প্রকাশ: ৩১ মে ২০২১, ১২:৪০
বরিশালে মেঘা (১২) নামের ৬ষ্ঠ শ্রেণীর এক ছাত্রীকে নিয়ে অজানার উদ্দেশ্যে পাড়ি জমিয়েছে ৫০ বছর বয়সী ট্যালেন্ট কোচিং সেন্টারের শিক্ষক শহিদ খান। বুড়ো স্বামীর এহেন কান্ডে লোক লজ্জায় লম্পট শহিদের স্ত্রী গত শনিবার নিজ বাসায় গলায় ফাঁস লাগিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করেন। তবে সন্তানদের চিৎকারে প্রতিবেশিরা এগিয়ে এসে গৃহবধুকে উদ্ধার করে তার পিতার জিম্মায় দিয়েছে। বর্তমানে শহিদের ২ কন্যা ও স্ত্রী বাবার বাড়িতে অবস্থান করছে।
গত বৃহস্পতিবারের এ ঘটনা গতকাল রবিবার প্রকাশ পাওয়ায় গোটা নবগ্রাম রোডের বাসিন্দাদের মাঝে তোলপাড় সৃস্টি হয়েছে। রবিবার সন্ধ্যা ৭টার দিকে ভূক্তভোগী তরুনীর মা ডালিয়া বেগম বাদী হয়ে কোতয়ালী মডেল থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে কোতয়ালী মডেল থানা পুলিশ। শিশু ছাত্রী নিয়ে পালিয়ে যাওয়া ঐ শিক্ষকের নাম মোঃ শহিদ খান(৫০)। তিনি নবগ্রাম রোডের মৃত আব্দুর গফুর খানের পূত্র।
জানা গেছে, নগরীর ২৩ নং ওয়ার্ড দক্ষিন সাগরদী সর্দার পাড়ার বাসিন্দা মানিক হাওলাদারের কন্যা ডালিয়া বেগম (২৭) এর সাথে ১৩ বছর পূর্বে ফিরোজ হাওলাদারের সাথে প্রেমের সম্পর্কে বিয়ে হয়। সেই ঘরেই জন্ম গ্রহন করে মেঘা। গত ১ বছর আগে ডালিয়া বেগমের সাথে ফিরোজ হাওলাদারের ছাড়াছাড়ি হলে গৌরনদীর বাটাজোরের বাসিন্দা সিএনজি চালক রাসেলের সাথে মোবাইলে প্রেমের সূত্রে গত দেড় মাস পূর্বে ডালিয়া বিয়ে করেন। উল্লেখ্য, ডালিয়ার ২য় স্বামী রাসেল নও মুসলিম।
মেঘার মা এ প্রতিবেদককে জানান, তার প্রথম স্বামীর সাথে ছাড়াছাড়ির পর মেয়েকে নিয়ে অনেক কষ্টে দিন যাপন করছেন। শত কষ্টের মধ্যেও মেয়েকে মানুষ করতে এক স্বজনের পরামর্শে ২২নং ওয়ার্ডস্থ যুবক হাউজিং সংলগ্ন ট্যালেন্ট স্কুল এন্ড কোচিং সেন্টারে ভর্তি করেন। এ কারণে জিয়া সড়কের জয়নাল চাপরাশির বাড়ির বাসিন্দা মামুন খানের মালিকানাধীন এক রুমের একটি বাসা ভাড়া নিয়ে সেখানে ৩জন বসবাস করতেন ডালিয়া।
ডালিয়া বেগম আরো জানান, “সম্প্রতি আমি মেয়ের স্কুলের শিক্ষক শহিদ খানকে রাসেলের সাথে বিয়ের কথা জানিয়ে বলি তাকে (রাসেলকে) হিন্দু থেকে মুসলিম করব। তার পরিচিত কোন আইনজীবী আছে কিনা। আমার অনুরোধে শহিদ আমার স্বামী রাসেলকে গত বৃহস্পতিবার হিন্দু থেকে নোটারী করে মুসলিম হবার জন্য বরিশাল জেলা আইনজীবী সমিতির যুগ্ম সম্পাদক আতিকুর রহমান জুয়েলের কাছে নিয়ে নোটারী করতে সহযোগীতা করেন”।
“কোর্টের কাজ সম্পন্ন করে আমার স্বামী, মেঘা ও শহিদ সবাই মিলে কাকলীর মোড়ে একটি খাবার হোটেলে নাস্তা করি। এসময় আমার কন্যা মেঘা মনি চটপটি খাওয়ার বায়না ধরলে কোচিং সেন্টারের শিক্ষক শহিদ খান(৫০) বলে সে জেলখানার সামনে থেকে মেঘাকে চটপটি খাইয়ে নিয়ে আসছে। সরল বিশ্বাসে কন্যাকে শিক্ষকের হাতে তুলে দিলে মেঘাকে আর নিয়ে আসেনি লম্পট শহিদ”।
ডালিয়া বলেন, “অনেকক্ষন কাকলীর মোড় অপেক্ষা করে শহিদের মোবাইলে কল দিলে তার নাম্বার বন্ধ পাওয়া যায়। টেনশনের মধ্যেই বাসায় চলে গেলে বিকালে শহিদ কল করে জানায় মেঘা তার কাছে সুস্থ আছে, তাদের যেন খোঁজাখুঁজি না করি। আমি তাকে কোন কিছু বলার আগেই ফোনের লাইন বিচ্ছিন্ন করে দেয় লম্পট শহিদ। তবুও কণ্যার ভবিষ্যত ও মানসম্মানের কথা ভেবে পুলিশকে জানাইনি”।
তিনি বলেন, পালিয়ে যাবার ৪র্থ দিন অতিবাহিত হলে গতকাল রবিবার শিশু কন্যার খোঁজ চেয়ে শহিদের স্বজনদের কাছে আমি জানতে চাইলে তারা উল্টো তাকে ভয়ভীতি দেখায়। এমনকি লম্পট কোচিং শিক্ষক শহিদের ছোট ভাই সুমন খান গতকাল ভূক্তভোগী ডালিয়া বেগমের ভাড়াটিয়া ঘরে তার স্বামীসহ তালাবদ্ধ করে রাখে। স্থানীয়দের মাধ্যমে খবর পেয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন বরিশাল কোতয়ালী মডেল থানার এসআই মোঃ মিজানসহ তার সঙ্গীয় ফোর্স।
তবে পুলিশ চলে যাওয়ার পর সুমন ডালিয়াকে সাফ জানিয়ে দিয়েছে তার ভাই শহিদের বিরুদ্ধে থানায় জিডি কিংবা মামলা করলে তার মেয়ের মুখ আর এ জীবনে দেখা হবে না। একই সাথে বরিশাল ছাড়া করা সহ বিভিন্ন মিথ্যা মামলা মোকদ্দমা করে হয়রানী করা হবে। এ ঘটনায় ভূক্তভোগী ডালিয়া বেগম পুলিশের আশু দৃস্টি কামনা করেছেন।
উল্লেখ্য, শহিদ খান এ ঘটনার পূর্বেও ফরিদপুরের এক তরুনীনে ধর্ষণ করে বিদেশে পাচার করার অভিযোগে ৯ মাস হাজতবাস করেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয়রা জানায়, শহিদ খান তার বাসায় ট্যালেন্ট স্কুল এন্ড কোচিং সেন্টারে খুলে সেখানে প্রায় ৩০জন মেয়েকে প্রাইভেট পড়িয়ে আসছে। তার শিক্ষাগত যোগ্যতা এসএসসি পাশ। সে এলাকার গরীব ও অসহায় পরিবারের মেয়ে শিশুদের খুঁজে খুঁজে তার অবৈধ কোচিং সেন্টারে ভর্তি করতে উৎসাহ করে। পরে সেখানে ভর্তি হওয়া শিশুদের সাথে ও তার মায়েদের সাথে অবৈধ সম্পর্ক স্থাপন করে তাদের সর্বনাশ করে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ২ বছর পূর্বে স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগের প্রেক্ষিতে মহানগর ডিবি পুলিশের একটি টিম সেখানে অভিযান চালিয়ে অবৈধ কোচিং সেন্টারটি বন্ধ করে দিয়েছিল। কয়েকমাস বন্ধ থাকার পর ফের চালু করে কোচিং সেন্টার।