প্রকাশ: ১৯ ডিসেম্বর ২০২১, ৫:৯
পিরোজপুর সদর উপজেলার বাদুরা মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রে জাটকা উদ্ধার গিয়ে বাধা পেয়ে ফাঁকা গুলি করেছে কোস্টগার্ড। এ ঘটনার পর সেখানে যাওয়া মাছ ব্যবসায়ীদের মাঝে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। তবে স্থানীয়রা চারদিক থেকে ঘিরে ফেলায় আত্মরক্ষার্থে কোস্টগার্ড সদস্যরা একটি ফাঁকা গুলি করেছে বলে দাবি কোস্টগার্ড কর্তৃপক্ষের।
রোববার (১৯ ডিসেম্বর) ভোররাতে এ ঘটনা ঘটে।
বাদুরা মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রের ব্যবসায়ী মো. ইকবাল হোসেন উকিল জানান, বঙ্গোপসাগর থেকে ইলিশ মাছ নিয়ে কয়েকটি ট্রলার বন্দরে আসে। এরপর ভোররাতে তারা মাছ বিক্রি শুরু করে। হঠাৎ করে রাত সাড়ে ৩টার দিকে কোস্টগার্ডের দলটি দল সাদা পোশাকে আড়তে প্রবেশ করে। পরবর্তীতে সেখানে ৬-৭ জন ব্যবসায়ীর ৬৮ পন (প্রায় সাড়ে পাচ হাজার) ইলিশ মাছ ঝুড়িতে করে ট্রলারে তুলে নেয়। এরপর তারা ঘটনাস্থল ত্যাগ করার সময় স্থানীয়রা কোস্টগার্ড সদস্যদের বাঁধা দিলে তারা এক রাউন্ড ফাঁকা গুলি ছোঁড়ে ঘটনাস্থল ত্যাগ করে।
তবে বিক্রির জন্য রাখা মাছগুলোর মধ্যে সামান্য কিছু ইলিশ মাছ ছোট ছিল বলে দাবি ইকবালের। বড় মাছগুলো রেখে যাওয়ার জন্য অনেক অনুরোধ করার পরও কোস্টগার্ড সদস্যরা তাতে কোনো কর্ণপাত করেনি বলে দাবি তার। এছাড়া সময় কোস্টগার্ডের সাথে পুলিশ, ম্যাজিস্ট্রেট কিংবা মৎস্য বিভাগের কেউই উপস্থিত ছিলেন না। ফলে অস্ত্রের প্রভাব খাটিয়ে মাছগুলো লুট করা হয়েছে বলে দাবি ইকবালের।
এদিকে, কোস্টগার্ডের গুলির ঘটনার পর আড়তে আসা ব্যবসায়ীদের মাঝে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে বলে দাবি আড়তদার সমিতির সাধারণ সম্পাদক মোস্তফা আকনের। তিনি বলেন, কোস্টগার্ডের সাথে মৎস্য বিভাগ কিংবা পুলিশ প্রশাসনের লোকজন থাকলে এ ঘটনা ঘটতো না।
মাছ ব্যবসায়ীদের সূত্রে অভিযোগ পাওয়া যায়, ইকবালের পাইকারি মাছের আড়তসহ আরও কয়েকটি আড়তে গভীর রাতে জাটকা ইলিশ বিক্রি হয়। এ জন্য সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সেক্টরকে ম্যানেজ করে অবৈধভাবে জাটকা বিক্রির এ কার্যক্রম পরিচালিত হয় এবং সেগুলো দূর দূরান্তের এলাকায় নিয়ে বিক্রি করা হয়। গভীর রাতে জাটকা বেচাকেনা হওয়ায় তা সাধারণ মানুষের নজরে আসে না।
বাদুরা মৎস্য অবতারণ কেন্দ্রে জাটকা বিরোধী অভিযান পরিচালনার কথা স্বীকার করে কোস্টগার্ডের গোয়েন্দা কর্মকর্তা লেফটেন্যন্ট কমান্ডার এম মামুনুর রহমান জানান, সমুদ্র থেকে অবৈধভাবে আহরিত ১৬ মণ জাটকা বিক্রির সময় সেগুলো বাদুরা মৎস্য অবতরণ কেন্দ্র থেকে উদ্ধার করে কোস্টগার্ড। এরপর সেগুলো ভান্ডারিয়ার ৬টি এতিমখানায় বিতরণ কর হয়।
তার দাবি কোস্টগার্ড সদস্যদের সংখ্যা কম হওয়ায়, জাটকা নিয়ে আসার সময় মৎস্য ব্যবসায়ীরা তাদেরকে ঘিরে ধরে। তখন আত্মরক্ষার্থে কোস্টগার্ড সদস্যরা এক রাউন্ড ফাঁকা গুলি ছোঁড়ে।
ফাঁকা গুলির একটি ঘটনা ঘটেছে বলে তারা জানতে পেরেছেন বলে জানান পিরোজপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অপরাধ) মোল্লা আজাদ হোসেন। তিনি বলেন, গুলির বিষয়ে পুলিশকে কিছু জানায়নি কোস্টগার্ড।