প্রকাশ: ৩১ আগস্ট ২০২৫, ২১:৪২
বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, দেশকে রক্ষা করতে একমাত্র শক্তি হল বিএনপি। তিনি বলেন, বিভিন্ন মহল দেশকে ভিন্ন খাতে পরিচালিত করার চেষ্টা করছে। রোববার রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় তিনি এ কথা বলেন।
মির্জা ফখরুল অভিযোগ করেছেন, নির্বাচন বিঘ্নিত করার পরিকল্পনা চলছে। সংখানুপাতিক (পিআর) পদ্ধতিতে নির্বাচন হবে না বলে হুমকি দেওয়া হচ্ছে। তবে দেশের জনগণ কারও এই ধরনের হুমকিতে মাথা নত করবে না। তিনি উল্লেখ করেন, নির্বাচনের মাধ্যমে জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠা হলে তারেক রহমান প্রধানমন্ত্রী হবেন এবং বিএনপি রাষ্ট্র ক্ষমতায় আসবে।
দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য হাফিজউদ্দিন আহমেদও একই অভিযোগ তুলে বলেন, নির্বাচনে বাধা দেওয়ার জন্য জাতীয় ও আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্র চলছে। দেশের মধ্যেও ভারতীয় দালালরা সক্রিয়। আওয়ামী লীগ নির্বাচনের আগে নানাপ্রকার সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চালাবে। সব দেশবিরোধী তৎপরতা কঠোর হস্তে দমন করতে হবে।
তিনি আরও বলেন, বর্তমানে জামায়াতের অবস্থানও এই ষড়যন্ত্রের অংশ হিসেবে কাজ করছে। দেশের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা রক্ষায় সকল দেশপ্রেমিক নাগরিককে সতর্ক থাকতে হবে।
দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় মন্তব্য করেছেন, যে সংস্কার জনগণ বোঝে না, তা জনগণ গ্রহণ করবে না। নির্বাচন নিয়ে জনমনে আশঙ্কা রয়েছে। সরকার ও কমিশনের আন্তরিকতা যথেষ্ট নয়। ফ্যাসিস্ট সরকারের পতন হলেও ফ্যাসিবাদ নির্মূল হয়নি।
ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেছেন, নির্বাচনের বিলম্ব ঘটানোর ষড়যন্ত্র চলছে। দেশের মধ্যে ও বাইরে পতিত ফ্যাসিবাদীরা সক্রিয়। একটি গোষ্ঠীও নির্বাচন বাধাগ্রস্ত করার চক্রান্ত করছে। এ ধরনের চক্রান্ত জনমনে উদ্বেগ সৃষ্টি করছে।
মির্জা ফখরুলের মতে, জনগণের সক্রিয় অংশগ্রহণ ও দেশপ্রেমিক দৃষ্টিভঙ্গি ছাড়া এই ষড়যন্ত্র প্রতিহত করা সম্ভব নয়। তিনি আশা প্রকাশ করেন, জনগণ সচেতন হয়ে ভোটের মাধ্যমে দেশকে সঠিক পথে পরিচালিত করবে।
সভায় অংশগ্রহণকারীরা একমত হয়েছেন যে, দেশের রাজনৈতিক স্বাধীনতা ও জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠা নিশ্চিত করতে বিএনপির শক্তি অপরিহার্য। তারা বিশ্বাস করেন, শুধুমাত্র গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে দেশকে শৃঙ্খলমুক্ত এবং উন্নয়নের পথে অগ্রসর করা সম্ভব।