কোনো ট্যাগ পাওয়া যায়নি
সরাইল উপজেলার শাহবাজপুর এলাকার রিকশাচালক আলী জানান, গত বছর লকডাউনের সময় কত মানুষের কাছে ধার চাইলাম দিল না। কষ্টের কথা সবাই বলে কিন্তু কষ্ট দূর করার জন্য কেউকে আসে না।
আমরা কষ্ট আমি বুঝি ! করোনা রোগ দিয়া কি করুম কিস্তির টাকার কেউ ধার দেনা।আজ বুধবার দুপুরে সরাইল সদরের ভ্যানচালক রতন মিয়া এমন করে বলেন,সরকার তো লকডাউন ঘোষনা দিয়েই শেষ।ঘরে ঘরে চাল,মাছ প্রয়োজনীয় সামগ্রী পৌছে দেক,আর ঘর থেকে বাহির আইতাম না।
কাজ করলে ঘরে ছেলে-মেয়ের পেটে ভাত যাবে। এক দিন কাজ না করলে ঘরে থাকলে না খেয়ে মরমু,বাহিরে গেলে করোণার মরমু।এখন আমরা কি করমু।কাম কাজ না করলে বউ পোলাপান লইয়্যা খামু কি!বিশ্বরোড় মোড়ে লকডাউন কারণে রাস্তায়ও লোকজন নাই আয় রোজগার তেমন নাই।কোনো বড় লোকেরা, নেতারা তো এ বিপদে আগাইয়্যা আইলো না।
একমাত্র আল্লাহ ই আমাদের ভরসা এমনি করে আক্ষেপ করে কথাগুলো বলছিলেন অটোরিক্সা চালক সজীব। এদিকে লকডাউন ঘোষণায় কয়েক দিন ধরে মানুষের চলাচল কমে যাওয়ায় তাদের আয়-রোজগার কম হচ্ছে।খেটে খাওয়া মানুষরা সারাদিন রিকশা,ভ্যান ও অটোরিকশা চালিয়ে যা রোজগার করেন তা দিয়ে তাদের সংসার চালানোও কষ্টকর হয়ে পড়েছে।
এর মধ্যে বেশিরভাগ নিম্ন আয়ের মানুষ বিভিন্ন এনজিও থেকে ঋণ নিয়ে অটোরিকশা,ভ্যান ও রিকশা ক্রয় করেছেন।তারা প্রতিদিন রিকশা-ভ্যান চালিয়ে সংসার চালান ও সাপ্তাহিক ঋণের কিস্তির টাকা পরিশোধ করেন।
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল উপজেলা জেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায়, কাজ নেই,আয়-রোজগার নেই।খরচ আছে। যারা দিন আনে,দিন খায়,কাজ না করলে একদিনও চলে না,তারা এখন দিশেহারা। দেশে করোনা ভাইরাসের উর্ধ্বগতি নিয়ন্ত্রণের জন্য ৫ এপ্রিল লকডাউন ঘোষণা করেছে সরকার।
করোনাভাইরাস মোকাবিলায় জনসমাগম বন্ধে প্রশাসনের পাশাপাশি পুলিশের পাহারা চলছে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার সরাইলের সর্বত্র।ফলে বেকার হয়ে পড়েছে স্বল্প আয়ের অসংখ্য শ্রমজীবী মানুষ।হাত গুটিয়ে বসে আছে তারা।এ পরিস্থিতিতে পেটে ভাত জোগাতে হিমশিম খাচ্ছে প্রতিনিয়ত।
সরাইল করোনা ভাইরাস আতঙ্কের কারণে নিম্ন আয়ের মানুষ বিপাকে পড়েছেন।রিকশা,ভ্যান,অটোরিকশা চালানো ও দিনমজুরিসহ বিভিন্ন কাজকর্ম করে নিম্ন আয়ের মানুষকে সংসার চালাতে হয়।