প্রকাশ: ৫ জানুয়ারি ২০২৪, ৩:২১
আগামী ৭ জানুয়ারী রোববার অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। নানা ঘটনায় দেশব্যাপী আলোচিত এমপি রাজী মোহাম্মদ ফখরুল (নৌকা) ও সাবেক উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মোঃ আবুল কালাম আজাদ (ঈগল) প্রতীক নিয়ে এবার নির্বাচনের মাঠে কুমিল্লা-৪ (দেবীদ্বার) আসনে মূল প্রতিদ্বন্দ্বীতায় মুখোমুখি অবস্থানে রয়েছেন। তবে নৌকা-ঈগল প্রতীকের প্রার্থীরা স্ব স্ব অবস্থান থেকে নিজেদের বিজয়ে শতভাগ আশাবাদী। তবে এ আসনে সুষ্ঠু নির্বাচন নিয়ে আতংক ও উৎকন্ঠার মধ্যে রয়েছে সাধারণ ভোটাররা। আসনটিতে ১১৪ টি কেন্দ্রের মধ্যে ৭৪টি কেন্দ্রই ঝুকিপূর্ণ। নির্বাচন সুষ্ঠু করতে প্রশাসন ও আইন শৃংখলা বাহিনীর রয়েছে ব্যাপক প্রস্তুতি।
নির্বাচনে একজন স্বতন্ত্র ও ১১টি রাজনৈতিক দলসহ ১২ জন প্রার্থী অংশ নিয়েছেন। তবে এ আসনে নৌকা ও ঈগল প্রতীকের মধ্যে মূল লড়াই হবে। আসনটিতে আওয়ামীলীগ ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতা-কর্মীরা দু’ভাগে বিভক্ত রয়েছেন। ‘নৌকার’ পক্ষে কুমিল্লা (উঃ) জেলার সভাপতি, সাধারন সম্পাদক, একাধিক সহ-সভাপতি, উপদেষ্টা ও উপজেলা আ’লীগের সভাপতি সাধারন সম্পাদক, উপজেলা পরিষদ ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান, পৌর মেয়র, যুবলীগ, সেচ্ছাসেবকলীগসহ নানা পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ রয়েছেন।
অপরদিকে স্বতন্ত্র প্রার্থী ’ঈগল’ প্রতীকের পক্ষে জেলা আওয়ামীলীগের সহ-সাধারণ সম্পাদকসহ শীর্ষ পর্যায়ের বেশ কিছু নেতা, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের আওয়ামীলীগ, ছাত্রলীগসহ বিভিন্ন গনসংগঠনের নেতা-কর্মী ছাড়াও ১৫ ইউনিয়ন পরিষদের মধ্যে ১১ ইউপি চেয়ারম্যান এবং জাতীয়পার্টি কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সভাপতি অধ্যাপক ইকবাল হোসেন রাজু রয়েছেন।
নির্বাচন অফিস সূত্রে জানাযায়, কুমিল্লা-৪ (দেবীদ্বার) আসনটি একটি পৌরসভা ও ১৫ ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত। এতে ৩ লক্ষ ৭৪ হাজার ৫২৬ ভোটর য়েছে, তার মধ্যে ১লক্ষ ৯৪ হাজার ২৭৬ পুরুষ ভোট এবং মহিলা ভোটর য়েছে ১ লক্ষ ৮০ হাজার ২৫০ ভোট। ভোট কেন্দ্র রয়েছে ১১৪ টি, তারমধ্যে ৭৪টি কেন্দ্রই ঝুঁকিপূর্ণ।
অপরদিকে সুষ্ঠু নির্বাচন নিয়ে আতংক ও উৎকন্ঠার মধ্যে রয়েছে সাধারণ ভোটাররা। নির্বাচনের দিন বিভিন্ন কেন্দ্রে কেন্দ্রে নৌকার প্রার্থী রাজী মোহাম্মদ ফখরুল ও ঈগল প্রতীকের স্বতন্ত্র প্রার্থী আবুল কালাম আজাদের কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে বড় ধরনের সংঘর্ষ এবং অন্যদিকে নির্বাচন বর্জনে বিএনপি-জামায়াতের কর্মসূচি নিয়ে আশংকায় রয়েছেন এখানকার ভোটাররা। এর প্রভাবও পরতে পারে নির্বাচনের দিন ভোটকেন্দ্রে ভোটার উপস্থিতিতে। তাছাড়া নির্বাচন সুষ্ঠু করতে প্রশাসন ও আইন শৃংখলা বাহিনীর রয়েছে ব্যাপক প্রস্তুতি।
এ ব্যাপারে সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা ও উপজেলা নির্বাহী অফিসার নিগার সুলতানা জানান, অবাধ নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠানের লক্ষে আমাদের ব্যাপক প্রস্তুতি রয়েছে। নির্বাচনী পরিবেশ বজায় রাখতে বিপুল সংখ্যক আইনশৃংখলা রক্ষা বাহিনীর সদস্য প্রস্তুত রাখা হয়েছে। একজন করে ম্যাজিষ্ট্রেটের নেতৃত্বে ৬টি মোবাইল টিম। ১৫টি ষ্ট্রাইকিং ফোর্স, একজন মেজরের নেতৃত্বে ২ প্লাটুন (৪৫ জন) সেনা সদস্য, একজন সুবেদারের নেতৃত্বে ৩ প্লাটুন (৬০ জন) বিজিবি সদস্য, ২৫০ জন পুলিশ সদস্য ও ১ হাজার ৩৬৮ জন আনসার প্রস্তুত রাখা হয়েছে। এরা ভোট গ্রহনের দিন নির্বাচনী সুষ্ঠু পরিবেশ রক্ষাসহ ভোটের আগে ও পরে আইনশৃংখলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে দায়িত্ব পালন করবে।