ঢাকা, ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৪ - অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস তিস্তা নদীর দীর্ঘদিনের অমীমাংসিত পানিবণ্টন চুক্তি নিয়ে নতুন করে আলোচনার আহ্বান জানিয়েছেন। ভারতের বার্তা সংস্থা পিটিআই'কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ড. ইউনূস বলেন, "তিস্তার পানিবণ্টন চুক্তি নিয়ে আমাদের মধ্যে যে মতপার্থক্য রয়েছে, তা দ্রুত নিরসন করা প্রয়োজন। এই সমস্যার সমাধান না হলে উভয় দেশেরই ক্ষতি হবে।"
ড. ইউনূসের মতে, তিস্তার পানি নিয়ে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে যে জটিলতা সৃষ্টি হয়েছে, তা কেবল আলোচনার মাধ্যমেই সমাধান করা সম্ভব। তিনি উল্লেখ করেন, "এটি এমন একটি ইস্যু যা দীর্ঘদিন ধরে ঝুলে আছে, কিন্তু এর স্থায়ী সমাধান না হলে দুই দেশের জনগণের জন্য এটি কষ্টের কারণ হয়ে দাঁড়াবে।"
তিস্তা নদী বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ স্রোতস্বিনী, যা কৃষি ও জীবিকার জন্য উভয় দেশের জনগণের কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু দুই দেশের মধ্যে পানির বণ্টন নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে একটি সুষ্ঠু চুক্তি না হওয়ায়, প্রত্যাশিত সেচ সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন উভয় দেশের কৃষকরা। ফলে কৃষি উৎপাদনে নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে, যা খাদ্য নিরাপত্তার ওপর বিরূপ প্রভাব ফেলতে পারে।
ড. ইউনূস বলেন, "তিস্তা নদীর পানি নিয়ে আমাদের যেকোনো ধরনের বিরোধ বা মতপার্থক্য আলোচনার মাধ্যমে নিরসন করতে হবে। আমরা বিশ্বাস করি, ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ক খুবই গুরুত্বপূর্ণ, এবং এই সম্পর্ককে আরও মজবুত করতে হবে।"
তিনি আরও উল্লেখ করেন, "ভারতের সঙ্গে আমাদের ঐতিহাসিক সম্পর্ক রয়েছে এবং আমরা চাই এই সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় হোক। তিস্তা নদীর পানি নিয়ে সমস্যা সমাধান করে আমরা দুই দেশের জনগণের জন্য একটি দীর্ঘমেয়াদী সমাধান খুঁজে বের করতে চাই।"
তিস্তা নদীর পানি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে চলা এই সমস্যার সমাধানে নতুন করে উদ্যোগ নেওয়ার কথা জানিয়ে ড. ইউনূস বলেন, "আমাদের আলোচনার মাধ্যমে একটি পারস্পরিক সুবিধাজনক চুক্তিতে পৌঁছানোর সময় এসেছে। এই সমস্যা সমাধান হলে, দুই দেশের মধ্যে সম্পর্ক আরও দৃঢ় হবে এবং উভয় দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নেও তা সহায়ক হবে।"
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ড. ইউনূসের এই উদ্যোগ দক্ষিণ এশিয়ার রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়ন এবং আঞ্চলিক সহযোগিতা জোরদার করার লক্ষ্যে এই উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ বলে অভিহিত করছেন তারা।
তিস্তা নদীর পানিবণ্টন চুক্তির বিষয়ে ড. ইউনূসের উদ্যোগ দুই দেশের জনগণের মধ্যে ইতিবাচক সাড়া ফেলবে বলেই আশা করা হচ্ছে। এই উদ্যোগ সফল হলে, এটি কেবলমাত্র দুই দেশের সম্পর্ক উন্নয়নে নয়, বরং পুরো অঞ্চলের স্থিতিশীলতা এবং উন্নয়নেও বড় ধরনের অবদান রাখবে।
আপনার মতামত লিখুন :
বি: দ্র: প্রিয় পাঠক সমালোচনা আপনার অধিকার । তবে ভাষাটাও মার্জিত হতে হবে। সাথে থাকার জন্য ধন্যবাদ ।