প্রকাশ: ৮ এপ্রিল ২০২১, ২১:২৯
কোনো ট্যাগ পাওয়া যায়নি
সুফিয়া বেগম। বয়স ৬৫ বছর। বাড়ি টাঙ্গাইলের গোপালপুর উপজেলার ঝাওয়াইল ইউনিয়নের হরিষা গ্রামে। চোঁখের সমস্যা দেখা দেয়ায় চিকিৎসার জন্য যান ভূঞাপুর চক্ষু হাসপাতালে। সেখানে পরীক্ষায় ডান চোঁখের ব্লক ধরা পড়ে।
ব্যবস্থাপত্র হিসেবে নেয়া হয় অপারেশনের সিদ্ধান্ত। ৬ মার্চ তাঁর অপারেশন হয়। তবে ওইদিন ডান চোঁখের পরিবর্তে হয় তাঁর বাম চোঁখের অপারেশন। ভুক্তভোগী রোগী আপত্তি জানালেও ডান চোঁখের পরিবর্তে বাম চোঁখের অপারেশন করেন হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. মো. ফারুক হাসান।
রোগীসহ স্বজনরা ওই ভুল চিকিৎসার প্রতিবাদ করায় ওই চিকিৎসক অপারেশনটি ভুল নয়, হাসপাতালের ল্যাব টেস্টের রিপোর্টে ভুলবশত বাম চোঁখে ব্লক দেখানো হয়েছে বলে জানান। এ কারণেই বাম চোঁখের অপারেশন করা হয়েছে। এতে রোগীর স্বজনরা উত্তেজিত হয়। ভুল চিকিৎসার বিষয়টি ধামাচাপা দিতে পরবর্তিতে ১৬ মার্চ বিনা পয়সায় ডানের চোঁখের অপারেশনটি করে দেন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।
ভুক্তভোগী রোগী সুফিয়া বেগম বলেন, অনেকদিন ধরে আমার ডান চোঁখে সমস্যা ছিল। পরীক্ষাতেও তাই ধরা পড়ে। কিন্তু ডাক্তার আমার বাম চোঁখের অপারেশন করেছেন। পরে আবার ডান চোঁখের অপারেশন করে দিয়েছেন।
সুফিয়া বেগমের ছেলে জজ মিয়া বলেন, আমি আমার আম্মাকে নিয়ে ৬ মার্চ ভূঞাপুর চক্ষু হাসপাতালে যাই। ডাক্তার পরীক্ষা করে ডান চোঁখে ব্লক আছে ও অপারেশন করতে হবে বলে জানান। আম্মার অপারেশন করার অনুমতি দেই আমি। অপারেশন শেষে দেখি আমার আম্মার বাম চোঁখ অপারেশন করা হয়েছে। বিষয়টি ডাক্তারকে জানালে তিনি বলেন, পরীক্ষায় আপনার আম্মার বাম চোঁখে ব্লক দেখানো হয়েছে। এটি কেন হলো এমন প্রশ্নের কোন উত্তর দেননি তিনি।
পরে ১০দিন পর ১৬ মার্চ আবার হাসপাতালে আম্মার চোঁখের সেলাই কাটতে যাই। ওইদিন ডাক্তার আবার আমার আম্মার ডান চোঁখের অপারেশন করতে হবে বলে জানান। এ সময় আমি আপনারা ভুল অপারেশন করেন বলে আপত্তি জানাই। এরপরও ডাক্তার বিনা পয়সায় আমার আম্মার ডান চোঁখের অপারেশনটি করে দেন।
এ বিষয়ে হাসপাতালের ল্যাব টেকনিশিয়ান সাদিয়া বলেন, টেস্ট রিপোর্টে ডান চোঁখেই ব্লক দেখানো হয়েছে। এরপরও ডাক্তার বাম চোঁখ অপারেশন করেছেন। এখন তাঁর ভুল ধামাচাপা দিতে আমার ও রিপোর্টের উপর দোষ চাপাচ্ছেন।
ভূঞাপুর চক্ষু হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. মো. ফারুক হাসান বলেন, আমি রোগী ডান চোঁখে ব্লক নির্ণয় করি এবং অপারেশনের জন্য বলি। তবে ল্যাব টেকনিশিয়ান ভুলবশত ডান চোঁখের পরিবর্তে বাম চোঁখে ব্লক দেখিয়ে রিপোর্ট করেন। এ কারণে আমি ডান চোঁখের পরিবর্তে আমি বাম চোঁখের অপারেশনটি করে ফেলি। এরপরও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ রোগীর স্বজনদের সাথে আলোচনা করে বিষয়টি মিমাংসা করেছেন।
হাসপাতাল পরিচালনা কমিটির সাধারণ সম্পাদক মতিউর রহমান বলেন, ভুলবশত ডান চোঁখের পরিবর্তে বাম চোঁখ অপারেশন করা হয়েছিল। পরে পরিবারের সাথে কথা বলে রোগীর ডান চোঁখটির অপারেশন করে বিষয়টির মিমাংসা করা হয়েছে।
এ নিয়ে টাঙ্গাইলের সিভিল সার্জন ডা. আবুল ফজল মো. শাহবুদ্দিন খান বলেন, অতিদ্রুতই জেলা স্বাস্থ্য বিভাগের তত্ত্বাবধানে ঘটনাটির রহস্য উদঘাটনে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হবে। ওই তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনের পরই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলেও জানান তিনি।