প্রকাশ: ২ জুলাই ২০২১, ২০:৩১
ভয়াবহ নদী ভাঙন আতংকে হুমকির মুখে রয়েছে দৌলতদিয়া ফেরিঘাট। যে কোন সময় পদ্মা নদীর বুকে চলে যেতে পারে লঞ্চঘাট ও ১নং ফেরি ঘাট। শুক্রবার সকালে দৌলতদিয়া লঞ্চঘাট এলাকায় সরেজমিন গিয়ে এবং সংশ্লিষ্টদের সাথে কথা বলে এমনি চিত্র দেখা যায়।
রাজাবাড়ী পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপসহকারী প্রকৌশলী ইকবাল সরদার জানান, লঞ্চঘাট এলাকায় ১'শত মিটার এলাকায় বালু ভর্তি জিয়ো ব্যাগ ফেলা হচ্ছে। ২টি প্যাকেজে ৬হাজার ১০টি জিয়ো ব্যাগ নদীতে ফেলা হবে। এরই মধ্যে ৫হাজার ৯৬টি বালু ভর্তি জিয়ো ব্যাগ নদীতে ফেলা হয়েছে।
তবে ৫৫০টি বালু ভর্তি জিয়ো টিউব ব্যাগ লঞ্চঘাট পল্টুনের গায়ে ফেলা হবে। এর মধ্যে ১'শত বালু ভর্তি জিয়ো টিউব ব্যাগ ফেলা হয়েছে। কিন্ত বাংলাদেশ অভ্যান্তরীন নৌপরিবহন কতৃপপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ) এর লঞ্চ ঘাটের পল্টুনের কারণে বালু ভর্তি জিয়ো টিউব ব্যাগ গুলো নদীতে ফেলানো সম্ভব হচ্ছে না। তিনি আরো বলেন, পল্টুন সরানোর জন্য চিঠিও দেওয়া হয়েছে।
আরিচা পোর্ট অফিসার মাসুদ পারভেজ জানান, লঞ্চ ঘাটের পল্টুন সরানোর জন্য এখন পর্যন্ত আমরা কোন আবেদন পায়নি। যে কারণে পল্টুন সরানো যাচ্ছে না। আবেদন পেলে অবশ্যই পল্টুন সরানো হবে। এদিকে লঞ্চঘাটের পাশে ১নং ফেরি ঘাটও নদী ভাঙন আতংকে রয়েছে। যে কোন সময় নদীর বুকে চলে যেতে পারে এই ঘাটটি। আবার লঞ্চঘাট এবং ১নং ফেরি ঘাটের পাশে অবস্থিত প্রায় ১'শত পরিবার ভাঙন আতংকে সময় পার করছে।
লঞ্চঘাটের পাশে অবস্থিত দৌলতদিয়া ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক ২নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য উজ্জল হোসেন বাবু বলেন, ৩ বার ভাঙনের কারণে দৌলতদিয়া লঞ্চঘাটের পাশে পরিবার পরিজন নিয়ে বসবাস করি। এখন যদি নদীতে ভেঙ্গে যায় তাহলে আমাদের আর যাওয়ার কোন জায়গা নেই। তিনি আরো বলেন, কারোনা কালীন আয় রোজগার সম্পন্ন বন্ধ রয়েছে। এর পর যদি বাড়ী ভাঙতে হয় তাহলে আমরা যাবো কোথায়!
এসময় স্থানীয় বাসিন্দা হাবিব মন্ডল বলেন, শতাধিক বিঘা আবাদি জমি নদীতে চলে যাওয়ার পর জায়গার অভাবে লঞ্চঘাটের পাশে বসবাস করছি। এখন নদী ভাঙলে আমার যাওয়ার কোন জায়গা নেই।
চায়ের দোকানদার কামাল মন্ডল বলেন, ৯জনের সংসার। চায়ের দোকান করে
চালাতে হয়। করোনার কারণে দোকানও বন্ধ। এখন যদি বাড়ী ভাঙতে হয় তাহলে কি উপায় হবে।
একাধিকবার নদী ভাঙন কবলিত টোকন মন্ডল বলেন, পদ্মানদীতে একাধিকবার ভাঙনের কারণে দৌলতদিয়া ঘাটে এসে বাস করি। সেটাও ভাঙন আতংকে রয়েছে। নদী ভাঙন প্রতিরোধ না করলে সেটাও চলে যাবে। তিনি সরকারের কাছে দাবি রেখে বলেন, সরকারের উচিত দৌলতদিয়া ঘাট রক্ষা করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার।
গোয়ালন্দ উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মোস্তফা মুন্সী জানান, প্রতি বছর নদী ভাঙনে কিছু বালু ভর্তি জিয়ো ব্যাগ নদীতে ফেলিয়ে
দায়িত্ব শেষ হয়। যে কারণে প্রতি বছর ভাঙনের কবলে পরতে হয়। তিনি সরকারের কাছে দাবি রেখে আরো বলেন, দৌলতদিয়া ঘাট রক্ষা করতে হলে অবশ্যই নদী ভাঙন প্রতিরোধ করতে হবে।