রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার ৯ প্রাথমিক বিদ্যালয় ও ১ টি হাইস্কুলে বন্যার পানি উঠে গেছে। এমতাবস্হায় দীর্ঘ দেড় বছর পর আগামী ১২ সেপ্টেম্বর হতে বিদ্যালয় খুললেও বিদ্যালয় গুলোতে শ্রেনী পাঠদান নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। এতে করে হতাশ হয়ে পড়েছে কয়েক হাজার ছাত্রছাত্রী, অভিভাবক ও শিক্ষকেরা। গোয়ালন্দ উপজেলা শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা গেছে, পদ্মা নদীর পানি বিপদ সীমা অতিক্রম করায় এখানে ৯ টি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও ১ টি হাইস্কুলে পানি উঠে গেছে।
৯ টি প্রাথমিক বিদ্যালয় হলো চাঁদ খান পাড়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়, চর দৌলতদিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, তেনাপঁচা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়,বেতকা সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়, বেথুরী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়,মজলিসপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়,দৌলতদিয়া ঘাট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং সাহাজদ্দিন মাতুব্বর পাড়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়। এছাড়া দৌলতদিয়া আক্কাস আলী হাইস্কুল মাঠে পানি প্রবেশ করেছে। আরো পানি বৃদ্ধি পেলে আরো কয়েকটি প্রাথমিক ও উচ্চ বিদ্যালয়ে পানি উঠে যাওয়ার আশংকা রয়েছে।
চাঁনখান পাড়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক তৃপ্তি বিশ্বাস জানান,তার স্কুলটি পদ্মা নদীর নিকটবর্তী দৌলতদিয়ার ৬ নং ফেরিঘাট এলাকায় অবস্থিত। নদীতে অত্যাধিক পানি বেড়ে গিয়ে স্কুলের মাঠ প্লাবিত হয়ে শ্রেনীকক্ষে পানি ঢুকে গেছে। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের জানানো হয়েছে। স্যারেরা পরিদর্শনও করে গেছেন।
সাহাজদ্দিন মাতুব্বর পাড়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বেলায়েত হোসেন বলেন, তার বিদ্যালয় মাঠে পানি উঠে গেছে। আর দু-একদিন বাড়লে শ্রেনী কক্ষেও হয়তো পানি প্রবেশ করবে।
এদিকে দীর্ঘদিন পর স্কুল খোলার ঘোষনায় আমরা ছাত্র,শিক্ষক, অভিভাবক সবাই খুব খুশি হয়েছি। কিন্তু এ অবস্হায় জানি না শ্রেনী পাঠদান শুরু করা সম্ভব হবে কিনা।
গোয়ালন্দ উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মাসুদুর রহমান বলেন,উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ে দু'একটা বিদ্যালয় মাঠে হালকা পানি উঠেছে। পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকলে আরো কয়েকটি বিদ্যালয়ে পানি উঠার আশংকা রয়েছে।
গোয়ালন্দ উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা (প্রাথমিক) কবির হোসেন বলেন, বিদ্যালয় গুলোতে বন্যার পানি উঠে যাওয়ার বিষয়ে জেলা শিক্ষা কর্মকর্তাকে অবহিত করা হয়েছে। তিনি যে সিদ্ধান্ত দেবেন সেভাবে আমরা কাজ করবো।