টাঙ্গাইলের ভূঞাপুর উপজেলার যমুনা নদীর চরাঞ্চলে বিভিন্ন ধরনের ফসল উৎপাদনের জন্য বিখ্যাত।কিন্তু এই অঞ্চলের মানুষ বর্তমানে ঘাসও উৎপাদন করছে।বিভিন্ন জাতের ঘাস উৎপাদন করে বর্তমানে জীবিকা নির্বাহ করছে অনেকেই।বুধবার (২৫ আগস্ট) সরেজমিনে গিয়ে ভূঞাপুরের যমুনানদীর তীরে গোবিন্দাসী ঘাটে এ রকম চিত্র দেখা গেছে।
ভোর হতে না হতেই ঘাসের স্তুপ দেখা যায় এখানে।বিভিন্ন এলাকার মানুষ আসে ঘাস কিনতে।গরু-ছাগলের উপাদেয় খাদ্য হিসেবে পরিচিত এই সকল ঘাস।নেপিয়ার, দূর্বাঘাস, গর্বাঘাস সহ আরও অনেক রকমের ঘাসের স্তুপ দেখা গেছে সেখানে।এ ছাড়া বর্তমানে কাঁঠাল পাতাও বিক্রি হচ্ছে এই বাজারে!যমুনার চরাঞ্চলের এ সকল মানুষ বর্তমানে এখান থেকেই আয়ের উৎস বের করার জন্য প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।জানা যায়,প্রতিটি আঁটি আকার ভেদে বিভিন্ন দামে বিক্রি হয়।এক আঁটি কাঁঠাল পাতা ৩০ টাকা,দুর্বাঘাস ৭০-৮০ টাকা,গর্বাঘাস ৭০-৮০ টাকা,নেপিয়ার ঘাস প্রকার ভেদে ৩০-৮০ টাকা দরে বিক্রি হয়।
ঘাস বিক্রি করতে আসা কালিপুর গ্রামের মো. মিজানুর (৩৫) বলেন,চরাঞ্চলে ঘাস চাষ করে প্রতিদিন এখানে বিক্রি করে জীবিকা নির্বাহ করি।যমুনার পানি বাড়ার কারনে ঘাস ডুবে যাওয়ায় একটু চিন্তায় আছি।তবুও সংসার চালাচ্ছি। তাছাড়া সারা বছরই ঘাস চাষ করে সেগুলো বিক্রি করে পরিবারের প্রয়োজন মেটানো যায়।ঘাস বিক্রেতা মো. ফজল শেখ (৬০) জানান,প্রতিদিন এখানে অনেক মানুষ ঘাস কিনতে আসে।আমরা ঘাস বিক্রি করে স্বাবলম্বী হওয়ার চেষ্টা করছি।এ ছাড়া ঘাস বিক্রির টাকায় অনেকের ভালো আয়ও হয়।
ঘাস বিক্রি করতে আসা রুলিপাড়া গ্রামের রাব্বি(১৯) জানান,আমরা গরীব মানুষ।ঘাস বিক্রি আর মাছ বিক্রির টাকায় সংসার চালাই।আমার লেখাপড়ার খরচও এখান থেকে চালাই।ঘাস বহন করা নায়িব (২৭) জানান,আমি ভ্যান নিয়ে প্রতিদিন এখানে চলে আসি। ঘাস পরিবহন করে জীবিকা নির্বাহের চেষ্টা করছি।চরাঞ্চলে ঘাস চাষ ভালো হয়।তাই সকাল সকাল এখানে ঘাস বহন করতে চলে আসি।ঘাস ক্রয় করতে আসা মো. জুরান আলী(৬২) জানান,আমি প্রায়ই আসি এই ঘাসের বাজারে। আজকে তিন আঁটি ঘাস কিনেছি ৯০ টাকা দিয়ে।
এ ছাড়া উপজেলার বিভিন্ন এলাকার মানুষ এখানে ঘাস কিনতে আসে।যমুনার তীর ঘেষা এই বাজার একসময় টাটকা মাছের বাজার হিসেবে পরিচিত লাভ করলেও বর্তমানে এটি ঘাস বাজার হিসেবে গরু লালনপালন কারী মানুষদের কাছে ঘাস বাজার হিসেবে পরিচিতি লাভ করেছে।ভবিষ্যতে এটি আরও পরিচিতি লাভ করবে বলে আশা ঘাস ক্রেতা ও বিক্রেতা উভয়ের।