প্রকাশ: ২০ জানুয়ারি ২০২৬, ১৯:২১

জাতীয় নির্বাচনের আগে দেশের ভবিষ্যতকে কঠিন পরীক্ষার সঙ্গে তুলনা করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন, আসন্ন নির্বাচনে নির্ধারিত হবে দেশ উদার গণতান্ত্রিকদের হাতে থাকবে নাকি উগ্রপন্থী ও রাষ্ট্রবিরোধীদের দখলে যাবে।
মঙ্গলবার রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউটে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় ফখরুল অভিযোগ করেন, বিএনপি বিপুল ব্যবধানে জয় পাবে, সেজন্য বিরোধীরা নানা ধরণের প্রতিহিংসাপরায়ণ কর্মকাণ্ড শুরু করেছে। তিনি উল্লেখ করেন, সবচেয়ে বেশি দুষ্টামি করছে তারা, যারা অতীতে বাংলাদেশকে স্বীকার করেনি এবং স্বাধীনতার পক্ষে ছিলেন না। এমনকি তারা মা-বোনদের নির্যাতনও করেছে, সেই হিসাব আমরা ভুলিনি।
তিনি আরও বলেন, সামনের নির্বাচনে জনগণকে উদার ও গণতান্ত্রিক পথ বেছে নেওয়া উচিত। দেশ যেন উগ্রপন্থী ও বিভ্রান্তিকর শক্তির হাতে না চলে যায়, সেজন্য সচেতনভাবে ভোটাধিকার ব্যবহার করতে হবে। ফখরুল সোজা পথে রাজনীতি করার আহ্বান জানিয়ে বলেন, যারা ধর্মকে ব্যবহার করে মানুষকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করছে, তাদের দিকে লক্ষ্য রাখার প্রয়োজন।
ফখরুল প্রশ্ন তোলেন, ধর্মের নামে যদি মানুষকে ভোটে প্রভাবিত করার চেষ্টা করা হয়, তাহলে নামাজ, ইবাদত ও আল্লাহর কাছে আত্মসমর্পণের কোনো মূল্য থাকবে কি? তিনি বলেন, জনগণকে বিভ্রান্ত করার এই ধরনের মুনাফেকি চলতে দেওয়া যাবে না।

বিএনপি মহাসচিব আরও বলেন, বাংলাদেশের স্বাধীনতার জন্য যুদ্ধে অংশ নেওয়া মানুষদের ইতিহাসকে ভুলে তারা এখনও বিরোধিতা করছে। জাতীয়তাবাদী রাজনীতি এবং তারেক রহমানের নতুন রাজনীতিকে জনগণ গ্রহণের জন্য উন্মুখ হলেও ধর্মের নামে বিভ্রান্তির প্রচেষ্টা চলছে।
তিনি নির্বাচনের প্রসঙ্গে বলেন, অনেকে প্রশ্ন করছেন ভোট হবে কি না বা বাধা দেয়া হবে কি না, তবে তারা তিনটি ভোটও রাখতে পারবে না। তারপরও তারা বড় গলায় কথা বলে জনগণকে বিভ্রান্ত করছে। মির্জা ফখরুল বলেন, জনগণ চাইলে বিএনপি সবসময় পাশে থাকবে, বিরোধীরা বাদ দিলে তারা নিজস্ব পথে থাকবে।
ফখরুলের বক্তব্যে নির্বাচনকে শুধু একটি রাজনৈতিক অনুষ্ঠান নয়, দেশের ভবিষ্যতের জন্য একটি কঠিন পরীক্ষা হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। তিনি জনগণকে সচেতন ও দায়িত্বশীলভাবে অংশগ্রহণ করার আহ্বান জানান, যাতে দেশের গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ অক্ষুণ্ণ থাকে।