
প্রকাশ: ২২ আগস্ট ২০২২, ১৮:৫৭

দীর্ঘ প্রায় ৪৬ বছর ধরে স্বাধীনতার সূতিকাগার ঐতিহাসিক মুজিবনগর খ্যাত মেহেরপুর জেলাকে রেল সংযোগের আওতায় আনার নানা পরিকল্পনা গ্রহণ করা হলেও বাস্তবায়নের কোন উদ্যোগ নেওয়া হয়নি বিগত দিনে। তবে এবার শীগগিরই শুরু হবে মেহেরপুরে রেল সংযোগের কাজ। ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে নকশা তৈরির কাজ।
ব্রিটিশ আমলেই মেহেরপুরে রেল সংযোগের প্রস্তাব আনা হয় তবে এতদিনে তা কাজে রূপ নিতে যাচ্ছে। ২০১১ সালের ১৭ এপ্রিল ঐতিহাসিক মুজিবনগর দিবসের জনসভায় গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মেহেরপুরকে দর্শনার সঙ্গে সংযুক্ত করার জন্য রেললাইন নির্মাণের ঘোষণা দেন। কিন্তু ২০১৭ সাল নাগাদ এ ঘোষণার কোন বাস্তবায়ন না হলেও ২০১৮ সালের সেপ্টেম্বরের দিকে প্রায় ১৩ কোটি টাকা ব্যয়ে রেললাইন নির্মাণের সম্ভব্যতা যাচাই ও লাইনের বিস্তারিত নকশা তৈরির একটি প্রকল্প হাতে নেয় বাংলাদেশ রেলওয়ে।
দর্শনা-মেহেরপুর রেল সংযোগ সম্ভব্যতা যাচাইয়ের তথ্য অনুযায়ী, মোট ৫৬ কিলোমিটার রেললাইন স্থাপন করতে হবে বলে জানা গেছে। যারমধ্যে ৩৫ কিলোমিটার মূল লাইন, ১০ কিলোমিটার লুপ লাইন এবং সাড়ে ৩ কিলোমিটার সাইড লাইন।
দর্শনা, বাস্তোপুর, কানাইডাঙ্গা, মুজিবনগর, মোনাখালি ও মেহেরপুর'কে নিয়ে এই লাইনে স্টেশন থাকবে ৬টি। রেল সংযোগ লাইনের মাথাভাঙ্গা নদীতে ১টি সেতু এবং ভৈরব নদীর উপর আরো ২টি সেতু থাকবে। একইসাথে ৬৩টি কালভার্টও নির্মাণ করতে হবে। লাইন নির্মাণসহ অন্যান্য কাজে সর্বমোট ব্যয় হবে ২ হাজার ৫৮ কোটি টাকা।


প্রকল্পটি বাস্তবায়নের লক্ষ্যে কর্তৃপক্ষকে প্রায় ৪২১ একর জমি অধিগ্রহণ করতে হবে। ইতিমধ্যেই যার মাপ-যোগের কাজ সম্পন্ন হয়েছে বলে জানা গেছে।
রেল সংযোগের কাজ মেহেরপুরে শেষ হলে জেলার আর্থসামাজিক উন্নয়নে ব্যাপক ভূমিকা রাখবে বলে জানান স্থানীয়রা।
এদিকে রেল সংযোগ স্থাপনের বিষয়ে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ও মেহেরপুর -০১ আসনের সংসদ সদস্য অধ্যাপক ফরহাদ হোসেন জানান, '১৯৭১ সালে বাংলাদেশের প্রথম সরকার মেহেরপুরের ঐতিহাসিক মুজিবনগরে শপথ নিয়েছিল। যার ফলে ঐতিহাসিকভাবে মেহেরপুর গুরুত্বপূর্ণ। যার ফলে প্রধানমন্ত্রীর দেওয়া প্রতিশ্রুতী বাস্তবায়নে রেল সংযোগ স্থাপনের কাজ শুরু হয়েছে।'