প্রতিপক্ষকে ফাঁসাতে প্রতিবন্ধি ছেলেকে নিজেরাই কুপিয়েছে!

নিজস্ব প্রতিবেদক
ফরাজী মো.ইমরান, জেলা প্রতিনিধি পটুয়াখালী
প্রকাশিত: শুক্রবার ১৭ই জানুয়ারী ২০২০ ০৪:২৪ অপরাহ্ন
প্রতিপক্ষকে ফাঁসাতে প্রতিবন্ধি ছেলেকে নিজেরাই কুপিয়েছে!

প্রতিপক্ষকে ফাঁসাতে বুদ্ধি প্রতিবন্ধি ছেলেকে নিজেরাই কুপিয়েছে। তারপর প্রতিপক্ষসহ গ্রামবাসীদের নামে মহিপুর থানায় মামলা দায়ের করেছেন। জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধ চলমান থাকায় সুলতান মৃধা এ ঘটনা ঘটিয়েছে। বিষয়টি সরেজমিনে তদন্তপূর্বক প্রকৃত ঘটনা উদঘাটনের দাবী জানিয়ে এলাকাবাসীর পক্ষে সংবাদ সম্মেলন করেছে জাকির হাওলাদার। 

লিখিত বক্তব্যে জাকির হোসেন বলেন, দীর্ঘদিন ধরে সুলতান মৃধার সাথে চম্পপাপুর ইউনিয়নের দেবপুর গ্রামের আবদুল মোতালেব মীর গংদের জমিজমা নিয়ে বিরোধ চলে আসছে। মোতালেব মীর গংদের ফাঁসাতে রাতের আধারে বুদ্ধি প্রতিবন্ধি ছেলেকে কুপিয়ে রক্তাক্ত জখম করেছে তারা। বুদ্ধি প্রতিবন্ধি ছেলেকে কোপানোর ঘটনায় যাদের আসামী করা হয়েছে তাদের ওই যায়গায় কোন জমিজমা নেই। মামলার আসামী শুধু কালাম মৃধা দীর্ঘদিন ধরে মোতালেব মীরের জমি বর্গাচাষ করে আসছে। তারপরও উদ্দেশ্য মূলক ওই মামলায় গ্রামবাসীকে জড়ানো হয়েছে। মূলত সুলতান মৃধা, হানিফ মৃধা, মোশাররফ মৃধা, বাবুল মৃধা ও লিটন মৃধা মনাসাতলী এলাকার চিহ্নিত সন্ত্রাসী। তাদের সাথে সমুদ্রে জলদস্যু ও ডাকাতদের সাথে গভীর যোগাযোগ আছে। তাদের বিরুদ্ধে পুকুর ও ঘেরের মাছ লুট, বন বিভাগের গাছ চুরি, ট্রলারে ডাকাতিসহ বেশ কয়েকটি মামলা আদালতে চলমান রয়েছে। তাদের নির্যাতনে এলাকার শান্তিপ্রিয় মানুষ অতিষ্ঠ। তারা কলাপাড়া উপজেলার কতিপয় প্রভাবশালী ব্যক্তিদের ছত্র ছায়ায় এসব কুকর্ম করে আসছে। তারা স্থানীয় কোন শালিস ব্যবস্থা আইন কানুন মানেনা। তারা ভূমিদস্যু বিধায় জাল জালিয়াতি তাদের নেশা ও পেশা। তারা তাদের প্রতিবন্ধী ছেলেকে কুপিয়ে এলাকায় প্রভাব বিস্তারের লক্ষে গ্রামবাসীদের নামে মিথ্যা মামলা দিয়েছে। 

এবিষয়ে সুলতান মৃধা জানান, ঘটনার দিন মোতালেবের মামলায় হাজিরা দিতে কলাপাড়া আদালতে আসি। সন্ধ্যা হওয়ায় বাড়িতে না গিয়ে রাতে আমার ভাগিনা হাবিব মুন্সির বাসায় থাকি। আর প্রতিপক্ষরা আমার বাড়িতে হামলা চালিয়ে আমাকে ভেবে আমার প্রতিবন্ধি ছেলেকে কুপিয়ে রক্তাক্ত জখম করে। 

উল্লেখ্য, গত ২৫ ডিসেম্বর রাতে বুদ্ধি প্রতিবন্ধী সোবাহানকে কুপিয়ে রক্তাক্ত জখম করে দুর্বৃত্তরা। এতে সোবাহানের ডান কান ও ঘাড়ে রক্তাক্ত জখম হয়। সোবাহান বরিশাল ও ঢাকায় চিকিৎসা করানোর পর বর্তমানে কলাপাড়া হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে।