
প্রকাশ: ১২ জানুয়ারি ২০২০, ১৬:৪৩

দ্বীনের পথে অটল ও অবিচল থাকার অন্যতম উপায় হচ্ছে বিশ্বনবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের আনুগত্য ও অনুসরণ করা। কুরআনুল কারিমে আল্লাহ তাআলা এটিকে মুমিন মুসলমানের জন্য মানদণ্ড হিসেবে ঘোষণা করেছেন। কারণ আল্লাহর ভালোবাসা পেলেই মানুষের দুনিয়া ও পরকালের সব কল্যাণ সুনিশ্চিত।
দুনিয়ার শান্তি ও শাস্তি দুটোই ক্ষণিকের। কিন্তু পরকালের সময়কাল শেষ হবে না। পরকালে বিচার দিবসের চিত্রেই আগের আয়াতে তুলে ধরা হয়েছে। মানুষ তার সব আমলনামা দেখতে পাবে, যা থেকে পলায়ন করতে চাইবে। সে কথাও আল্লাহ তাআলা মানুষকে সতর্ক করতে কুরআনে তুলে ধরেছেন।
মানুষ সাধারণত মুখে মুখে নিজেকে আল্লাহওয়ালা তথা আল্লাহর প্রিয় বান্দা হিসেবে জাহির করতে চায়। পরিচয় দিতে চায়। এ কথা বুঝাতে চায়, যে দ্বীন ও ঈমানের উপর তিনি অটল ও অবিচল। তাদের উদ্দেশ্যে এ আয়াতে আল্লাহ তাআলা ছোট্ট একটি মানদণ্ড তুলে ধরেছেন। যে মানদণ্ডে প্রকাশ পাবে- সত্যিকারার্থে কে আল্লাহওয়ালা হওয়ার যোগ্য। আল্লাহ তাআলা বলেন-
আয়াত নাজিলের কারণ

আয়াতটি নাজিল প্রসঙ্গে জানা যায়-
এ মর্মে আয়াতের ব্যাখ্যা এসেছে যে, ‘যদি তোমরা আল্লাহর প্রতি ভালোবাসার দাবি কর, তবে আল্লাহর প্রিয় রাসুল মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে পরিপূর্ণ রূপে আনুগত্য করার কষ্টি পাথর দিয়ে তোমাদের দাবি ও প্রমাণ উপস্থাপন কর। কেননা যে যত বেশি তাঁর অনুসরণ করবে সে তত বেশি আল্লাহ পাকের প্রতি তার প্রেম ভালোবাসার প্রমাণ দেবে। আয়াতের আলোকে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের আনুগত্যের মধ্যেই রয়েছে আল্লাহর ভালোবাসা ও ইসলামের পরিপূর্ণতার জলন্ত প্রমাণ।
এ আয়াতের ব্যাখ্যা হজরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাসের একটি তাফসির এসেছে-

এ আয়াতের শানে নুজুলে তাফসিরে আরও এসেছে-
মূলত যারা ইসলাম নিয়ে তালবাহানা করতো, সেসব ইয়াহুদি ও নাসাদের উদ্দেশ্যেই আয়াতটি নাজিল হয়। যারা মুখে মুখে নিজেদের ব্যাপারে আল্লাহকে ভালোবাসার কথা বলতেন। তাইতো আল্লাহ তাআলা আয়াতটি সেসব লোকদের জন্য নাজিল করেছেন।
সুতরাং মুমিন মুসলমানের উচিত, ‘আল্লাহর ভালোবাসা ও দুনিয়া এবং পরকালের সাফল্য লাভে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে জীবনের সবক্ষেত্রে আনুগত্য করা। এ আয়াতে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে আনুগত্য করলে মুমিন মুসলমান বিশেষ দুটি নেয়ামত লাভ করবে। সেটিও ঘোষণা করেছেন স্বয়ং আল্লাহ তাআলা। আর তাহলো-
তাই যদি কোনো মানুষ আল্লাহর ভালোবাসা পায় আর তার জীবনের গোনাহগুলো ক্ষমা পায় তবে এর চেয়ে বড় সাফল্য আর কি হতে পারে? আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে জীবনের সর্বাবস্থায় রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের আনুগত্য করার তাওফিক দান করুন। কুরআনের ঘোষিত নেয়ামত লাভ করার তাওফিক দান করুন। আমিন।
ইনিউজ ৭১/এম.আর