প্রকাশ: ৩১ আগস্ট ২০২৫, ১২:১৯
তফসিলের ঘোষণার পর দেশের রাজনীতিতে নতুন মোড় এসেছে। ইসলামী দলগুলো একত্রিত হয়ে একটি নির্বাচনী জোট গঠনের প্রস্তুতি নিচ্ছে, যাতে ভোটের মাঠে শক্ত প্রতিপক্ষ হিসেবে উপস্থিত থাকা যায়। জামায়াতসহ আটটি ইসলামী দল এই জোটের মূল অংশ হবে, পাশাপাশি এনসিপি, গণঅধিকার পরিষদ ও এবি পার্টির সঙ্গে আলোচনার কথাও রয়েছে।
নব্বইয়ের পর প্রথমবারের মতো জাতীয় নির্বাচন দ্বিদলীয় রাজনীতি থেকে বেরিয়ে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। আওয়ামী লীগবিহীন পরিস্থিতিতে বিএনপি, জামায়াত, এনসিপি ও ইসলামী আন্দোলনসহ কয়েকটি দল ভোটের প্রস্তুতি নিচ্ছে। এতে রাজনৈতিক মহলের মধ্যে উত্তেজনা বৃদ্ধি পেয়েছে।
ইসলামী দলগুলো ইতোমধ্যেই সভা-সমাবেশে তাদের জোটের রূপরেখা প্রকাশ করেছে। জামায়াত, ইসলামী আন্দোলন, খেলাফত মজলিসসহ মোট আটটি দল এই সমঝোতায় অংশ নিচ্ছে। নির্বাচনী জোটের কার্যক্রম তফসিল ঘোষণার পর আরও দৃশ্যমান হয়ে উঠবে।
আটটি ইসলামী দল হলো—বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস, জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশ, খেলাফত মজলিস, নেজামে ইসলাম পার্টি, ইসলামী ঐক্যজোট এবং খেলাফত আন্দোলন। আদর্শগত বা আকিদাগত ভিন্নতা থাকা সত্ত্বেও ফ্যাসিবাদবিরোধী লড়াই তাদের ঐক্যে আবদ্ধ করেছে।
জোটের আলোচনায় এনসিপি, এবি পার্টি ও গণঅধিকার পরিষদকেও অন্তর্ভুক্ত করার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে তারা বিদ্যমান ব্যবস্থায় নির্বাচন না করার পক্ষে একমত। মূল দাবি হলো জুলাই সনদের আইনি ভিত্তিতে সংখ্যানুপাতিক পদ্ধতিতে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়া।
জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেছেন, ফ্যাসিবাদ আমলের প্রক্রিয়ায় নির্বাচন হলে নতুন ফ্যাসিবাদ জন্ম নেবে। তাই জুলাই সনদের ভিত্তিতে এই সরকারের অধীনে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়া জরুরি। অন্যথায় নির্বাচনে অংশগ্রহণের কোনো অর্থ থাকবে না।
লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিয়ে ইসলামী দলগুলোর অসন্তোষও প্রকাশ পাচ্ছে। তারা স্পষ্ট করে বলেছেন, আগের মতো একতরফা বা প্রহসনমূলক নির্বাচন তারা মেনে নেবেন না। যদি পরিস্থিতি পরিবর্তন না হয়, তবে কঠোর হুঁশিয়ারি জারি করা হবে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, ইসলামী দলগুলোর এই জোট গঠন দেশের নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় নতুন গতিশীলতা যোগ করবে। সংখ্যানুপাতিক নির্বাচনের দাবিকে কেন্দ্র করে দলেরা ভোটের মাঠে শক্ত প্রতিপক্ষ হিসেবে আবির্ভূত হতে চাইছে, যা আগামী নির্বাচনের ফলাফলে সরাসরি প্রভাব ফেলবে।