প্রকাশ: ২৮ জানুয়ারি ২০২৫, ২১:৩১
পটুয়াখালী পৌর শহরের কলাতলা হাউজিং স্টেটের গেটের সামনে গভীর রাতে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। এতে পুড়ে গেছে ৬টি দোকান এবং ক্ষতির পরিমাণ প্রাথমিকভাবে অর্ধ কোটি টাকার মতো নিরূপিত হয়েছে। স্থানীয়দের মতে, রাত আনুমানিক দুইটার দিকে আগুনের সূত্রপাত হয়। তারা নিজেদের চেষ্টা করে আগুন নেভানোর জন্য, কিন্তু তা ব্যর্থ হলে ফায়ার সার্ভিসকে খবর দেন। ফায়ার সার্ভিসের ৪টি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে এক ঘণ্টার প্রচেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।
আগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত দোকানগুলোর মধ্যে রয়েছে আব্দুর রহিমের একটি বড় মুদি দোকান, খুদিরামের সেলুন, শাহিনের লেপ-তোষকের দোকান, আলামিনের ভাতের হোটেল, একটি চায়ের দোকান এবং মোতালেবের গ্যাস সিলিন্ডারের দোকান। বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য যে, গ্যাস সিলিন্ডারের দোকানটি আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, কিন্তু এতে বিস্ফোরণ না হওয়ায় বড় ধরনের ক্ষতি থেকে রক্ষা পায় এলাকাবাসী।
স্থানীয়রা জানান, তারা আগুনের ধোঁয়া দেখেই অতি দ্রুত স্থানীয় ফায়ার সার্ভিসে খবর দেন এবং নিজেদের উদ্যোগে আগুন নেভানোর চেষ্টা করেন। তবে ফায়ার সার্ভিসের দ্রুত পদক্ষেপের কারণেই আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয় এবং বড় ধরনের ক্ষতি এড়ানো যায়। স্থানীয়দের মতে, এই অগ্নিকাণ্ডের ফলে অনেক দোকান মালিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন এবং তাদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি ক্ষতির শিকার হয়েছে আব্দুর রহিমের মুদি দোকানটি, যেখানে ২০ লাখ টাকার মালামাল ছিল।
ক্ষতিগ্রস্ত দোকান মালিকদের মধ্যে আলামিন, যিনি একটি খাবার হোটেল চালান, জানিয়েছেন যে, এই অগ্নিকাণ্ডে আনুমানিক অর্ধ কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে। বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য যে, মুদি দোকানী আব্দুর রহিম তার দোকানের মালামাল হারিয়ে বিষন্ন হয়ে পড়েছেন এবং আগুনের খবর পেয়ে তার শারীরিক অবস্থাও খারাপ হয়ে পড়ে।
এই অগ্নিকাণ্ডের ফলে ক্ষতিগ্রস্ত ছোট ব্যবসায়ীরা দিশেহারা হয়ে পড়েছেন। তারা দ্রুত তাদের ক্ষতিপূরণ ও পুনর্বাসনের দাবি জানিয়েছেন। স্থানীয়রা বলছেন, এই ক্ষতির পরিমাণ দ্রুত মেটাতে হবে এবং পুনর্বাসন প্রক্রিয়া শুরু করতে হবে, যাতে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীরা পুনরায় তাদের ব্যবসা শুরু করতে পারেন।
পটুয়াখালী ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের সিনিয়র স্টেশন অফিসার দেওয়ান মো. রাজিব জানান, তারা এক মিনিটের মধ্যেই ঘটনাস্থলে পৌঁছান এবং তাদের চারটি ইউনিট এক ঘণ্টার চেষ্টা শেষে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হন। তিনি আরও জানান, আগুনের সূত্রপাত সম্পর্কে এখনো বিস্তারিত কিছু জানা যায়নি, তবে প্রাথমিকভাবে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ৩০ লাখ টাকার কাছাকাছি নিরূপিত হয়েছে।
এ ঘটনায় স্থানীয় প্রশাসন এবং ফায়ার সার্ভিসের পক্ষ থেকে দ্রুত তদন্ত শুরু করা হয়েছে। তারা জানিয়েছেন, আগুনের সূত্রপাত খতিয়ে দেখতে এবং ভবিষ্যতে এমন ঘটনা পুনরাবৃত্তি যাতে না ঘটে, সে জন্য কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
এদিকে, স্থানীয়রা ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের পুনর্বাসন এবং সাহায্যের জন্য সরকারের সহায়তার দাবি জানিয়েছেন। তাদের মতে, এই ধরনের অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা যাতে ভবিষ্যতে এড়ানো যায়, তার জন্য এলাকায় ফায়ার সেফটি ব্যবস্থার উন্নতি করা জরুরি।
এছাড়া, স্থানীয় জনগণের মধ্যে আশঙ্কা রয়েছে, যে এই ধরনের ঘটনা আর ঘটতে না পারে এবং তারা আশা করেন, সরকারের পক্ষ থেকে দ্রুত উদ্ধার কাজ এবং সাহায্য প্রদান করা হবে।
অগ্নিকাণ্ডের পরে স্থানীয় ব্যবসায়ীরা ইতোমধ্যে তাদের ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ হিসাব করতে শুরু করেছেন এবং সবারই একটাই দাবি, ক্ষতিপূরণ এবং পুনর্বাসন যেন দ্রুত হয়।