প্রকাশ: ৩১ আগস্ট ২০২১, ১:২
দেবীদ্বার উপজেলার ঐতিহ্যবাহী এলাহাবাদ পূর্ব বাজারে এক ভয়াবহ অগ্নিকান্ডে বিভিন্ন সামগ্রীর ১১টি দোকান ভষ্মীভূত হয়ে সম্পূর্ণ ছাই হয়ে যাওয়ার সংবাদ পাওয়া গেছে। এতে প্রায় দেড় কোটি টাকার উপরে ক্ষতিগ্রস্থ হওয়ার আশংকা করছেন ভোক্তভোগীরা। অগ্নিকান্ডের ঘটনাটি ঘটে সোমবার দিবাগত রাত পৌনে ২টায় এলাহাবাদ মধ্যবাজারে। কিভাবে এ অগ্নিকান্ডের সূত্রপাত তার সঠিক কোন তথ্য দিতে পারেননি ফায়ার সার্ভিস ও ভোক্তভোগী ব্যবসায়িরা।
স্থানীয়রা জানান, বাজার নৈশপ্রহরীদের সূর চিৎকারে এলাকাবাসী বাজার এবং বাড়ির মসজিদের মাইকে অগ্নিকান্ডের সংবাদ ছড়িয়ে দিলে তাৎক্ষনিক ক্ষতিগ্রস্থ ব্যবসায়িরাসহ শত শত মানুষ এসে আগুন নেভানোর কাজে যুক্ত হন। অপরদিকে ট্রিপল নাইনে (৯৯৯) ফোন করলে, বুড়িচং, ও মুরাদনগর ফায়ার সার্ভিসের ২টি ইউনিট রাত ৩ টায় ঘটনাস্থলে এসে প্রায় ২ ঘন্টাব্যপী অভিযান চালিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রনে আনেন। ততক্ষনে ১১ দোকানের সমস্ত মালামাল সম্পূর্ণ পুড়ে ছাই হয়ে যায়।
ইনসাফ মেডিকেল হল ও বিকাশ সার্ভিস সেন্টারের মালিক কান্নাবিজড়িত কন্ঠে বলেন, আমি নিঃস্ব হয়ে গেছি। নগদ টাকা সহ প্রায় ৬০লক্ষাধিক টাকার মালামাল সম্পূর্ণ পুড়ে ছাই হয়েগেছে। ব্যবসায়ী ব্যাংক লোনের প্রায় ২০লক্ষ টাকা বিনীয়োগ ছিল আমার। আগুনে আমাকে পথে বসিয়ে দিয়ে গেল। ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ী প্রবাসী বাবুল মিয়া বলেন, গত সোমবার রাত ৮টায় দোকান বন্ধ করে বাসায় চলে যাই। রাত ২টার দিকে মসজিদের মাইকে আগুন লাগার সংবাদ শুনে বাজরে এসে দেখি আগুন লেগেছে। আমার হার্ডওয়ার ও ফার্নিচারের দুটি দোকানের সকল মালামাল পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। আমার সব শেষ হয়ে গেল।
আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত নজরুল ইসলাম কান্না জড়িত কন্ঠে বলেন, ব্রাক ব্যাংক থেকে ১০ লাখ টাকা ঋণ নিয়ে হার্ডওয়্যারের দোকান দিয়েলিাম। দোকানের আয় দিয়ে পরিবারের খরচ চলতো। রাতে পাহারাদার কবিরের মোবাইল ফোনে আগুনের সংবাদ শুনে বাজারে এসে দেখি আমার দোকানের ১৫/১৬ লাখ মালামাল পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। এখন আমার পথে বসা ছাড়া আর কোন উপায় নাই। এছাড়াও আরো যেসব দোকান ভষ্মিভূত হয়েছে ওগুলোর মধ্যে,- অবসরপ্রাপ্ত সেনা সদস্য তমিজ উদ্দিনের সৈনিক বস্ত্রালয়, মোস্তফা কামালের সামিয়া ষ্টোর্স, ইসমাইল হোসেন’র মিম ভেরাইটিজ স্টোর, আজাদ কামাল’র বাবরি ফ্যাশন, মহসীন ভূইয়ার ভূইয়া কালেকশন, শাহীন আলমের শাহীন ট্রেডার্স, এবং উন্নত জাতের একটি কবুতর’র দোকান।
মুরাদনগর ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের সাব-অফিসার আব্দুর রব বলেন, সংবাদ পেয়ে আমরা মুরাদনগর ও বুড়িচং থেকে দুটি ইউনিট ঘটনাস্থলে যেয়ে প্রায় ২ ঘন্টাব্যাপী অভিযানে আগুন নিয়ন্ত্রনে এনেছি। তবে কি কারনে অগ্নিকান্ডের সূত্রপাত এবং ভষ্মিভূত ১১টি দোকানের ক্ষয়ক্ষতি পরিমান কত তা এমূহুর্তে বলতে পারবনা। তা তদন্ত রিপোর্ট আসার পরই বলতে পারব।
এলাহাবাদ বাজার কমিটির সাধারন সম্পাদক সিরাজুল ইসলাম কালু মূন্সী বলেন, অগ্নিকান্ডের সূত্রপাত কিভাবে বা কার দোকান থেকে ঘটেছে তা বলা যাচ্ছেনা। আমরা যখন টের পেয়েছি তখন সবকটি দোকানেই আগুনের লেলিহান শিখা জ্বলতে দেখতে পেয়েছি। বাজারের নজরুল মিয়ার হার্ডওয়ার ও ব্যাটারী চার্জার দোকানের বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট থেকে ওই অগ্নিকান্ডের সূত্রপাত হতে পারে বলে স্থানীয় একাধিক ব্যাক্তি ধারনা করছেন।