
প্রকাশ: ২০ জানুয়ারি ২০২৬, ১৮:২৯

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের পূর্বঘোষিত নির্বাচন কমিশন ঘেরাও কর্মসূচিতে অংশ না নেওয়ায় জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের বিভিন্ন হল শাখার ৩৩ জন নেতাকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দিয়েছে শাখা ছাত্রদল। সংগঠনের শৃঙ্খলা ও সাংগঠনিক দায়িত্ব পালনে অবহেলার অভিযোগে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
সোমবার রাতের দিকে জাবি ছাত্রদলের আহ্বায়ক জহির উদ্দিন মোহাম্মদ বাবর ও সদস্য সচিব ওয়াসিম আহমেদ অনীকের নির্দেশনায় দপ্তর সম্পাদক আব্দুল্লাহ অন্তর স্বাক্ষরিত নোটিশ জারি করা হয়। এতে উল্লেখ করা হয়, ১৮ ও ১৯ জানুয়ারির গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচিতে উপস্থিত থাকা সংশ্লিষ্ট নেতাদের জন্য বাধ্যতামূলক ছিল।
নোটিশে বলা হয়, সংশ্লিষ্ট হল শাখার একাধিক দায়িত্বশীল নেতা কোনো ধরনের পূর্ব অবহিতকরণ, অনুমতি কিংবা গ্রহণযোগ্য কারণ ছাড়াই কর্মসূচিতে অনুপস্থিত ছিলেন। এ ধরনের আচরণকে দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গ এবং সাংগঠনিক দায়বদ্ধতার পরিপন্থি হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
শোকজপ্রাপ্ত নেতাদের আগামী দুই কার্যদিবসের মধ্যে জাবি ছাত্রদলের দপ্তর ও সহ-দপ্তর সম্পাদকের কাছে লিখিত ব্যাখ্যা জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ব্যাখ্যা না দিলে কিংবা ব্যাখ্যা সন্তোষজনক না হলে সাংগঠনিক বিধি অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও নোটিশে জানানো হয়।
শোকজপ্রাপ্তদের মধ্যে আ ফ ম কামাল উদ্দিন হল, শেরেবাংলা একে ফজলুল হক হল, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর হল, মীর মশাররফ হোসেন হল, কাজী নজরুল ইসলাম হলসহ মোট ১০টি হল শাখার সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ পদধারী নেতারা রয়েছেন। এতে সংগঠনের বিভিন্ন স্তরের নেতৃত্ব কাঠামোই আলোচনায় এসেছে।

এছাড়া শহীদ সালাম বরকত হল, আল বেরুনী হল, শহীদ রফিক জব্বার হল, শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ হল এবং নবাব সলিমুল্লাহ হল শাখার একাধিক নেতা-কর্মীকেও শোকজ নোটিশের আওতায় আনা হয়েছে। এতে করে পুরো ক্যাম্পাস ছাত্রদলের মধ্যে বিষয়টি ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
এ বিষয়ে জাবি ছাত্রদলের আহ্বায়ক জহির উদ্দিন মোহাম্মদ বাবর বলেন, সংগঠনের গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচিতে অনুপস্থিত থাকা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। সাংগঠনিক শৃঙ্খলা বজায় রাখতে এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের দায়িত্বহীনতা রোধ করতেই এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
তিনি আরও জানান, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সন্তোষজনক ব্যাখ্যা পাওয়া না গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে দলীয় গঠনতন্ত্র অনুযায়ী কঠোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। এতে সংগঠনের ভেতরে শৃঙ্খলা ও দায়িত্ববোধ আরও সুসংহত হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।