প্রকাশ: ২৪ জুলাই ২০২১, ২২:১৫
কঠোর বিধিনিষেধে গণপরিবহন বন্ধ থাকার কারণে যানবাহন সংকটে ঈদ শেষে কর্মস্থলে ফেরা অনেকের জন্য কঠিন হয়ে পড়েছে। এতেকরে ঈদ পরবর্তীতে দৌলতদিয়া ঘাটের চিরচেনা সেই রূপ আর নেই। অনেকটা ফাঁকা অবস্থায় ফেরিগুলো পন্টুনে দীর্ঘক্ষন অপেক্ষা করতে হচ্ছে যানবাহনের জন্য। তবে দক্ষিণ- পশ্চিমাঞ্চল থেকে বিভিন্ন উপায়ে দৌলতদিয়া ঘাটে আসা সাধারন যাত্রীদের ভিড় ছিল চোখে পড়ার মত। শনিবার সকাল থেকে দৌলতদিয়া ঘাটে সরেজমিন ঘুরে এমন চিত্রই দেখা যায়।
জানাযায়, কঠোর বিধিনিষেধের দ্বিতীয় দিন আজ শনিবার ভোর থেকেই গোয়ালন্দ উপজেলার দৌলতদিয়া ঘাট এলাকায় ঢাকামুখি যাত্রীদের চাপ রয়েছে। এ সকল যাত্রীরা অটোরিক্সা, থ্রীহুইলার মাইক্রোবাস সহ বিভিন্ন যানবাহনে ভেঙে ভেঙে দৌলতদিয়া ঘাটে পৌছাচ্ছেন। অনেক শ্রমজীবি মানুষকে ঢাকা-খুলনা মহাসড়ক দিয়ে পায়ে হেটে ফেরি ঘাটে পৌছে। চলাচলকারী ফেরিগুলো ঘাটে আসা যানবাহন এবং বিপাকে পড়ে আসা মানুষ নিয়েই ঘাট ছেড়ে যাচ্ছে।
সরেজনি শনিবার সকাল ১০ টার দিকে দৌলতদিয়া ঘাট ঘুড়ে দেখা যায়, ঢাকা-খুলনা মহাসড়ক অনেকটাই ফাঁকা। একেবারে বিপাকে পড়া মানুষজন বৃষ্টির মধ্যেই বাইরে বের হয়েছে। কেউ পায়ে হেঁটে আবার কেউ মাথায় পলিথিন মুড়ে বা রিক্সায় করে দৌলতদিয়া ঘাটে এসে নামছেন। আবার অনেকে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে ব্যাটারী চালিত অটোরিক্সা বা থ্রীহুইলার রিজার্ভ করে ঘাটে নামছে। তারা কোন বাধার সম্মুখীন না হয়েই সরাসরি ফেরিতে উঠছেন। ফেরিতে ব্যক্তিগত কিছু গাড়ি, মোটরসাইকেল আর আগত যাত্রীদের নিয়েই মানিকগঞ্জের পাটুরিয়া ছেড়ে যাচ্ছে। এছাড়া কিছু খেটে খাওয়া মানুষজন ফাঁকা মহাসড়ক দিয়ে পায়ে হেটে ফেরি ঘাটের দিকে যাচ্ছেন।
মধুখালি থেকে অটোরিক্সায় দৌলতদিয়া ঘাটে আসা যাত্রী কুলসুম আক্তার বলেন, তিনি ঢাকায় একটি বেসরকারী প্রতিষ্ঠানে চাকুরী করেন। ঈদের পর আগামীকাল রোববার থেকে অফিস খোলা। কঠোর লকডাউনের মধ্যে ঢাকা যাওয়া তো খুবই কষ্টকর।তারপরও অফিসে যেতে হবে। তা না হলে তো চাকরি থাকবে না। তাই আজই খুব সকালে ঘুম থেকে উঠেই একটি অটোরিক্সা রিজার্ভ করে ১ হাজার টাকা ভাড়া দিয়ে ঘাটে এসেছি। এখন নদী পাড়ি দিয়ে পাটুরিয়া থেকে যে কোন উপায়ে হোক ঢাকা পৌছতে হবে।
বেলা সাড়ে ১২ টার দিকে পাটুরিয়া থেকে আসা কেরামত আলী ফেরি দৌলতদিয়ার ৫ নম্বর ঘাটে এসে ভিড়ে। এ সময় ফেরিতে কয়েকটি ব্যক্তিগত ও পণ্যবাহী যানবাহন এবং বেশ কয়েকজন যাত্রী দেখা যায়। ফেরিটি প্রায় এক ঘন্টা অপেক্ষার পর দৌলতদিয়া ঘাট থেকে প্রায় ২০০’শত যাত্রী, কয়েকটি মোটরসাইকেল ও কিছু মাইক্রোবাস,পণ্যবাহী ট্রাক নিয়ে পাটুরিয়ার উদ্দেশ্যে ছেড়ে যায়।
বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহ কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিসি) দৌলতদিয়া কার্যালয়ের ব্যবস্থাপক মো: শিহাব উদ্দিন বলেন, উভয় ঘাটে ছোট-বড় মিলেই মোট ১৬টি ফেরি রয়েছে। যখন যে ঘাট থেকে যানবাহন নিয়ে ছাড়া প্রয়োজন সেভাবেই ছেড়ে যাচ্ছে। এছাড়া একটি মাঝারী আকারের ভিআইপি ফেরি রাখা হয়েছে। যে কোন মুহুর্তে গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি আসলে তাদেরকে পারাপার করা হবে। তবে কঠোর বিধিনিষিধের কারণে ঘাটে আসা যানবাহন সরাসরি ফেরিতে ওঠার সুযোগ পাচ্ছে।