
প্রকাশ: ২৯ জুন ২০১৯, ২৩:৩৮

মুনাফার লোভে মাত্রাতিরিক্ত ডায়ালাইসিসে ষাটোর্ধ্ব শহীদুল ইসলামের মৃত্যু ও মারা যাওয়ার তিনদিন পরও রোগীকে ভর্তি করে রাখার প্রতিবাদ করায় মানবাধিকার সংস্থা ও এনজিও সৃষ্টি হিউম্যান সোসাইটির চেয়ারম্যান আনোয়ার-ই-তাসলিমার নামে ইউনিভার্সেল মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল কতৃপক্ষ মিথ্যা মামলা দায়ের করেছে বলে অভিযোগ করেছেন সংস্থাটি। সংস্থার চেয়ারম্যান আনোয়ার-ই-তাসলিমা বলেন, ইউনিভার্সেল হাসপাতালে ভুল চিকিৎসায় শহীদুল ইসলামের মৃত্যু ও অনিয়মের প্রতিবাদ করায় ভাঙচুর, চুরি ও জোর করে লাশ ছিনিয়ে নেওয়ার মিথ্যা মামলা দেয়া হয়েছে। এ মামলায় মৃত্যুব্যাক্তির ছেলে কামাল হোসেনকে ১নং ও স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা জাকির হোসেনকে ২নং ও আমাকে ৩ নং আসামি করা হয়েছে। এ মামলায় যে সব অভিযোগ আনা হয়েছে তা সম্পূন্ন মিথ্যা ও বানোয়াট।
উল্লেখ্য, গত ২২ জুন বেশ কয়েকটি বেসরকারি টিভি চ্যানেল ও অনলাইন মিডিয়ায় “মারা যাওয়ার তিনদিন পরও রোগীকে ভর্তি করে রেখেছে ইউনিভার্সেল হাসপাতাল” এ শিরোনামে নিউজ হয়। অধিক মুনাফার লোভে মাত্রাতিরিক্ত ডায়ালাইসিসে মৃত্যুর অভিযোগ পাওয়া গেছে রাজধানীর মহাখালীতে ইউনিভার্সেল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বিরুদ্ধে। কিডনিজনিত জটিলতা নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি শহীদুল ইসলাম আগে মারা গেলেও ৫দিন পর হাসপাতাল তা স্বীকার করেছে বলে অভিযোগ পরিবারের। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ এসব অভিযোগ অস্বীকার করলেও ৩ দিন আগে রোগীর পরিবারের বিপক্ষে থানায় জিডির কথা জানা যায়।
হাসপাতালের রেকর্ড বলছে, ২০ দিনে ২৩ বার ডায়ালাইসিস দেয়া হয়েছে কিডনি জটিলতায় মারা যাওয়া শহীদুল ইসলামের শরীরে। মৃত শহীদুল ইসলামের ছেলের অভিযোগ, মুনাফার লোভে উপর্যুপরি ডায়ালাইসিসেই প্রাণ হারিয়েছেন তার বাবা। গেল মাসে কিডনিজনিত সমস্যা নিয়ে মহাখালীর ইউনিভার্সেল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন ষাটোর্ধ্ব শহীদুল ইসলাম। ভর্তির তিন দিন পর বিএসএমএমইউতে স্থানান্তর করতে চাইলেই শারীরিক অবস্থার অবনতির কথা বলে রোগীকে আইসিইউতে নিয়ে যায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। এরপর দফায় দফায় ডায়ালাইসিস বাবদ এক মাসেই বিল আসে দশ লক্ষাধিক টাকা। পরিবারের অভিযোগ, গেল সোমবার( ১৭ জুন) থেকে রোগীর কোনো ধরনের মুভমেন্ট না থাকলেও শুক্রবার (২১ জুন) রাতে রোগীকে মৃত ঘোষণা করে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।

ইনিউজ ৭১/টি.টি. রাকিব