
প্রকাশ: ১৭ নভেম্বর ২০২৪, ২৩:৭

ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পুরাতন ভবনের নাক, কান ও গলা বিভাগ থেকে এক ভুয়া নারী চিকিৎসককে আটক করেছে হাসপাতালের নিরাপত্তা দায়িত্বে থাকা আনসার সদস্যরা। ওই নারীর নাম পাপিয়া আক্তার স্বর্ণা, এবং তিনি মেডিকেলে চিকিৎসক হিসেবে পরিচয় দিচ্ছিলেন। রবিবার (১৭ নভেম্বর) দুপুর পৌনে ১টার দিকে তাকে আটক করা হয়।
হাসপাতালের নিরাপত্তা দলের প্লাটুন কমান্ডার পিসি মিজানুর রহমান জানান, এদিন সকালে আনসার সদস্যরা নিয়মিত টহল দিচ্ছিলেন। এ সময় এক মেডিকেল শিক্ষার্থী তাদের জানান, একজন নারী চিকিৎসক এপ্রোন পরে হাসপাতালের তৃতীয় তলায় ঘোরাফেরা করছেন, তবে তার নাম পরিচয় নিয়ে সন্দেহ দেখা দেয়। এরপর আনসার সদস্যরা ওই নারীকে জিজ্ঞাসা করলে, ঢাকা মেডিকেলের কোনও চিকিৎসক তাকে চেনেননি। পরে তাকে হাসপাতালে প্রশাসনিক ভবনে নিয়ে যাওয়া হয় এবং হাসপাতালের পরিচালক ও উপপরিচালকের পরামর্শে তাকে ঢামেক পুলিশ ক্যাম্পে সোপর্দ করা হয়।
পাপিয়া আক্তার স্বর্ণা জানান, তিনি নরসিংদীর মনোহরদী সদরের আরওয়াদিয়া গ্রামের আনোয়ার হোসেনের মেয়ে। বর্তমানে তিনি বকশিবাজার এলাকায় ভাড়া বাসায় থাকেন। স্বর্ণা দাবি করেন, তিনি তার পূর্ব পরিচিত এক রোগীকে চিকিৎসা করাতে ঢাকা মেডিকেলে এসেছিলেন। তবে চিকিৎসকের এপ্রোন কেন পরেছিলেন, এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি স্বীকার করেন, এটি একটি ভুল ছিল। তিনি বলেন, "এপ্রোনটি আমি একটি টেইলার্সের দোকান থেকে বানিয়েছিলাম। ভবিষ্যতে আর এ ধরনের কাজ করব না।"

ঢাকা মেডিকেলের পুলিশ ক্যাম্পের পরিদর্শক মো. ফারুক জানান, বিষয়টি শাহবাগ থানাকে জানানো হয়েছে এবং এ ব্যাপারে পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়া গ্রহণ করা হবে।
এটি ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এ ধরনের দ্বিতীয় ঘটনা। গত বছর ডিসেম্বরে 'মুনিয়া রোজা' নামে এক ভুয়া নারী চিকিৎসককে আটক করা হয়েছিল। পরে তার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।
ঢাকা মেডিকেল কর্তৃপক্ষ ও নিরাপত্তা বাহিনী এ ধরনের ঘটনা রোধে সতর্ক অবস্থানে থাকলেও, এই ধরনের প্রতারণার ঘটনা মেডিকেল কলেজের জন্য একটি বড় উদ্বেগের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।