প্রকাশ: ৬ অক্টোবর ২০২৬, ২১:৫৮

বড় হয়ে মাদ্রাসার শিক্ষক হওয়ার স্বপ্ন ছিল ১৭ বছর বয়সী সীমা আক্তারের। ছোটবেলা থেকেই মাদ্রাসায় পড়াশোনা করা এই কিশোরীর সেই স্বপ্ন আর পূরণ হলো না। পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কক্সবাজারে বেড়াতে গিয়ে অটোরিকশার মোটরের সঙ্গে ওড়না পেঁচিয়ে মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে তার।
মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) রাতে কুমিল্লার দেবীদ্বার পৌর এলাকার বড় আলমপুর গ্রামে সীমাদের বাড়িতে নেমে আসে শোকের ছায়া। তখনও তার মরদেহ বাড়িতে পৌঁছায়নি। স্বজনদের আহাজারিতে ভারী হয়ে ওঠে পরিবেশ। মেয়েকে হারিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন বাবা মাহবুব আলম।
নিহত সীমা আক্তার কুমিল্লা নগরীর রেসকোর্স এলাকার ফাতেমাতুজ জোহরা মহিলা মাদ্রাসার আলিম দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী ছিল। পড়াশোনা শেষ করে শিক্ষকতা করার ইচ্ছা ছিল তার। মেয়ের সেই স্বপ্নের কথা স্মরণ করে কান্নাজড়িত কণ্ঠে জানান তার বাবা।
পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত রোববার রাতে পরিবারের ১৪ সদস্য একটি হাইয়েস ও একটি প্রাইভেটকারে কক্সবাজারের উদ্দেশে রওনা হন। সোমবার ভোরে সেখানে পৌঁছে মুহাম্মদীয়া গেস্ট হাউসের পাশের একটি আবাসিক হোটেলে ওঠেন তারা।
সারাদিন ঘোরাঘুরির পর মঙ্গলবার সকালে পরিবারের সদস্যরা সমুদ্রে গোসল করতে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। সকাল সাড়ে ১১টার দিকে দুটি অটোরিকশায় করে হোটেল থেকে সুগন্ধা পয়েন্টের উদ্দেশে রওনা হন তারা।

পথে অটোরিকশার মোটরের সঙ্গে সীমার ওড়না পেঁচিয়ে যায়। এতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয় বলে পরিবার সূত্রে জানা গেছে। পরে তাকে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
সীমার ফুফু সুরাইয়া আক্তার বলেন, পরিবারের সবাই মিলে আনন্দ করতে কক্সবাজারে এসেছিলেন। কিন্তু এমন মর্মান্তিক পরিণতির মুখোমুখি হতে হবে, তা কল্পনাও করেননি। আদরের সীমাকে হারিয়ে স্বজনেরা শোকে ভেঙে পড়েছেন।
রাত সোয়া ৯টার দিকে মরদেহের সঙ্গে থাকা সীমার চাচা আব্দুল বাতেন জানান, তারা চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড এলাকা অতিক্রম করেছেন। দেবীদ্বারে পৌঁছাতে আরও প্রায় তিন ঘণ্টা লাগতে পারে। বুধবার সকালে মরদেহ দাফনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।
এ বিষয়ে দেবীদ্বার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনিরুজ্জামান জানান, কক্সবাজারে দেবীদ্বারের এক কিশোরীর মৃত্যুর খবর তারা পেয়েছেন। ঘটনাটি কক্সবাজারে হওয়ায় সেখানকার পুলিশ আইনগত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করবে।