বাংলাদেশের তরুণ সমাজ আজ বিশ্বজুড়ে বিভিন্ন ক্ষেত্রে অসাধারণ সাফল্য অর্জন করে দেশের মুখ উজ্জ্বল করছে। প্রযুক্তি, উদ্ভাবন, ক্রীড়া, সংস্কৃতি, শিক্ষা ও সামাজিক উদ্যোগে তাদের সৃজনশীলতা ও মেধার স্বাক্ষর রেখে চলেছে। সম্প্রতি প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস বিমসটেক মহাসচিবের সঙ্গে আলোচনায় তরুণদের জন্য আলাদা সম্মেলনের প্রস্তাব দিয়ে তাদের সম্ভাবনার প্রতি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন। এটি একটি সময়োপযোগী উদ্যোগ, কারণ বাংলাদেশের তরুণরা ইতোমধ্যে প্রমাণ করেছে যে তারা বিশ্বের সঙ্গে প্রতিযোগিতা করতে সক্ষম।
বাংলাদেশের তরুণ প্রজন্ম ডিজিটাল বিপ্লবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। দেশের সফটওয়্যার শিল্প, ফ্রিল্যান্সিং এবং স্টার্টআপ ইকোসিস্টেমে তরুণদের অবদান উল্লেখযোগ্য। বিশ্বের সবচেয়ে বড় ফ্রিল্যান্সিং প্ল্যাটফর্মগুলোর মধ্যে বাংলাদেশ শীর্ষস্থানীয়, যেখানে লক্ষাধিক তরুণ আইটি, গ্রাফিক্স ডিজাইন এবং ডিজিটাল মার্কেটিংয়ে দক্ষতার পরিচয় দিচ্ছে। এছাড়াও, স্টার্টআপগুলো যেমন "পাঠাও", "নাগাদ" এবং "বাংলাদেশ ইনোভেশন ফোরাম" বিশ্বব্যাপী সাড়া ফেলেছে।
আন্তর্জাতিক অলিম্পিয়াড, গবেষণা এবং বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ের প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশের তরুণরা নিয়মিত সেরাদের কাতারে নিজেদের স্থান করে নিচ্ছে। গণিত, পদার্থবিজ্ঞান, রোবোটিক্স এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) ক্ষেত্রে তাদের সাফল্য প্রশংসিত হচ্ছে। এছাড়া, বিশ্বের নামীদামী বিশ্ববিদ্যালয়ে বাংলাদেশি শিক্ষার্থীরা বৃত্তি পেয়ে উচ্চশিক্ষা অর্জন করছে এবং বৈশ্বিক গবেষণায় অবদান রাখছে।
ক্রিকেটে বাংলাদেশের সাফল্য এখন বিশ্বস্বীকৃত, কিন্তু ফুটবল, অ্যাথলেটিক্স এবং ইস্পোর্টসেও তরুণরা নতুন ইতিহাস লিখছে। অন্যদিকে, সংস্কৃতির ক্ষেত্রে বাংলাদেশের তরুণ শিল্পীরা সঙ্গীত, চলচ্চিত্র এবং শিল্পকলায় আন্তর্জাতিক পুরস্কার ও স্বীকৃতি পাচ্ছে।
ড. ইউনূসের সামাজিক ব্যবসার ধারণা অনুসরণ করে অনেক তরুণ সমাজের সমস্যা সমাধানে নেতৃত্ব দিচ্ছে। পরিবেশ সংরক্ষণ, নারীর ক্ষমতায়ন এবং গ্রামীণ উন্নয়নে তাদের উদ্ভাবনী প্রকল্পগুলো আন্তর্জাতিক সংস্থার দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে।
ড. ইউনূসের প্রস্তাবিত "যৌথ যুব উৎসব" বা তরুণ সম্মেলন বিমসটেক অঞ্চলের তরুণদের মধ্যে সহযোগিতা বাড়াবে। এটি শুধু সাংস্কৃতিক বিনিময়ই নয়, বরং বাণিজ্য, প্রযুক্তি এবং শিক্ষার ক্ষেত্রেও নতুন দিগন্ত খুলে দেবে। বাংলাদেশের তরুণরা ইতিমধ্যে তাদের দক্ষতা প্রমাণ করেছে, এখন আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক সহযোগিতার মাধ্যমে তাদের সম্ভাবনা আরও বিকশিত হবে।
বাংলাদেশের তরুণরা দেশের গণ্ডি পেরিয়ে বিশ্বমঞ্চে নিজেদের যোগ্যতার প্রমাণ দিচ্ছে। তাদের এই সাফল্য দেশের ভবিষ্যতকে আরও উজ্জ্বল করছে। বিমসটেকের মতো ফোরামে তরুণদের জন্য আলাদা প্ল্যাটফর্ম তৈরি হলে তা কেবল বাংলাদেশের জন্যই নয়, গোটা দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। সরকার, বেসরকারি সংস্থা এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সমর্থন পেলে এই তরুণ প্রজন্ম বিশ্বকে বদলে দিতে সক্ষম হবে।