প্রকাশ: ১১ ফেব্রুয়ারি ২০২৫, ১৮:৪৯
ঝিনাইদহের হরিণাকুণ্ডু উপজেলার চাঁদপুর ইউনিয়নের হাকিমপুর গ্রামে ওয়াজ মাহফিলকে কেন্দ্র করে বিএনপির দুই গ্রুপের সংঘর্ষে মোশাররফ হোসেন (৩৫) নামে একজন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আরও ১০ জন আহত হয়েছেন। নিহত মোশাররফ হোসেন ওই এলাকার খবির মন্ডলের ছেলে এবং ঝিনাইদহ জজকোর্টে আইনজীবীর সহকারী হিসেবে কাজ করছিলেন। সংঘর্ষের পর আহতদের ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে, তবে মোশাররফের মৃত্যু হাসপাতালে পৌঁছানোর আগেই ঘটে।
এ সংঘর্ষের সূত্রপাত হয় সোমবার রাতে, যখন ওয়াজ মাহফিলের কমিটি গঠন নিয়ে দুই গ্রুপের মধ্যে বাকবিতণ্ডা শুরু হয়। দুই গ্রুপের মধ্যে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে বিরোধ দীর্ঘদিনের। এতে দুই পক্ষের মধ্যে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। এক পর্যায়ে, মঙ্গলবার সকালে দবির উদ্দিন এবং মোশাররফ হোসেন মাঠে গেলে প্রতিপক্ষের লোকজন তাদের ওপর হামলা চালায়। খবর পেয়ে উভয় পক্ষের লোকজন সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। এই সংঘর্ষে অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে কিছুজনের অবস্থা গুরুতর বলে জানা গেছে।
হাসপাতালে আসার পর, চিকিৎসক মোশাররফ হোসেনকে মৃত ঘোষণা করেন। আহতদের মধ্যে নাসির উদ্দিন এবং কওছার আলীর অবস্থা গুরুতর হওয়ায় তাদের উন্নত চিকিৎসার জন্য ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালে রাখা হয়েছে।
স্থানীয় ইউপি সদস্য আশরাফ উদ্দীন স্বপন জানিয়েছেন যে, এই সংঘর্ষের মূল কারণ ছিল স্থানীয় বিএনপির সভাপতি মহিউদ্দিন এবং গ্রাম মাতবর দবির উদ্দিনের মধ্যে দীর্ঘদিনের বিরোধ। গত সোমবার রাতে এই বিরোধ আরও তীব্র হয়, যখন ওয়াজ মাহফিলের কমিটি গঠন নিয়ে দুই গ্রুপের মধ্যে বাকবিতণ্ডা ঘটে। এর পরপরই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
নিহতের ভাই দবির উদ্দিন জানিয়েছেন, তার ভাই মোশাররফ সকালে মাঠে কাজ করছিলেন। এ সময় মহিউদ্দিনের লোকজন তার ওপর হামলা চালায় এবং তাকে কুপিয়ে হত্যা করে। দবির উদ্দিন জানান, মোশাররফ বাঁচতে বাড়ির দিকে দৌড়ে যাওয়ার চেষ্টা করেছিলেন, কিন্তু প্রতিপক্ষের লোকজন তাকে ধাওয়া করে বাড়ির সামনে কুপিয়ে হত্যা করে।
এ ঘটনার পর, পুলিশ মহিন নামের একজনকে আটক করে হেফাজতে নিয়েছে। হরিণাকুণ্ডু থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এম এ রউফ খান জানান, তুচ্ছ ঘটনায় এক পরিবারের মধ্যে বিরোধ ছিল, যা এ সংঘর্ষে রূপ নিয়েছে। তিনি আরও জানান, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে ঘটনাস্থলে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে এবং তদন্ত চলছে।
এই অপ্রত্যাশিত ঘটনা এলাকায় শোকের ছায়া ফেলেছে এবং স্থানীয়রা দোষীদের দ্রুত শাস্তি দাবি করছেন।