প্রকাশ: ১১ ফেব্রুয়ারি ২০২৫, ০:৫০
কুড়িগ্রামের দক্ষিন বাঁশজানি সীমান্তে ভারতীয় বিএসএফ কর্তৃক শূন্যরেখায় স্থাপিত সিসি ক্যামেরা অপসারণের সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিএসএফ। গত মঙ্গলবার (১১ ফেব্রুয়ারি) সকালে এই বিষয়ে কুড়িগ্রাম ব্যাটালিয়ন (২২ বিজিবি) এবং বিএসএফের মধ্যে পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকটি বাঁশজানি সীমান্তে বাংলাদেশী অঞ্চলে অনুষ্ঠিত হয়। বিজিবির পক্ষে নেতৃত্ব দেন কুড়িগ্রাম ব্যাটালিয়ন অধিনায়ক লে. কর্নেল মুহাম্মদ মাসুদুর রহমান এবং বিএসএফের পক্ষে নেতৃত্ব দেন ১৬২ বিএসএফ ব্যাটালিয়নের কমান্ডার শ্রী অনিল কুমার মনোজ।
বৈঠকে উভয় পক্ষই সিসি ক্যামেরা স্থাপন নিয়ে নিজেদের অবস্থান তুলে ধরে। বিএসএফ দাবি করে, ঝাকুয়াটারী জামে মসজিদ এলাকার নিরাপত্তার জন্য ক্যামেরাটি স্থাপন করা হয়েছে। তবে, বিজিবি জানিয়ে দেয় যে, এটি বাংলাদেশের অভ্যন্তরে শূন্যরেখায় অবস্থিত এবং তা গ্রহণযোগ্য নয়। ফলে দীর্ঘ আলোচনা শেষে, বিএসএফ শর্তসাপেক্ষে সিসি ক্যামেরা অপসারণের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে।
এছাড়া, পতাকা বৈঠকে মসজিদ এলাকায় শূন্য লাইনে নির্মিত টিনের স্থাপনাগুলো অপসারণের কথাও আলোচনা করা হয়। বিএসএফ তাদের আশ্বাস প্রদান করে যে, অবৈধ পাকা স্থাপনা নির্মাণ বন্ধ করা হবে এবং সীমান্তের ১৫০ গজের মধ্যে কোনো ধরনের স্থাপনা তৈরির অনুমতি দেয়া হবে না।
পূর্বে, ৯ ফেব্রুয়ারি রাতে ভারতের ১৬২ বিএসএফ ব্যাটালিয়নের সদস্যরা বাংলাদেশের শূন্যরেখার ৫ গজ ভেতরে ভারতীয় সীমান্তে একটি সিসি ক্যামেরা স্থাপন করেন। এটি পরবর্তীতে স্থানীয়দের নজরে আসে এবং তারা বিষয়টি বিজিবিকে জানায়। এরপর, বিজিবি বিএসএফকে ডেকে তাদের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানায় এবং ক্যামেরাটি অপসারণের দাবি করে।
বৈঠকটি ২ ঘণ্টা স্থায়ী হয় এবং উভয় দেশের প্রতিনিধির মধ্যে একাধিক আলোচনার পর পরিস্থিতি সমাধান হয়। তবে, বৈঠকটি সফলভাবে সমাধান হওয়ার পরেও সীমান্ত এলাকায় অব্যাহত উত্তেজনা রয়েছে।
এ ঘটনায় বিজিবির ভূমিকার প্রশংসা করা হয়েছে, কারণ তারা তৎক্ষণাৎ সিসি ক্যামেরার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানিয়ে এই সমস্যার সমাধান করেছে। একইসাথে, বিএসএফের সঙ্গে আরও সুসম্পর্ক বজায় রাখার জন্য তাদের পক্ষ থেকে বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
এখন, উভয় দেশের সীমান্ত এলাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করার জন্য বিজিবি এবং বিএসএফের মধ্যে আরও কার্যকর সহযোগিতার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এই বিষয়টি ভবিষ্যতে সীমান্ত এলাকার নিরাপত্তা বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
এছাড়া, এটি সীমানা অতিক্রম করা নিরাপত্তার গুরুত্বপূর্ণ দিকগুলোর উপরও আলোকপাত করে, যেখানে উভয় দেশের নিরাপত্তা বাহিনীর মধ্যে সমঝোতার প্রয়োজনীয়তা স্পষ্ট হয়ে ওঠে।