কুমিল্লার দেবীদ্বারে সড়কের জায়গায় অবৈধভাবে মার্কেট নির্মাণ করে রাখায় সড়ক সংস্কারকাজ বন্ধ হয়ে গেছে। এতে চলাচলে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন অন্তত ১২ গ্রামের মানুষ।
স্থানীয় ও প্রকৌশল বিভাগ সূত্রে জানা যায়, উপজেলার রসুলপুর ইউনিয়নের রসুলপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে শিবপুর মার্কেট পর্যন্ত প্রয় সাড়ে চার কিলোমিটার দীর্ঘ ও ১৩ ফুট প্রশস্ত সড়কটির সংস্কারকাজ চলছিল। ২০২৪-২০২৫ অর্থবছরে এলজিইডির সিসিবি প্রকল্পের আওতায় প্রায় ৬ কোটি ১৮ লাখ টাকা ব্যয়ে সড়কটি সংস্কারের দায়িত্ব পায় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ‘সাম কনস্ট্রাকশন লিমিটেড’। কাজটি গত বছরের ডিসেম্বরের মধ্যে শেষ হওয়ার কথা থাকলেও পরে মেয়াদ বাড়িয়ে চলতি বছরের ১৫ জানুয়ারি করা হয়।
কিন্তু সড়কের নবীপুর বাজার অংশে সড়কের জায়গা দখল করে মার্কেট নির্মাণ করে রাখায় দীর্ঘদিন যাবৎ কাজ বাধাগ্রস্ত হয়ে আছে। ফলে পুনরায় কাজের মেয়াদ বাড়িয়ে আগামী জুন মাস পর্যন্ত করা হয়েছে। এদিকে দীর্ঘদিন ধরে সড়কে খানাখন্দ ও গর্তবস্থায় পড়ে থাকায় এলাকার মানুষের চলাচলে দুর্ভোগ বেড়েই চলছে।
স্থানীয়রা জানায়, এই সড়কটি দিয়ে ১২ গ্রামের মানুষ কুমিল্লা-সিলেট আঞ্চলিক মহাসড়কসহ বিভিন্ন জেলা ও উপজেলার সঙ্গে যাতায়াত করে। সংস্কারের নামে সড়কটি খুঁড়ে রেখে কাজ বন্ধ থাকায় যানবাহন চলাচল প্রায় দুঃসাধ্য হয়ে পড়েছে।
মার্কেট মালিক পক্ষ বশিরুল আলম বলেন, “আমরা যখন মার্কেট নির্মাণ করি তখন পাশে প্রশস্ত সড়ক ছিল। যদি প্রমাণ হয় মার্কেটটি ১ নম্বর খাস খতিয়ানের জমিতে, তাহলে আমরা তা সরিয়ে নেব।
নবীপুর গ্রামের বাসিন্দা মো. আক্তার হোসেন বলেন, “দীর্ঘদিন আমাদের জমির ওপর দিয়েই সড়কটি ছিল। পাশেই বিপুল খাস জমি থাকা সত্তেও একটি প্রভাবশালী মহল সেই জমি দখল করে মার্কেট নির্মাণ করেছে। ভূমি অফিসে আবেদনের পর সার্ভেয়ার সীমানা নির্ধারণ করে খাস জমি থেকে মার্কেট সরানোর নির্দেশ দিলেও দখলদাররা তা মানছে না।
ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের স্বত্বাধিকারী মো. খোরশেদ আলম বলেন, “নবীপুর বাজারের জায়গাটি অবমুক্ত না হওয়ায় কাজ সম্পন্ন করা যাচ্ছে না। কয়েকবার ভেকু নিয়ে গেলেও ফিরে আসতে হয়েছে। বাধ্য হয়ে কাজ বন্ধ রাখতে হচ্ছে।”
উপজেলা প্রকৌশলীর বদলি ও নতুন প্রকৌশলী যোগদান না করায় সংশ্লিষ্ট দপ্তর থেকে এবিষয়ে কেউ মন্তব্য করতে রাজি হননি।
উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. ফয়সল উদ্দিন বলেন, ১ নম্বর খতিয়ানের খাস জমিতে মার্কেট নির্মাণ করে রাখার বিষয়টি আমাদের জানা আছে। মালিকরা স্বেচ্ছায় মার্কেট সরিয়ে না নিলে জনস্বার্থে ভলডোজার দিয়ে উচ্ছেদ করা হবে।