
প্রকাশ: ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১৬:৩১

জাতীয় নির্বাচনের সূচনা ইতিবাচক হলেও সমাপ্তি সন্তোষজনক হয়নি বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ। তিনি অভিযোগ করেন, ভোটগ্রহণের শেষ পর্যায়ে নানা অনিয়ম নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে।
রোববার নির্বাচন কমিশনে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের সঙ্গে সাক্ষাৎ শেষে তিনি সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন। এ সময় ১১ দলীয় জোটের নেতারাও উপস্থিত ছিলেন। তারা বিভিন্ন আসনে ভোট কারচুপির অভিযোগ তুলে পুনঃগণনার দাবি জানান।
হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, এবারের নির্বাচনে বড় ধরনের সহিংসতা দৃশ্যমান না থাকলেও বিভিন্ন কেন্দ্রে অস্বাভাবিক পরিবেশ লক্ষ্য করা গেছে। তার ভাষ্য, ভোটের শুরু শান্তিপূর্ণ হলেও শেষ পর্যন্ত সেই পরিবেশ বজায় থাকেনি।
তিনি অভিযোগ করেন, কিছু কেন্দ্রে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধেই ব্যালটে সিল মারার অভিযোগ উঠেছে। পাশাপাশি দলীয় কর্মীদের বিরুদ্ধেও একই ধরনের অনিয়মের কথা উল্লেখ করেন তিনি। ভোটের সময় ভীতি প্রদর্শন ও ভোটার উপস্থিতি কমিয়ে দেওয়ার অভিযোগও তোলেন।
ভোট গণনার সময় পোলিং এজেন্টদের কেন্দ্র থেকে বের করে দেওয়া ও হুমকি দেওয়ার অভিযোগও করেন এ নেতা। তার দাবি, কোথাও কোথাও গণনার স্বচ্ছ পরিবেশ ব্যাহত হয়েছে, যার প্রভাব ফলাফলে পড়তে পারে। ফলাফল শিটে ওভাররাইটিং ও ঘষামাজার ঘটনাও চিহ্নিত হয়েছে বলে জানান তিনি।

তিনি জানান, ৩২টি আসন চিহ্নিত করা হয়েছে যেখানে স্বল্প ভোটের ব্যবধানে তাদের প্রার্থীরা পরাজিত হয়েছেন। এসব আসনে পুনঃগণনার দাবি জানানো হয়েছে। পাশাপাশি দ্রুত গেজেট প্রকাশের বিষয়েও আপত্তি তোলা হয়।

তার বক্তব্য অনুযায়ী, ভোটের পরদিন রাতেই গেজেট প্রকাশ করায় দূরবর্তী এলাকার প্রার্থীদের পক্ষে সময়মতো অভিযোগ দাখিল করা কঠিন হয়ে পড়ে। এতে ন্যায়বিচার প্রাপ্তির সুযোগ সীমিত হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
এদিকে ১১ দলীয় জোটের পক্ষ থেকে ১৬ ফেব্রুয়ারি ঢাকায় প্রতিবাদ সমাবেশ ও বিক্ষোভ মিছিলের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, সহিংসতা বন্ধ ও সংসদকে কার্যকর আলোচনার কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তুলতে রাজনৈতিক ঐক্য প্রয়োজন।
তিনি আরও বলেন, নির্বাচনের মাধ্যমে সাংবিধানিক প্রক্রিয়ায় ক্ষমতার পরিবর্তনই গণতান্ত্রিক রেওয়াজ। তবে এবারের ভোটে জনআকাঙ্ক্ষার পূর্ণ প্রতিফলন ঘটেনি বলে তার দল মনে করে। ঐক্যবদ্ধভাবে দেশ গড়ার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন তিনি।