প্রকাশ: ২০ মে ২০২১, ২২:৫৮
নওগাঁর মান্দায় যৌতুকের দাবিতে স্ত্রী জহুরা বেগমকে (২০) পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে স্বামী মাসুদ রানার বিরুদ্ধে। বৃহস্পতিবার বিকেলের দিকে উপজেলার মান্দা সদর ইউনিয়নের কালিকাপুর জংলীপাড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। ঘটনায় চারজনকে আটক করেছে থানা পুলিশ।
স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার নাচোল এলাকার আবু বকর সিদ্দিকের মেয়ে জহুরা বেগমের সাথে দুই মাস আগে মান্দা উপজেলার কালিকাপুর জংলীপাড়া গ্রামের আক্কাস আলীর ছেলে মাসুদ রানার বিয়ে হয়। মাসুদ রানার এটি ছিল চতুর্থ বিয়ে।
আগের স্ত্রীদের ওপর যৌতুকসহ বিভিন্ন দাবিতে নির্যাতন করায় স্বামী মাসুদ রানাকে ছেড়ে তারা পিতার বাড়ি চলে গেছে। পরে নাচোল এলাকায় আবারো বিয়ে করেন অভিযুক্ত মাসুদ রানা। বিয়ের পর থেকেই যৌতুকের দাবিতে জহুরা বেগমের ওপর শারিরীক ও মানুষিক নির্যাতন শুরু হয়। শাশুড়ি শাহিদা বেগম ও স্বামী পরিত্যক্তা ননদ রিনা খাতুনের প্ররোচনায় এসব নির্যাতন করে আসছিল স্বামী মাসুদ রানা।
স্থানীয় প্রতিবেশি সিরাজুল ইসলাম ও আবুল কাসেম জানান, বুধবার রাতে জহুরা বেগমকে একদফা মারপিট করা হয়। বৃহস্পতিবার সকালে আবারো মারপিট করলে গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন জহুরা বেগম। এর পর দুপুরে হাসপাতালে নেয়ার পথেই মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন তিনি। এর পর মরদেহটি বাড়িতে নিয়ে এসে গলায় ফাঁস দিয়ে আতœহত্যা করেছে বলে গ্রামে প্রচারনা চালায়। এর স্থানীয়দের সন্দেহ হলে থানায় খবর দিলে পুলিশ সন্ধ্যার দিকে মরদেহ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে।
নিহতের পিতা বকর সিদ্দিক জানান, যৌতুকের দাবি বিভিন্ন সময় আমার মেয়েকে শারীরিক নির্যাতন করা হতো। আমার মেয়েটাকে গতকাল ( বুধবার ) রাতে আমার মেয়েকে নির্যাতন করা হয়েছে। আবার আজ সকালে নির্য়াতন করা হয়। যার কারনেই আমার মেয়েটা মারা যায়। এটি একটি পরিকল্পিত হত্যা। আমার মেয়ের স্বামী, শ্বাশুড়ি, ননদ ও শ্বশুর জড়িত। আমি থানায় মামলা করার প্রস্ততি নিচ্ছি।
মান্দা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. শাহিনুর রহমান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, গৃহবধূ জহুরা বেগমের মৃত্যুর ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নিহতের স্বামী মাসুদ রানা, শ্বশুর আক্কাস আলী, শ্বশুড়ি শাহিদা বেগম এবং ননদ রিনা বেগমকে আটক করে থানায় নেয়া হয়েছে। নিহতের পিতা মামলার প্রস্ততি নিচ্ছেন। মরদেহ ময়নাতদন্তের সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে নওগাঁ হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে।