
প্রকাশ: ২৩ আগস্ট ২০২২, ২:৫৪

সম্প্রতি ছাত্র অধিকার পরিষদের দুই নেতাকে মারধরের ঘটনায় মারধরকারী ছাত্রলীগের ছয় কর্মী গতকাল সোমবার প্রকাশ্যে সংবাদ সম্মেলন করে ক্ষমা চায়। তারই একদিনের মাথায় আবার সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে তাদের ওই মারধরের ঘটনা ব্যক্তিগত জায়গা থেকে করা হয়েছে বলে দাবি করেছেন অভিযুক্ত ওই ছাত্রলীগ কর্মীরা। এর দায় ছাত্রলীগের উপর না চাপানোর অনুরোধ করেন তারা। মঙ্গলবার (২৩ আগষ্ট) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতির (ডুজা) কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলন করে এই তথ্য জানান তারা। এর আগে সোমবার দুপুরে ছাত্র অধিকার পরিষদের নেতা-কর্মীদের সাথে তাদের সমঝোতা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে ছাত্রলীগ কর্মীরা বলেন, গতকাল সোমবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতিতে আমরা দুঃখ প্রকাশ করি এবং ভুল বোঝাবুঝি দূর করে নিজেদের মধ্যে সমঝোতা করি। কিন্তু সেই ঘটনাকে কেন্দ্র করে কিছু অনলাইন পোর্টালে নিউজ করা হয়, ‘ছাত্রলীগ বা ছাত্রলীগ কর্মী ক্ষমা চেয়েছে’ যা সত্য ঘটনার সাথে পুরোপুরি সংগতিপূর্ণ নয়। এতে প্রতীয়মান হয় যে, আমাদের ব্যক্তিগত ভুলে সংগঠনকে দায় দেওয়া হয়েছে। সংবাদ মাধ্যমগুলোতে ছাত্রলীগের নাম ব্যবহার করায় আমরা বিব্রতকর পরিস্থিতিতে পড়েছি।
এই ঘটনায় ব্যক্তিগতভাবে লজ্জিত বলে মনে করেন ছাত্রলীগ কর্মীরা। তারা বলেন, অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার জন্য আমরা ব্যক্তিগতভাবে লজ্জিত। আমাদের ব্যক্তিগত ভুলের জন্য কোনভাবেই সংগঠনকে জড়ানো ঠিক হবে না। মূল ঘটনাটি হলো আমরা সবাই ব্যক্তিগতভাবে দুঃখ প্রকাশ করেছি এবং উভয় পক্ষ সমঝোতার মাধ্যমে সমস্যার সমাধান করেছি। কারণ আমরা ছাত্রলীগের নির্দেশে সংঘর্ষে জড়াইনি। এমনকি ছাত্রলীগের প্রতিনিধি হিসেবেও দুঃখ প্রকাশ করিনি।

প্রসঙ্গত, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকের মেসেঞ্জারে গ্রুপে দেওয়া এক বার্তাকে কেন্দ্র করে ‘রাষ্ট্রবিরোধী কর্মকাণ্ড ও জঙ্গি সংগঠনের সঙ্গে সম্পৃক্ততার’ অভিযোগ এনে এক ছাত্রকে থানায় সোপর্দ করে ঢাবির মুক্তিযোদ্ধা জিয়াউর রহমান হলের প্রাধ্যক্ষ মোহাম্মদ বিল্লাল হোসেন। থানায় সোপর্দ করা মেফতাহুল মারুফকে মুক্ত করে শাহবাগ থানা থেকে টিএসসিতে যাওয়ার পথে সেদিন দুপুরে হামলার শিকার হন ছাত্র অধিকার পরিষদের নেতা সালেহউদ্দিন সিফাত ও আহনাফ সাইয়্যেদ খান বলে দাবি ছাত্র সংগঠনটি। তবে এদিকে পুরো ঘটনার সঙ্গে ছাত্রলীগের কোনো সম্পৃক্ততা নেই বলে দাবি করে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের।
এ ঘটনায় জড়িত ছাত্রলীগ কর্মীরা হলেন- আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের শিক্ষার্থী তানজিল তুষার, গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের হেদায়েত উল্লাহ, রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের ইত্তেজা হোসেন রাকিব, পপুলেশন সায়েন্সেস বিভাগের আব্দুল্লাহ আল মাসুরুর রুদ্র, ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের সুমন আলী, এফ রহমান হল ছাত্রলীগ কর্মী রোকনুজ্জামান রোকন। সংবাদ সম্মেলনে এরা সবাই উপস্থিত ছিলেন।
সূত্র: বিডি২৪লাইভ