হজরত সুমাইয়াকে জানালেন, তোমার স্বামী, ভাই ও বাবা যুদ্ধে শহিদ হয়েছেন।ওয়াকেদির বর্ণনায় জানা যায়, হজরত সুমাইয়া বিনতে কায়েস তার স্বামী, ভাই ও বাবার শাহাদাতের কথা শোনার পরও কোনো প্রতিক্রিয়া না দেখিয়ে জানতে চাইলেন- নবিজী কেমন আছেন? তিনি বেঁচে আছেন তো!তারা (যুদ্ধ ফেরত সাহাবারা) বললেন, ‘আপনি যেমন কামনা করছেন। আলহামদুলিল্লাহ! তিনি ভাল আছেন। এবার হজরত সুমাইয়া বললেন, ‘তাহলে তাঁকে একটু দেখাও। আমি তাঁর জ্যোতির্ময় চেহারা মোবারক একটু দেখে নেই।

রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের প্রতি ইশারা করে তাঁকে দেখানো হল। দেখা মাত্রই তিনি চিৎকার করে বলে উঠলেন-হে আল্লাহর রাসুল! আপনাকে সুস্থ পাবার পর সব বিপদ (স্বামী, ভাই ও বাবার মৃত্যু) আমার কাছে তুচ্ছ।’ অর্থাৎ এখন আর আমার মনে আমার স্বামী, ভাই বা বাবাকে হারানোর কোনো কষ্ট নেই। আপনাকে সুস্থ পেয়ে সব কিছুই আমি ভুলে গেছি।’ (আলবিদায়া ওয়ান নিহায়া, আলকামিল)

 হজরত উম্মে হাবিবা রাদিয়াল্লাহু আনহার ভালোবাসা

কুরাইশ নেতা আবু সুফিয়ানের কন্যা হজরত উম্মে হাবিবাহ। তিনি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের স্ত্রী। মক্কা বিজয়ের আগে অষ্টম হিজরিতে আবু সুফিয়ান মদিনায় এসে তার (কন্যা উম্মে হাবিবার) ঘরে গেলেন।আবু সুফিয়ান ঘরে প্রবেশ করে বিশ্বনবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের বিছানায় বসতে গেলে নবি পত্নী উম্মে হাবিবাহ রাদিয়াল্লাহু আনহা বিছানা গুটাতে শুরু করলেন এবং বসতে বারণ করলেন।আবু সুফিয়ান তা দেখে বিস্মিত হলেন। তাঁকে জিজ্ঞাসা করলেন- মা, আমি কি এ বিছানায় বসার উপযুক্ত নই! এবার হজরত উম্মে হাবিবাহ রাদিয়াল্লাহু আনহা বলেন, এটা রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের বিছানা। আর তুমি মুশরিক; অপবিত্র।

তাই আমি চাই না যে, তুমি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের বিছানায় বস। এ কথা শুনে আবু সুফিয়ান মেয়ের ঘর থেকে বের হয়ে অন্যত্র চলে গেলেন।’ অর্থাৎ বিশ্বনবির ভালোবাসা ও সম্মানের কাছে আপন পিতাও ছিল তুচ্ছ। (আল বিদায়া ওয়ান নিহায়া, গযওয়াতুল ফাতহ)

হজরত আবু তালহা রাদিয়াল্লাহু আনহুর ভালোবাসা

ওহুদ্ধের ঘটনা। বিশ্বনবির নিরাপত্তায় কাফের অবিশ্বাসীদের নিক্ষেপ করা তীরের সামনে নিজের বুক পেতে দেন। অবিশ্বাসী কুরাইশদের পাল্টা আক্রমণে মুসলিম বাহিনী সাময়িক ছত্রভঙ্গ হয়ে পড়ে। এ সময় কাফেরা নবিজী ও সাহাবাদের প্রতি প্রচণ্ড আক্রমণ করে বসে। সে সময় বিশ্বনবি সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের নিরাপত্তায় কাফেরদের আক্রমণ প্রতিহত করতে থাকেন হজরত তালহা রাদিয়াল্লাহু আনহু।হজরত তালহা রাদিয়াল্লাহু আনহুর নিরাপত্তা বেষ্টনীর মধ্যে থেকে ময়দানের অবস্থা দেখতে মাথা উঁচু করলেন বিশ্বনবি। এ সময় হজরত তালহা রাদিয়াল্লাহু আনহু বলে উঠলেন-ইয়া রাসুলুল্লাহ! আমার মা-বাবা আপনার জন্য কুরবান হোক! আপনি উঁকি দেবেন না; মাথা উঁচু করবেন না। (কাফেরদের নিক্ষেপ করা তীর আপনার পবিত্র দেহে লাগতে পারে। আমার বুক আপনার বুকের সামনে উৎসর্গিত।’ (বুখারি)

হজরত ওরওয়াহ ইবনে মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহুর বর্ণনা

বিশ্বনবির প্রতি সাহাবাদের ভালোবাসার বর্ণনা করেন হজরত ওরওয়াহ ইবনে মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহু। তিনি ইসলাম গ্রহণের আগে হুদাইবিয়ার সন্ধির সময় মুশরিকদের পক্ষে কথা বলতে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কাছে গিয়েছিলেন। হুদাইবিয়া থেকে ফিরে ওরওয়াহ তার কাওমকে বিশ্বনবির প্রতি সাহাবাদের সম্মান ও ভালোবাসার অনুভূতি সম্পর্কে বলেছিলেন-

‘আমি অনেক রাজা-বাদশাহর কাছে প্রতিনিধি হয়ে গিয়েছি। কায়সার, কিসরা ও নাজ্জাশির দরবারেও গিয়েছি। আল্লাহর কসম! মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে তার সাহাবারা যেমন ভক্তি করে, কোনো বাদশাহর প্রতি তার সঙ্গীদের এমন ভক্তি আমি আর কোথাও দেখিনি। আল্লাহর কসম! তিনি থুতু ফেললে তাঁর সঙ্গীদের কেউ না কেউ তা হাতে নিয়ে সঙ্গীদের চেহারায় ও শরীরে মেখে ফেলে। তিনি যখন কোনো আদেশ করেন, তখন তারা তাঁর আদেশ পালনে ঝাঁপিয়ে পড়ে। আর যখন তিনি অজু করেন তখন তাঁর ওজুতে ব্যবহৃত পানি পাওয়ার জন্য প্রায় লড়াই বেধে যাওয়ার মত অবস্থা হয়ে যায়।’ (বুখারি)

এ ছিল বিশ্বনবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের প্রতি সাহাবায়ে কেরামের প্রতি ভালোবাসার নমুনা।মুমিন মুসলমানের কাছে বিশ্বনবির ভালোবাসা আজও বিদ্যমান। যে কারণে এখনও বিশ্বের যে কোনো প্রান্তে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কোনো দুষমন যদি কোনো কথা বা আক্রমণ কিংবা কটাক্ষ করে; সঙ্গে সঙ্গে প্রতিবাদ, প্রতিরোধ ও ক্ষোভে ফুঁসে ওঠে মুসলিম বিশ্ব।বিশ্বনবির প্রতি অবমাননায় ক্ষোভ, প্রতিবাদ, প্রতিরোধ কোনো সাধারণ বিষয় নয়, এটি মুমিন মুসলমানের পরিপূর্ণ ঈমানদার হওয়ার অগ্নি পরীক্ষা। এ পরীক্ষায় পাস করলেই মুসলিম উম্মাহ হয়ে উঠবে প্রকৃত ঈমানদার।

হে আল্লাহ! আপনি উম্মতে মুহাম্মাদিকে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের প্রতি পরিপূর্ণ ভালোবাসা প্রদর্শন ও হৃদয়ে লালন করার তাওফিক দান করুন। পরিপূর্ণ ঈমানদার হিসেবে কবুল করুন। বিশ্বনবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের আদর্শ যথাযথভাবে জীবনের প্রতিটি স্তরে পালন করার তাওফিক দান করুন। আমিন।

জনপ্রিয় সংবাদ

বিতর্কিত সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করল বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক ফিফা

বিতর্কিত সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করল বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক ফিফা

ঢাকা মহানগর এখন বসবাসের অযোগ্য: মির্জা ফখরুল

ঢাকা মহানগর এখন বসবাসের অযোগ্য: মির্জা ফখরুল

রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধে সরাসরি আলোচনার প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান পুতিনের

রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধে সরাসরি আলোচনার প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান পুতিনের

বিদ্যুৎ দামের প্রভাব থেকে ৬৫ শতাংশ গ্রাহক মুক্ত

বিদ্যুৎ দামের প্রভাব থেকে ৬৫ শতাংশ গ্রাহক মুক্ত

কনটেন্ট নির্মাতা, ফ্রিল্যান্সার ও স্টার্টআপে ভ্যাট ছাড়ের প্রস্তাব

কনটেন্ট নির্মাতা, ফ্রিল্যান্সার ও স্টার্টআপে ভ্যাট ছাড়ের প্রস্তাব

সর্বশেষ সংবাদ

বাজেটে কালো টাকা সাদা করার সুযোগ নেই: এনবিআর চেয়ারম্যান

বাজেটে কালো টাকা সাদা করার সুযোগ নেই: এনবিআর চেয়ারম্যান

ভূরুঙ্গামারীতে ফারিয়ার ত্রি-বার্ষিক কমিটি গঠন, সভাপতি নুরুল ॥ সম্পাদক আশিকুর

ভূরুঙ্গামারীতে ফারিয়ার ত্রি-বার্ষিক কমিটি গঠন, সভাপতি নুরুল ॥ সম্পাদক আশিকুর

রাজনগরে মানবিক উদ্যোগে পিতৃহীন দুই কনের রাজকীয় বিয়ে

রাজনগরে মানবিক উদ্যোগে পিতৃহীন দুই কনের রাজকীয় বিয়ে

গোপালপুরে নদীতে গোসল করতে নেমে শিশুর মৃত্যু

গোপালপুরে নদীতে গোসল করতে নেমে শিশুর মৃত্যু

পাঁচবিবিতে ক্ষুদে বিজ্ঞানীদের উদ্ভাবনী মেলা

পাঁচবিবিতে ক্ষুদে বিজ্ঞানীদের উদ্ভাবনী মেলা

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন

শুক্রবারের বিশেষ মুহূর্তে মুমিনের দোয়া হয় কবুল

শুক্রবারের বিশেষ মুহূর্তে মুমিনের দোয়া হয় কবুল

মুসলিম উম্মাহর কাছে সপ্তাহের শ্রেষ্ঠ দিন হিসেবে বিবেচিত জুমার দিন। পবিত্র এই দিনে এমন একটি বিশেষ সময় রয়েছে, যখন কোনো মুসলমান আল্লাহ তাআলার কাছে দোয়া করলে তা কবুল হওয়ার সম্ভাবনা অত্যন্ত বেশি বলে হাদিসে উল্লেখ করা হয়েছে। এ কারণে জুমার দিন দোয়া, ইবাদত ও আমলের প্রতি বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে থাকেন ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা। ইসলামি গবেষকরা জানান, রাসুল (সা.) জুমার দিনের একটি বিশেষ

দৈনন্দিন জীবনে ইসলামের শিক্ষা মানবকল্যাণের পথপ্রদর্শক

দৈনন্দিন জীবনে ইসলামের শিক্ষা মানবকল্যাণের পথপ্রদর্শক

ইসলাম শুধু একটি ধর্মীয় বিশ্বাসের নাম নয়; এটি একটি পূর্ণাঙ্গ জীবনব্যবস্থা। ব্যক্তিগত, পারিবারিক, সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে ইসলামের রয়েছে সুস্পষ্ট দিকনির্দেশনা। বিশেষজ্ঞদের মতে, দৈনন্দিন জীবনে ইসলামের শিক্ষা অনুসরণ করলে ব্যক্তি যেমন নৈতিকভাবে সমৃদ্ধ হয়, তেমনি সমাজে শান্তি, সম্প্রীতি ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হয়। ইসলামে সততা, ন্যায়পরায়ণতা, সহমর্মিতা, দায়িত্ববোধ এবং মানবসেবার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। একজন মুসলমানের জন্য শুধু ইবাদত-বন্দেগি

পারস্পরিক সম্মানেই টিকে থাকে সুখী দাম্পত্য জীবন

পারস্পরিক সম্মানেই টিকে থাকে সুখী দাম্পত্য জীবন

পরিবার সমাজের মূল ভিত্তি, আর সেই পরিবারের কেন্দ্রবিন্দু হলো স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্ক। ইসলাম স্বামী ও স্ত্রীর মধ্যে পারস্পরিক ভালোবাসা, সম্মান, সহযোগিতা এবং দায়িত্বশীলতার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছে। পবিত্র কোরআন ও হাদিসে উভয়ের অধিকার ও কর্তব্য স্পষ্টভাবে বর্ণনা করা হয়েছে। ইসলাম অনুযায়ী, স্বামীর অন্যতম দায়িত্ব হলো স্ত্রীর ভরণপোষণ, নিরাপত্তা এবং মর্যাদা নিশ্চিত করা। স্ত্রীকে সম্মানজনক আচরণ করা এবং তার ন্যায্য অধিকার আদায় করা

নারী শিশুর মর্যাদা রক্ষায় ইসলামের সুস্পষ্ট নির্দেশনা

নারী শিশুর মর্যাদা রক্ষায় ইসলামের সুস্পষ্ট নির্দেশনা

নারী ও শিশুর অধিকার রক্ষায় ইসলাম একটি পূর্ণাঙ্গ ও মানবিক জীবনব্যবস্থা উপস্থাপন করেছে। ইসলাম নারী ও শিশুকে সমাজের দুর্বল অংশ হিসেবে নয়, বরং সম্মানিত ও অধিকারসম্পন্ন মানুষ হিসেবে বিবেচনা করে। পবিত্র কোরআন ও হাদিসে নারী ও শিশুর নিরাপত্তা, শিক্ষা, ভরণপোষণ, মর্যাদা এবং ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার বিষয়ে স্পষ্ট নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। ইসলাম-পূর্ব আরব সমাজে কন্যাশিশুকে অবহেলা করা হতো, এমনকি জীবন্ত কবর দেওয়ার

হঠাৎ তিনদিন হযরত মুহাম্মদ (সা.) মদিনাতে না থাকার অশ্রুশিক্ত ঘটনা

হঠাৎ তিনদিন হযরত মুহাম্মদ (সা.) মদিনাতে না থাকার অশ্রুশিক্ত ঘটনা

। হাফিজ মাছুম আহমদ দুধরচকী। নাহমাদুহু ওয়া নুসাল্লি আলা রাসূলিহিল কারীম, আম্মা বা’দ” প্রিয় পাঠকবৃন্দ, আজ আমি আপনাদের হাফিজ মাছুম আহমদ দুধরচকী, আপনাদের সামনে তুলে ধরতে চাই হঠাৎ তিনদিন হযরত মুহাম্মদ (সা.) মদিনাতে না থাকার অশ্রুশিক্ত ঘটনাটি নিয়ে সেই সম্পর্কে নিম্নে সংকিপ্ত আকারে আলোচনা তুলে ধরছি, ওয়ামা তাওফিকি ইল্লা বিল্লাহ একটি ঘটনা পরলে চোখের পানি চলে আসবে পড়তে পড়তে কখন কেঁদে ফেলেছি