প্রকাশ: ১০ মার্চ ২০২১, ২১:৩০
কন্যাসন্তানের আশায় দিন পার করছিলেন হামিদুর-ফরিদা দম্পতি। সংসারে তাদের পরপর তিন ছেলের জন্ম হয়েছে। এবার অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রীর প্রসবের সময় কন্যাসন্তানের আশায় ব্যাকুল হয়ে উঠেন হামিদুর রহমান। মেয়ের মুখ থেকে বাবা ডাক শোনার খুব ইচ্ছা জাগে তার।
কিন্তু বিধাতা ফরিদার কোলজুড়ে আবারও দেন পুত্রসন্তান। পরপর চার সন্তান ছেলে হওয়ায় ক্ষেপে যান হামিদুর। ক্ষুব্ধ হয়ে স্ত্রীর অগোচরে চতুর্থ ছেলে সোয়াইনের প্রাণ কেড়ে নেন। বাবার হাতে সন্তান হত্যার মর্মান্তিক ঘটনাটি ঘটেছে রংপুরের বদরগঞ্জ উপজেলা গোপীনাথপুর ইউনিয়নের আরাজী দিলালপুর বানিয়াপাড়ায়।
জন্মের ৪৮ দিনের মাথায় ঘুমন্ত সোয়াইনকে ঘর থেকে তুলে নিয়ে বাবা হামিদুর হত্যা করেন। বাড়ি থেকে কিছুটা দূরের এক পুকুরে মরদেহ ফেলে দেন। সেদিন সন্ধ্যা থেকে শিশু সোয়াইন নিখোঁজ দাবি করে বদরগঞ্জ থানায় অভিযোগ দেন হামিদুর-ফরিদা দম্পতি।নিজের অপরাধ ঢাকতে এলাকায় প্রচার চালান ঘর থেকে শিশু সোয়াইেকে জিন কিংবা ভূতে নিয়ে গেছে। ঘটনার পরদিন সোমবার (০৮ মার্চ) সকালে সোয়াইনের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
শিশু সোয়াইন হত্যায় বাবা হামিদুর রহমানের জড়িত থাকার স্বীকারোক্তির বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বদরগঞ্জ থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাবিবুর রহমান হাবিব। হত্যার দায় স্বীকারের পর হামিদুর রহমানকে কারাগারে পাঠানো হয়।
ওসি হাবিবুর রহমান বলেন, ওই শিশুর মরদেহ উদ্ধারের সময় সন্দেহভাজন হিসেবে বাবা হামিদুর রহমান ও মা ফরিদা বেগমকে আটক করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে শিশুটিকে হত্যার কারণ জানান বাবা। মঙ্গলবার (০৯ মার্চ) বদরগঞ্জ আমলী আদালতে সন্তান হত্যার কথা স্বীকার করে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেন হামিদুর রহমান। পরে তাকে জেলহাজতে পাঠানো হয়।
এ ঘটনায় বদরগঞ্জ থানায় হামিদুর রহমানের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন শিশুটির দাদা নুরুল ইসলাম। তিনি অভিযোগ করেন, পার্বতীপুর উপজেলায় একটি স্বর্ণের দোকানে কাজ করে হামিদুর। ঘটনার দিন কর্মস্থল থেকে ছুটি নিয়ে সন্ধ্যায় বাড়ি আসে হামিদুর। স্থানীয় লালদীঘি হাটে যাওয়ার কথা বলে বাড়ি থেকে বেরিয়ে যায়। কিন্তু হাটে না গিয়ে গোপনে বাড়িতে লুকিয়ে ছিল।
যখন ফরিদা শিশুসন্তান সোয়াইনকে ঘরে ঘুমিয়ে রেখে বাইরে যায়, তখন হত্যার পর পুকুরে ফেলে দেয় হামিদুর। পরে ফরিদা ঘরে ফিরে সন্তানকে না পেয়ে হামিদুরকে খবর দেয়। হামিদুর বাড়িতে ফিরে ঘটনাটিকে গুরুত্ব না দিয়ে জিন কিংবা ভূতে নিয়ে গেছে বলে পরিবারের সদস্যদের সান্ত্বনা দেয়।
বাবার হাতে সন্তান হত্যার কথা শুনে বিস্মিত হন ফরিদা বেগম। তিনি বলেন, আমার স্বামী কন্যাসন্তানের জন্য ব্যাকুল ছিলেন। পরপর তিন ছেলের পর কন্যাসন্তানের আশায় ছিলেন। তার আশা ছিল, এবারের সন্তানটি মেয়ে হবে। কিন্তু চতুর্থ সন্তানও ছেলে হওয়ায় ক্ষুব্ধ হন। শিশুটি বদল করতে চেয়েছিলেন। কিন্তু আমি রাজি হইনি। এভাবে ছেলেকে হত্যা করবে জানলে বদল করতাম।
ওসি হাবিবুর রহমান বলেন, কন্যাসন্তানের আশায় পর পর চার ছেলে ওই প্রসূতির আগে তিন যমজ কন্যার পর চতুর্থ সন্তানও মেয়ে হয়। পরে তিনি কন্যাসন্তান বদল করতে চাননি। এতে মনে মনে ক্ষুব্ধ ছিলেন হামিদুর। আদালতে সন্তান হত্যার কথা স্বীকার করে জবানবন্দিও দিয়েছেন তিনি।