
প্রকাশ: ২৩ মার্চ ২০২০, ৪:৩৩

নরসিংদীর পলাশে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের পরিচয় দিয়ে মোবাইল ফোনের মাধ্যমে বেকারীর মালিকদের কাছে টাকা দাবির অভিযোগ উঠেছে। সোমবার সন্ধ্যায় আতিকুর রহমান নামে পরিচয় দেয়া ওই নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট পলাশ উপজেলার ঘোড়াশাল পৌর এলাকার ৪ টি বেকারির মালিকদের কাছে ৫০ হাজার করে দুই লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে।
পরে ব্যবসায়ীরা বিষয়টি প্রতারক চক্রের কাজ বুঝতে পেরে প্রতারণার হাত থেকে রক্ষা পায়। ওই বেকারী ব্যবসায়ীরে সাথে কথা বলে জানা যায়, সোমবার সন্ধ্যায় ঘোড়াশাল পৌর মেয়র শরীফুল হকের মোবাইলে ওই প্রতারক ০১৭১৩১৬৬৬২১ এই নাম্বার থেকে ফোন দিয়ে নিজেকে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের পরিচয় দেয়। পরে পৌর এলাকার বিভিন্ন বেকারীর তথ্য নেওয়ার জন্য পৌরসভার স্যানিটারি পরিদর্শকের সহযোগীতা চায়।
স্যানিটারি পরিদর্শক রাশেদুল ইসলাম মোবাইলের মাধ্যমে ওই প্রতারককে ঘোড়াশাল বাজারের ফুলকলি, জনপ্রিয়, আমির ও তিতাস নামে চারটি বেকারীর বিএসটিআই এর লাইসেন্সের কথা বলে ৫০ হাজার করে দুই লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে।
এসব টাকা বিকাশের মাধ্যমে পাঠানোর কথা বলে। ফুলকলি বেকারীর মালিক মোরশেদ মিয়া বলেন, নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট পরিচয়দানকারী ওই ব্যক্তি লাইসেন্সের ভয় দেখিয়ে ৫০ হাজার করে টাকা দাবি করে এবং টাকা ০১৯১০৫৪১৯৩৯ এই নাম্বারে বিকাশ করতে বলে। পরে স্থানীয় সাংবাদিকদের সহায়তা নিলে বিষয়টি প্রতারক চক্রের কাজ বুঝতে পারি।
এদিকে পৌর স্যানিটারি পরিদর্শক রাশেদুল ইসলাম টাকা চাওয়ার বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, আমার ও সন্দেহ হয়েছিল এটা প্রতারক চক্রের কাজ। ঘটনাটি জানা জানি হলে ওই নাম্বারটি বন্ধ করে দেয় প্রতারক চক্র।

ঘোড়াশাল পৌর মেয়র শরীফুল হক জানান, দুপুরে ফোন করে ওই ব্যক্তি নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের পরিচয় দিয়ে বেকারীর তথ্য সংগ্রহের কথা বলে সহযোগীতা চায়। পরে জানতে পারি তিনি একজন প্রতারক। এবং বেকারীর মালিকদের কাছে টাকা দাবি করে।
এব্যাপারে পলাশ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (অ.দা,) ফারহানা আলী জানান, এটি একটি প্রতারক চক্রের কাজ। কোনো নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট পরিচয়দানকারী কখনোই মোবাইল ফোনে তথ্য সংগ্রহ বা টাকা দাবি করে না।