
প্রকাশ: ১৩ জানুয়ারি ২০২০, ২:৩

জিহাদের বয়স এখন ১০ বছর। পুরোনাম মেহেদী হাসান জিহাদ। তার স্বপ্ন বড় হয়ে চিকিৎসক হওয়ার। বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে তার স্বপ্নও বড় হতে থাকে। কিন্তু সেই স্বপ্ন এখন অঙ্কুরেই বিনাশ হওয়ার উপক্রম! ছোট্ট জিহাদ এখন হাসপাতালের বিছানায় শুয়ে কান্নাভেজা চোখে অপলক তাকিয়ে থাকে মায়ের দিকে। আকুতি জানায় বাঁচার। ছেলের আকুতি শুনে বারবার চোখের অশ্রু মোছেন দুঃখীনি মা।
কিডনি রোগে আক্রান্ত ছেলে জিহাদকে নিয়ে এক মাসেরও বেশি সময় ধরে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালের সি-ব্লকের শিশু ওয়ার্ডে আছেন মা নাছিমা বেগম। আর বাবা শাহরিয়ার সবুজ ছেলেকে বাঁচাতে আর্থিক সহযোগীতার জন্য সারাদিন ছুটছেন এখানে-সেখানে। আগামীকাল মঙ্গলবার (১৪ জানুয়ারি) জিহাদের অপারেশন হওয়ার কথা রয়েছে। কিন্তু অপারেশনের জন্য যেসব ওষুধ দরকার সেগুলো কেনার টাকাও জোগাড় করতে পারছেনা তার বাবা-মা।
রাজধানীর শনিরআখড়া এলাকার শাহরিয়ার সবুজ ও নাছিমা বেগম দম্পতির একমাত্র সন্তান জিহাদ। সে শনিরআখড়া এলাকার একটি স্কুলে চতুর্থ শ্রেণিতে পড়ত। কিন্তু অসুস্থতার কারণে চলাফেরা করতে সমস্যা হওয়ায় বর্তমানে তার পড়ালেখা বন্ধ রয়েছে। জিহাদের বাবা ঢাকার রায়েরবাগ এলাকায় এক বন্ধুর সঙ্গে টায়ারের ব্যবসা করতেন। কিন্তু ছেলে অসুস্থ হওয়ার পর তার চিকিৎসার পেছনে সবকিছু খুইয়ে এখন নিঃস্ব হয়ে বেকার জীবন পার করছেন।
জিহাদের মা জানান, তিন বছর বয়সে প্রস্রাব বন্ধ হয়ে যাওয়ায় পেটব্যথা অনুভব করে জিহাদ। এরপর থেকেই তার চিকিৎসা চলছে। প্রায়ই তার পেট ও হাত-পা ফুলে যেত। অনেক পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হলেও কিডনি রোগে যে আক্রান্ত সেটি ধরা পড়েনি। এতদিন জিহাদের প্রস্রাবের চিকিৎসাই চলছিল। ২০১৮ সালে প্রথম কিডনিতে সমস্যা ধরা পড়ে। তার দুটি কিডনিতেই সমস্যা রয়েছে বলে জানিয়েছেন ডাক্তার। এখন পেট ফুলে প্রস্রাব বন্ধ রয়েছে। প্রস্রাব করানোর জন্য নল লাগানো হয়েছে। কিন্তু ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী জিহাদের কিডনি দুটি রক্ষার জন্য তার প্রস্রাবের রাস্তায় অপারেশন করতে হবে। যাতে করে কিডনিতে পানি না জমে।
নাছিমা বেগম আরও জানান, নিজেদের যা কিছু ছিল সব দিয়ে এতদিন জিহাদের চিকিৎসা করিয়েছি। এখন মানুষের সাহায্য-সহযোগিতা নিয়ে চিকিৎসা করাচ্ছি। ডাক্তার বলছে কালকে (মঙ্গলবার) অপারেশন করবে। কিন্তু ওষুধের টাকা এখনও জোগাড় করতে পারিনি। জিহাদের বাবা দুপুরে হাসপাতাল থেকে বেরিয়ে গেছে টাকা জোগাড় করতে। সন্ধ্যায় ফোন করে বলেছে এখনও টাকা জোগাড় করতে পারেনি। এখন কীভাবে জিহাদের অপারেশন হবে জানি না। হাসপাতালের বিছানায় শুয়েও জিহাদ বলছে সে বড় হয়ে ডাক্তার হবে। ওয়ার্ডে যে ডাক্তাররা ওকে দেখতে আসে তাদেরকেই সে বলে আমি আপনাদের চেয়েও বড় ডাক্তার হবো। আমি যেন ভালো হয়ে যাই আপনারা সবাই দোয়া করবেন। ও ছোট হলেও সবকিছুই বুঝে। ছেলেকে বাঁচাতে সমাজের বিত্তবানদের সহযোগিতা কামনা করেছেন তিনি।

জিহাদকে সহযোগিতা করতে ও তার বিষয়ে আরও বিস্তারিত জানা যাবে 01931026184 নম্বরে।
সতর্কতা: যেকোনো মানবিক সংবাদ প্রকাশ হওয়ার পর একটি প্রতারক চক্র ভুক্তভোগী পরিবারটিকে ফোন করে জানায়, তিনি সমাজ সেবা মন্ত্রণালয় থেকে বলছেন। তারা আরও জানায়, এ সংবাদ দেখার পর সরকার ৫ লাখ টাকা বরাদ্দ দিয়েছেন। সেই টাকা তুলতে বিকাশে টাকা চেয়ে থাকেন প্রতারক চক্রটি। নিজ দায়িত্বে চক্রটির ফাঁদ থেকে দূরে থাকুন।
ইনিউজ ৭১/টি.টি. রাকিব