
প্রকাশ: ১২ ডিসেম্বর ২০১৯, ২১:৩৫

নানা ধরনের সংস্কার কাজসহ জাতীয় গ্রীড লাইনের সমস্যার অজুহাতে সকাল থেকে সন্ধ্যা, এমনকি মধ্য রাত পর্যন্ত বিদ্যুৎ বন্ধ রাখা হচ্ছে। বছর জুড়েই পটুয়াখালীর কলাপাড়া পল্লী বিদ্যুতের এহেন খাম-খেয়ালীতে এ সমিতির আওতাধীন ৪৭ হাজার গ্রাহকের জনজীবন হয়ে পড়েছে বিপর্যস্ত। নিত্য গৃহস্থলী কাজ, চিকিৎসা সেবা, ব্যবসা-বানিজ্যসহ দাপ্তরিক কাজে দেখা দিয়েছে প্রতিবন্ধকতা।
ক্ষুদ্ধ গ্রাহকদের অভিযোগ, কোন প্রকার নোটিশ ছাড়াই কলাপাড়া পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির এভাবে বিদ্যুৎ বন্ধ রাখা এখন নিয়মে পরিনত হয়েছে। বিদ্যুৎ যখন থাকছেনা তখন বন্ধ রাখা হচ্ছে গ্রাহক সেবা নম্বরটি। ভৌতিক বিদ্যুৎ বিল, অতিরিক্ত বিল প্রদানসহ নানা অভিযোগে অভিযুক্ত কলাপাড়া পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির এহেন বিদ্যুৎ বিভ্রাটের প্রতিবাদে জানাতে গেলে পোহাতে হচ্ছে নানা ভোগান্তি। বছর জুড়ে চলমান এমন বিদ্যুৎ বিভ্রাট সমস্যার সমাধানে গ্রহকরা উর্ধ্বতনদের হস্তক্ষেপ কামনা করলেও সংশ্লিস্ট সমিতির কর্মকর্তারা জানান, ডিসেম্বর মাসের শেষ সপ্তাহ থেকে নতুন বছরের জানুয়ারী মাসের মঝামাঝি সময় সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত বিদ্যুৎ বন্ধ রেখে পটুয়াখালী সংযোগ লাইনে সংস্কার কাজ করা হবে। কবে নাগাদ বিদ্যুৎ বিভ্রাটের ভোগান্তি থেকে মুক্তি মিলবে তারও কোন সদুত্তর দিতে পারেননি এ কর্মকর্তারা।
কলাপাড়া পৌর শহরের সবুজবাগ এলাকার গৃহীনি নাজমা বেগম ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, বছর জুড়ে সকাল থেকে রাত অবধি বিদ্যুৎ থাকছে না। বিদ্যুৎ না থাকলে পানি থাকছেনা। নিত্য গৃহস্থলী কাজসহ গোছল করা এমনকি নিরাপদ খাবার পানির প্রকট সংকট দেখা দেয়। ছেলেমেয়েদের লেখাপাড়া চরমভাবে বিঘিœত হচ্ছে।
কুয়াকাটা আবাসিক হোটেল ব্যবসায়ী শাহ-আলম বলেন, বছরের শুরু থেকেই চরম বিদ্যুৎ বিভ্রাটে কুয়কাটার পর্যটন ব্যবসায় মারাত্মক নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। মহিপুরের মৎস্য ব্যবসায়ী মাছুম জানান, বিদ্যুতের কারনে বরফ উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। বেশি দামে বরফ কিনতে হচ্ছে। ফলে লোকসানের বোঝা দিনদিন ভাড়ী হচ্ছে।

কলাপাড়া পল্লী বিদ্যুত সমিতির ডিজিএম শহিদুল ইসলাম জানান, রক্ষণাবেক্ষণ কাজের জন্য গড়ে প্রতিদিন দু’ঘন্টা বিদ্যুৎ বন্ধ থাকছে। পুরাতন জাতীয় গ্রীড লাইনসহ অভ্যন্তরীন লাইনের সংস্কার কাজ চলছে। এটি একটি চলমান প্রক্রিয়া।
ইনিউজ ৭১/টি.টি. রাকিব