সমাজে আস্থার সংকট আছে, এমন কেউ কমিউনিটি পুলিশিং কমিটিতে থাকতে পারবে না

নিজস্ব প্রতিবেদক
এম. কে. রানা, নিজস্ব প্রতিনিধি
প্রকাশিত: রবিবার ২০শে অক্টোবর ২০১৯ ১০:২৩ অপরাহ্ন
সমাজে আস্থার সংকট আছে, এমন কেউ কমিউনিটি পুলিশিং কমিটিতে থাকতে পারবে না

‘পুলিশই জনতা, জনতাই পুলিশ’ এই স্লোগানকে সামনে রেখে আগামী ২৬ অক্টোবর বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশ বিএমপি’র আয়োজনে কমিনিউটি পুলিশিং ডে সমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে। এ উপলক্ষে রবিবার সকালে বরিশালের স্থানীয় পত্রিকার সম্পাদক ও প্রকাশক সহ গণমাধ্যমকর্মীদের সাথে মতবিনিময় করেছেন বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার মোঃ শাহাবুদ্দিন খান বিপিএম-বার। সভায় বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার প্রলয় চিসিম, উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিবি) জাহাঙ্গির মল্লিক, সহ অন্যান্যরা উর্দ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

মতবিনিময়কালে কমিউনিটি পুলিশিং ডে উদযাপন উপলক্ষে গণমাধ্যম কর্মীদের সহযোগিতা করার আহবান জানান বিএমপি কমিশনার। সংবাদকর্মীদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, সমাজে আস্থার সংকট আছে এমন কোন ব্যক্তি কমিউনিটি পুলিশিং এর কমিটিতে থাকতে পারবে না। এছাড়া বিভিন্নভাবে যাচাই-বাছাই করে কমিটির সদস্য নির্বাচন করা হচ্ছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। বিএমপি কমিশনার জানিয়েছেন, বরিশালে এবার বর্ণাঢ্য আয়োজনে কমিনিউটি পুলিশিং ডে উদযাপন করা হবে। অনুষ্ঠানের মধ্যে রয়েছে র‌্যালী, কমিনিউটি পুলিশিং ডে সমাবেশ, প্রীতি কাবাডি ম্যাচ, রচনা প্রতিযোগীতা, বিতর্ক প্রতিযোগীতা, চিত্রাঙ্গণ প্রতিযোগীতা ইত্যাদি। 

মতবিনিময় সভায় উপস্থিত ছিলেন বিএমপির অতিরিক্ত কমিশার প্রলয় চিসিম, উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিবি) জাহাঙ্গির মল্লিক, দৈনিক দক্ষিনা লের প্রকাশক এসএম ইকবাল, দৈনিক শাহানামার‘র সম্পাদক আবুল কালাম আজদ, দৈনিক সময়ের বার্তার প্রকাশক ও সম্পাদক এম.লোকমান হোসাঈন, দৈনিক পরিবর্তন পত্রিকার সম্পাদক ও প্রকাশক কাজী মিরাজ, বাংলা ভিশনের বরিশাল প্রতিনিধি শাহীন হাসান, দৈনিক মতবাদ পত্রিকার বার্তা সম্পাদক গোপাল সরকার, দৈনিক আজকের সুন্দরবন’র বার্তা সম্পাদক এম.কে রানা, বরিশাল প্রতিদিনের যুগ্ন-বার্তা সম্পাদক ফাহিম ফিরোজ, দৈনিক কলমের কন্ঠ পত্রিকার বার্তা সম্পাদক মো:আরিফ হোসেন, ভোরের অঙ্গীকার পত্রিকার বার্তা সম্পাদক এম.আর.মন্টু, বরিশাল বার্তার প্রধান বার্তা সম্পাদক আজাদ আলাউদ্দিন, আনন্দ টিভির বরিশাল প্রতিনিধি নাহিদসহ অন্যান্যরা।

সূত্রমতে, পুলিশ ও জনগণের যৌথ অংশীদারিত্ব প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে অপরাধমূল কর্মকান্ড রহিত করার লক্ষ্যে বাংলাদেশ পুলিশের সাবেক মহা-পরিদর্শক (আইজিপি) একেএম শহীদুল হক কমিউনিটি পুলিশিং ব্যবস্থা চালু করেন। পুলিশী কর্মকান্ডে জনগণের অংশীদারিত্ব প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে কার্যকরভাবে অপরাধ প্রতিরোধের জন্য কমিউনিটি পুলিশিং ধারণা গ্রহণ করা হয়। কমিউনিটি পুলিশিং হচ্ছে জনগণের সঙ্গে পুলিশের আস্থার এক সেতুবন্ধন। জঙ্গিবাদ ও মাদক থেকে সমাজকে সচেতন ও মুক্ত রাখার জন্য কমিউনিটি পুলিশিং এর অবদান সবচেয়ে বেশি। যেকোনও ধরনের মাদক, জঙ্গিবাদ ও সমাজে অপরাধের মূল হোতাদের সম্পর্কে পুলিশকে অবহিত করা কমিউনিটি পুলিশিং ফোরামের সদস্যদের দায়িত্ব। বিশ্বের প্রায় সকল দেশেই কমিউনিটি পুলিশিং ব্যবস্থা বিদ্যমান রয়েছে। 

কমিউনিটি পুলিশিং ব্যবস্থায় পুলিশ ও জনগনের মধ্যে নিয়মিত যোগাযোগ নিশ্চিত করে। এ ব্যবস্থায় জনগণ এলাকার সমস্যা ও সমস্যার কারণ চিহ্নিত করে তা সমাধানের লক্ষ্যে পুলিশের সাথে অংশীদারিত্বের ভিত্তিতে কাজ করার সুযোগ পায়। জনগণের নিকট পুলিশের জবাবদিহিতা নিশ্চিত হয়। পুলিশ ও জনগণের মধ্যে দূরত্ব কমে এবং জনগনের মধ্যে পুলিশ ভীতি ও অপরাধ হ্রাস পায় এবং জনগণ পুলিশকে সহায়তা করার জন্য উদ্বুদ্ধ হয়। জনগণ পুলিশের কাজে সম্পৃক্ত হওয়ার সুযোগ পাওয়ায় জনগণের প্রত্যাশা ও মতামতের আলোকে পুলিশী সেবা নিশ্চিত করা যায়। 

ইনিউজ৭১/জিয়া